আনে ডিরেক্টর ফ্রান্সিস ফোর্ড কাপেলো

হলিউডের অন্যতম সমাদৃত ও বাণিজ্যিক সফলভাবে চলচ্চিত্রের পর্দায় তুলে আনে ডিরেক্টর ফ্রান্সিস ফোর্ড কাপেলো।এটি ছিল মারিও পুজোর বিখ্যাত উপন্যাসের এডাপশন।কাপেলোর নিপুণ দক্ষতার জন্য অস্কার সহ আরো বিভিন্ন পুরস্কার জিতে নেয় এই মুভি।১৯৭৩ সালের অস্কারে এই ছবি একাই দশটি বিভাগে নমিনেশন পায়।এক এক করে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র,শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য পুরষ্কার লাভ করে।৩০তম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার,১৫তম গ্র্যামি পুরস্কার,২৫তম ডিরেক্টরস গিল্ড অব আমেরিকা পুরস্কার এই মুভি অর্জন করে নেয়।

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য

ভিটো কর্লিয়নি নিজেকে মার্কিন গডফাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।বড় ছেলে সনি কর্লিয়নি একটু রগচটা স্বভাবের।সবসময় তাড়াহুড়ো করে সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে চায়।মেজো ছেলে ফ্রেডো কর্লিয়নি ভীতু প্রকৃতির।নিজেকে সবসময় গুটিয়ে রাখে।ছোট ছেলে মাইকেল কর্লিয়নি তার বাবার জায়গা নেয় পরবর্তীতে। যেকোন সমস্যার সমাধানে মানুষ ভিটোর কাছে সাহায্যের জন্য আগে আসে।অবশ্য আমেরিগো বনসেরা তার কন্যার উপর ধর্ষণ চেষ্টার বিচার পুলিশের কাছে না পেয়ে পরে গডফাদার ভিটোর কাছে এসেছিল।

ফেসবুক পেজ খোলার নিয়ম | দেখুন কি ভাবে একটি ফেসবুক পেজ খুলতে হয়

মাদক সম্রাট ভার্জিল সলোজ্জ এর সাথে চুক্তি নাকচ করে দেওয়ার পর ভিটোর পরিবারের সাথে সলোজ্জ পরিবারের শত্রুতা শুরু হয়।এক সময় ভিটোকে রাস্তায় বুলেট বিদ্ধ হতে হয়।এ যাত্রায় বেঁচে ফিরে ভিটো।কিন্তু পাল্টা আক্রমণ থেমে থাকেনা।এগিয়ে যায় মুভির কাহিণী। Accept this justice as a gift on my daughter’s weeding day. বনসেরাকে বলা ভিটোর এই ডায়লগটি অসাধারণ।মুভিটির রানটাইম একটু বেশি এবং গল্পের কাহিণী ধীরগতিতে এগিয়েছিলো।সেজন্য অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে।তবে আমি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য নিয়ে শেষ করার পর মনে হয়েছিল অসাধারণ একটি মুভি দেখলাম।

মারিও পূজো ও কাপেলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়তো এমন বিখ্যাত সিনেমা তৈরি সম্ভব হয়েছে।দ্য গডফাদারের সফলতার পর দুজনে মিলে এর সিকুয়েল তৈরি করে পার্ট টু ও পার্ট থ্রি।গডফাদার ট্রিলজির প্রতিটি সিনেমাই দর্শক জনপ্রিয়তার শীর্ষে।মার্লোন ব্রান্ডো এবং আল পাসিনো এর অভিনয় অসাধারণ ছিল।অনেকেই দেখে ফেলেছেন আবার অনেকেরই অদেখা রয়েছে।এই মুভির পুরোটা জুরেই বিজ্ঞান থাকলেও এই মুভিতে আবেগ জিনিসটাকে সবার আগে রাখতে হবে। যাদের আইনস্টাইনের রিলেটিভ থিওরি,টাইম ডায়লেশন,ওয়ার্মহোল,ব্ল্যাকহোল,মধ্যাকর্ষণ শক্তি,সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স,গ্যালাক্সি,নিউটনের থার্ড ল, 3D/4D ডাইমেনশন এসব নিয়ে ধারণা আছে মুভিটি তাদের কাছে দারুণ উপভোগ্য লাগবে।।

অনেকেই দেখে ফেলেছেন আবার অনেকেরই

আমরা যারা সাইন্স নিয়ে পড়েছি সবাই বিজ্ঞানের এ টার্ম গুলোর সাথে পরিচিত।কিন্তু এই মুভিতে বিজ্ঞানের চেয়ে জয় হয়েছে ভালবাসার।ভালবাসা এমন এক শক্তি যা বিজ্ঞানকেও হার মানায়। মুভির কাহিণী বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক আগানো।যখন বায়ু মন্ডলে অক্সিজেনের চেয়ে নাইট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেছে,মাটিতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছেনা।ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার সবাই নিজেদের কাজ ফেলে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছে।বিজ্ঞান এগিয়ে গেলেও খাদ্য উৎপাদনে তারা পিছিয়ে পড়েছে।প্রায় সময়ই ধেয়ে আসছে ধূলিঝড়।

এসব কিছুই পৃথিবীতে মানবজাতির বিলুপ্তির আলামত। তাই নাসার হেডকোয়ার্টার এর কর্মকর্তারা মানবজাতিতে বাঁচানোর জন্য অন্য গ্রহের সন্ধান চালাচ্ছে।তেমনি নিজের সন্তানদের বাঁচানোর জন্য আত্মত্যাগ করেছিল কুপার নামের একজন বাবা।সে চেয়েছিল পৃথিবীর মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে।সেজন্য ছাড়তে হয়েছিল নিজের পরিবারকে।মেয়ে মার্ফের মনে বাবার প্রতি জন্মেছিল তীব্র অভিমান।বাবা তাকে কথা দিয়েছিল মেয়ের কাছে ফিরে আসবে। এদিকে পৃথিবীতে পার হয়ে গেছে ১২৪ বছর।মেয়ে বৃদ্ধা হয়ে মৃত্যুর দিন গুনছে আর বাবার বয়স সেই ৪০-৪৫ রয়ে গেছে।সবই হচ্ছে টাইম রিলেটিভিটি।বাবা কি তার মেয়েকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছিল? মুভির প্রিয় একটা সংলাপ ছিল এমন যে,আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।আমি সময়কে ভয় করি।আসলেই সময় এক ভয়াবহ জিনিস।

আর মেয়েদের কাছে বাবারা যে সন্তান তুল্য সেই উপমাটা মুভির শেষের দিকে এসে একদম মিলে যায়। এমিলিয়া যে এডমন্ডের ভালোবাসার টানে মহাজগতে মৃত্যভয় তুচ্ছ করে পাড়ি জমাতে পেরেছিল সেই বিষয়টিও ভালো লেগেছে। বরাবরই নোলানের মুভি মানেই মাথা ঘুরান্টি।কিন্তু এটাই নোলানের একমাত্র মুভি যা দেখে চোখে জল চলে এসেছিল।সাধারণত সাইন্স ফিকশন মুভি গুলোতে ইমোশন জিনিসটা সেভাবে তুলে ধরা হয়না।কিন্তু নোলান সেটা পেরেছিল।সব লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছিল বাবা-মেয়ের সেই ভালোবাসা।এটা শুধু মুভি না আমার কাছে একটা আবেগ।

  মৃত্যুর দিন গুনছে আর বাবার বয়স সেই

মুভিতে বৈজ্ঞানিক অনেক বিষয় আছে যেগুলো ব্যাখ্যা করতে গেলে পোস্ট শেষই হবেনা।তাই বিজ্ঞানটাকে তুলে রেখে ভালবাসাটাকে নিয়েই কিছু লিখলাম।মুভিতে নোলান এটাই দেখিয়েছিল বিজ্ঞানের বাইরেও এমন এক শক্তি আছে যেটার গভীরতা পরিমাপ করা যায়না।আর তা হচ্ছে ভালোবাসা।ভালোবাসাই কুপার আর মর্ফের ভিতরে যোগাযোগ তৈরি করতে পেরেছিল। VFX দারুণ ছিল।আর নোলান যে একটা জিনিস তার মুভি দেখলেই বুঝা যায়।এত দারুণ প্লট এত দারুণ প্রেজেন্টেশন নোলান বলেই সম্ভব।⭕এই মুভি দেখার পর প্রায় আধা ঘন্টার মত আমার মাথা হ্যাঙ হয়ে গিয়েছিল।

আমি রুমের ভিতরে চুপচাপ বসে ছিলাম।বাসার কারও সাথে কোন কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল না।এমই আক্কেল গুড়ুম করা ছিল এই কানাডিয়ান মাস্টারপিস মুভিটি।দেখার আগে অবশ্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে দেখতে বসতে হবে।Old Boy এর চেয়ে এইটা বেশি ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়ায় দিছিল। জেনি এবং সাইমন দুজনে জমজ ভাই-বোন।তাদের মা নওয়াল মারওয়ান মারা যাওয়ার আগে তাদের জন্য দুটি চিঠি রেখে যায়।নওয়াল মারওয়ান চেয়েছিল তারা দুজনে যেন চিঠি দুটি তাদের বাবা আর ভাইকে খুঁজে দিয়ে দেয়।

তারা এটা যেন অবাক হয় যে তাদের একটা ভাইও ছিল।তারপর থেকেই শুরু হয় একটার পর একটা রহস্যের জট খুলা। ১+১=১ কিভাবে সম্ভব?(সাইমনের বলা এই সংলাপ আর জেনির কান্নার দৃশ্যে আমার শ্বাস আটকে যাচ্ছিলো) Nothing is more beautiful than to be together. You didn’t recognize me.But still I love you my beautiful.খুবই হার্ট টাচিং সংলাপ। তাছাড়া একজন মহিলার নিজের প্রতি কতটা ঘৃণা জন্মালে সে নিজের জানাজা পড়াতে নিষেধ করে এবং তাকে উল্টো হয়ে সমাহিত করতে বলে! এই মুভির লাস্ট টুইস্ট দেখে আমি পুরাই শোকড ছিলাম।ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস!এমনটা যেন বাস্তব জীবনে কারও সাথে না ঘটে।মুভিতে সবার অভিনয় খুবই দারুণ ছিল।আর গল্পের কাহিণী বেশ সুন্দরভাবে আগানো হয়েছিল।মুভিটি ১ টি ক্যাটাগরিতে অস্কার নমিনেশন পেয়েছিল।

শুরু হয় একটার পর একটা রহস্যের জট খুলা

তাছাড়া অন্যান্যা festival থেকে মোট ৫৫ টি নমিনেশন পেয়ে ৩৯ টি পুরস্কার জিতেছিল। এই মুভি নিয়ে অনেক ইন্টারেস্টিং আর ফানি রিভিউ আছে।অনেকেই দেখে ফেলেছে আবার অনেকেরই অদেখা।ডিরেক্টর যেহেতু ডেভিড ফিঞ্চার তাই আশাহত হওয়ার কারণ নেই।শুরুর দিকে মনে হচ্ছিলো নরমাল মিসিং স্টোরি।কিন্তু কিছুদূর এগুতোই আপনি ছোট-খাটো ধাক্কা খাবেন।আর অ্যামির ঠান্ডা মাথার কার্যকলাপ দেখে নিজেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবেন।আর হ্যা মুভিতে ১৮+ দৃশ্য আছে কিছু। একদিন হঠাৎ করে নিক নামে এক ভদ্রলোকের স্ত্রী অ্যামি গায়েব হয়ে যায়।

সিরিয়াল কিলিং নিয়ে মুভিটি একদম প্রথম দিককার

নিকের এই নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যাথা নেই আর আতঙ্কিত হবার মতও তার যেন কিছু হয়নি।অ্যামি যেহেতু একজন পাবলিক ফিগার তাই তার মিসিং হওয়ার খবর মিডিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে নিকের বিবাহিত স্ত্রীর প্রতি অনীহা আর বাইরে অ্যাফেয়ার ছিল।কোন কারণে এসব অ্যামি বুঝতে পেরে ইচ্ছা করেই নিককে গ্যাড়াকলে ফেলতে চেয়েছিল এবং অ্যামি ১০০% সফলও হয়ে যায়।তারপর হঠাৎ একদিন টিভিতে অ্যামি নিকের এক স্বাক্ষাৎকার দেখে নিকের কাছে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে।কিন্তু অ্যামিকে এমনভাবে ফিরে যেতে হবে যেন সাপও মরে আর লাঠিও ঠিক থাকে।

এদিকে অ্যামি তার প্রাক্তর প্রেমিক ডেসির বাড়িতে অবস্থান করছে।চায়লেই তো আর স্বামীর কাছে এত সহজে ফিরে যাওয়া যায় না।তাই সে এমন এক অদ্ভুদ কান্ড করে বসে যেটা দেখার জন্য দর্শক আদৌ প্রস্তুত ছিলনা! স্বামীর কাছে ফিরে গিয়েও সে তার স্বামীকে এমন এক অবস্থায় ফেলে যে নিকের গলায় সে কাঁটার মত আটকে থাকে।নিক তাকে বের করে দিতে পারছে না আবার হজমও করতে পারছে না।এমনই পুরো ছলনায় ছলনাময় কাহিণী। পুরো মুভিই এনজয় করেছিলাম দেখার সময়।আর কি ঘটবে বা ঘটতে চলেছে সেটা আন্দাজ করতে পারিনি।প্রথমে যার প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়েছিল পরে তাকে দেখেই creepy লাগলো।স্বামী-স্ত্রী দুইটারই দোষ আছে।তবে Amazing Amy একটু বেশিই জোশ ছিল তