অনেকের মিক্সড রিভিউ দেখার পর

M. Night Shyamalan পরিচালিত নতুন মিস্ট্রি হরর মুভি Old। মুভিটি নিয়ে অনেকের মিক্সড রিভিউ দেখার পর গতকাল সিদ্ধান্ত নিয়ে মুভিটি দেখে ফেললাম। মুভির কাহিনী অসাধারণ ও খুবই ইন্টারেস্টিং হলেও মুভির উপস্থাপনা এভারেজ লেগেছে আমার কাছে। তবে কাহিনীটি এতটা আশ্চর্যজনক যে একবারের জন্য মুভিটি দেখাই যায়। মুভির কাহিনী তিনটি পরিবারকে নিয়ে যারা ছুটি কাটাতে এসেছেন একটি রিসোর্টে। সেখান থেকেই তাদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি প্রাইভেট সমুদ্র সৈকতে এবং সেখানে তাদের সাথে ঘটতে থাকে ভয়ংকর কিছু ঘটনা যার কোনো ভিত্তি বা কারন তারা কেউই খুঁজে পান না।

তাহলে কি ভাবে তারা এখান থেকে বের

আরো ভয়ের বিষয় হলো তারা এই সৈকত ছেড়ে বের হতেও ব্যর্থ হচ্ছেন বারবার। তাহলে কি ভাবে তারা এখান থেকে বের হবেন? আদৌ কি তারা সকলে সারভাইভ করতে পারবেন? তা নিয়েই সাজানো হয়েছে এই প্রমিসিং প্রেমিসটি। মুভির প্রেমিসটি খুবই এনগেজিং এতে কোন সন্দেহ নেই তবে কিছু কনসেপ্ট আছে যেগুলো কাগজে কলমে চমৎকার মনে হলেও মুভিতে সঠিক ভাবে ট্রান্সলেট হয় না। ঠিক এই বিষয়টি এই মুভিতে মুহূর্তে মুহূর্তে টের পাবেন। প্রথম দিকে মুভিতে টান টান উত্তেজনা অনুভব করা যায় তবে সময় যত এগিয়ে যায় মুভিটি ততো বেশি দুর্বল হয়ে উঠে। মুভির যেই বিষয়টি সবচেয়ে বড় ড্রব্যাক তা হলো উপস্থাপনা।

rivew

আপনি মনে করেন আপনি একজনকে মেরে ফেলেছেন

একটা পর্যায়ে এসে কাহিনীটির সম্পূর্ণ সেন্স হারিয়ে ফেলে। কিছু দৃশ্য অত্যন্ত রিপিটেটিভ। কাহিনীর কনক্লুশানে টুইস্ট হলেও সব অর্থ হারিয়ে ফেলে এবং মনে হয় হেলা ফেলা করে এন্ডিংটা লেখা হয়েছে। মুভিটা আসলে যতটা স্মার্টলি শুরু করা হয়েছে তা সেটা ধরে রাখতে পারেনি। যে কারণে শেষের দিকে অনেকটা বোরিং লাগে। এমন একটা কাহিনী শেষ হবার পর যেই থ্রিল অনুভব করার কথা বা বিগ রিভিল দেখে যতটা মাথা নষ্ট ভাব আসার কথা তেমন কিছুই মনে হয়নি। আরো একটি জরুরি বিষয় হলো মুভির চরিত্র গুলো খুবই ওয়ান ডিমেনশনাল।

তারা অনেকেই ট্রমাটাইজিং অভিজ্ঞতার কথা বলেন এবং তাদের বেশ কিছু মেন্টাল ডিসটার্বেন্স ও পারিবারিক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে তবে এগুলো কখনোই মনের ভেতর গেঁথে যায় না। তবে তাই বলে মুভিটি একদমই বাজে ভাববেন না। মুভিটা আপনি টাইম পাস করার জন্য দেখতে পারেন। যেহেতু শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত কাহিনী এবং উপস্থাপনা দুটোই চমৎকার তাই শেষ না করে উঠতে ইচ্ছে হবে না যদিও এন্ডিংটা ঠিক ভাবে ল্যান্ড করে না। মুভিতে বয়সে ছোট চরিত্র গুলোকে আমার বেশি ভাল লেগেছে।

মা বাবা চরিত্র গুলোকে তেমন ভালো

মা বাবা চরিত্র গুলোকে তেমন ভালো লাগেনি এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অভিনয়ে সেই আর্জেন্সি ভাবটা মিসিং লাগছিলো। তবে একজন ডাক্তার চরিত্রে Rufus Sewell-এর অভিনয় ভালো লেগেছে। তার অভিনয়ই উল্লেখযোগ্য মনে হয়েছে। তাছাড়া মুভির সিনেমাটোগ্রাফি, প্রডাকশান ডিজাইন ও কালার গ্রেডিংটা নজরকাড়া। আমার মনে হয়েছে মুভিটি কাউকে রিকমেন্ড করার মতো না হলেও কেউ চাইলে একবার এই মুভিটি দেখতে পারেন। আমার কাছে এভারেজ লেগেছে তবে অনেকের কাছেই ভালো লাগতে পারে। মুভির রানটাইম ১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট এবং মুভিতে তেমন কোনো অ্যাডাল্ট দৃশ্য নেই কিন্তু বেশ কিছু হরর ও গ্রাফিক ভায়োলেন্সের দৃশ্য আছে।

মুভিটি যে কোন টরেন্ট সাইটে পেয়ে যাবেন সহজেই। যাদের সিনেমা নিয়ে কমবেশি ধারনা আছে। তারা হয়তো এই কথাটির সাথে খুবই পরিচিত “যে সিনেমা হলো সমাজের আয়না। এবং এই আয়নার মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজ বা পরিবারের এমন কিছু সূক্ষ্ম দিক গুলি এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। যেগুলো আমরা আমাদের পরিবার বা সমাজে প্রতিনিয়ত দেখলেও চোখ এড়িয়ে যায়। আর এই ছোট্ট সূক্ষ্ম বিষয় গুলো কে আমরা কখনোই ঠিক ঔ ভাবে গুরুত্ব বা মর্যাদা দেই নাহ!” তো আজ কথা বলছি আমার প্রিয় সেই মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির ঠিক এরকমই পরিবারের প্রতি গুরুত্ব ও মূল্যবোধ নিয়ে নির্মিত ‘রোজিন টমাস’ এর রিসেন্টলি অ্যামাজন প্রাইমে রিলিজ হওয়া ফিল্ম Home  বেশ অনেকদিন পর আবার মনের মন মতো একটা সিনেমা উপভোগ করার সৌভাগ্য হলো।

এবং মুভিটা আবারও সেই প্রিয় মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিই। কাজেই এই মালয়ালম সিনেমা গুলো যে ধীরে ধীরে কোন লেভেলে চলে যাচ্ছে। সেটা যারা নিয়মিত এই ইন্ডাস্ট্রির নির্মিত সিনেমা গুলো ফলো করে শুধুমাত্র তারাই বুঝতে পারবে। তো আজকে দেখা Home সিনেমাটিও ঠিক ঐরকমই একটি অসাধারণ নির্মাণ। এই মুভিটির গল্প হচ্ছে কিছুটা এরকম, একজন পরিচালক বা এক স্ক্রিন রাইটার। তো এখানে তার পরিবারকে তিনি একদমই সময় দেন নাহ। এবার তার নির্মিত পরবর্তী মুভি কি তৈরি হবে? অন্যদিকে তার পরিবারে থাকা বাবা-মা, দাদা তারা খুবই সাধারণ সাদাসিধা।

সে যেহেতু নিজের কাছে খুবই অসাধারণ

এবং সে যেহেতু নিজের কাছে খুবই অসাধারণ। তো এর ফলে সবসময় পরিবারের সাথে তার ego clash হতে থাকে। তো সবশেষে এই গল্পটি শেষটা গিয়ে কোনদিকে মোড় নেয়। তা জানতে হলে এখুনি দেখে ফেলুন এই অনবদ্য সিনেমাটি! আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলছি এই সিনেমাটি তে সবাই তাদের নিজেদের পরিবারের কোননা কোন দিক গুলোর সাথে খুব সুন্দর ভাবে রিলেট করতে পারবেন। এবং আমার মতো আপনাদের প্রতিটা মানুষেই মনে হবে। আরে এটা তো আমার পরিবারে ঘটে যাওয়া দিকটা দেখলাম এই মুভিটিতে। আর মুভিটার রানটাইম প্রায় পনে তিন ঘন্টা কিন্তু টু বি অনেস্ট।

ghxdvgb

ফিল্মে আমার চোখে কিছু অসঙ্গিত ধরা পড়েছে

আমি মুভিটি দেখতে শুরু করার পরে এক বারের জন্য টেরই পাইনি। যে কখন? কোন দিক দিয়ে? এই পনে তিন ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে গেলো। তাহলে বুঝতেই পারছেন কতটা এনগেইজিং হয়ে গেছিলাম এই মুভিটার সাথে। আর এই মুভিতে অভিনয় করা প্রত্যেকটা অভিনয় শিল্পীর পারফরম্যান্স দেখে আমার একবারের জন্য মনেই হয়নি যে তারা অভিনয় করছে। মনে হচ্ছিলো যে আমার আত্মীয় বা পরিচিত মানুষদেরকেই দেখতে পাচ্ছিলাম এখানে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কাস্টিং সিলেকশন ও তাদের অভিনয় কতটা সাবলীল ছিলো।

এবং গোটা মুভি জুড়েই এই সিনেমার সিনেমাটিক ট্রিটমেন্টে একটা গ্রিনিস্ ফাইব ছিলো যারা গোটা সিনেমাটি তে কেমন যেন একটা সতেজতার অনুভব দিয়েছে।  ওভারঅল, নামের এই মালয়ালম সিনেমাটি নিসন্দেহে আমার কাছে একটা পিউর মাস্টারপিস। কারণটা আপনি ফিল্মটি দেখলেই বুঝতে পারবেন। আর মুভিটি দেখার শেষে মনে হলো যেন অনেক দিন পর এইরকম চোখ জুড়ানো একটা পারিবারিক ড্রামা ফিল্ম দেখলাম, যেটা হয়তো আমার মনে থাকবে বহুদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *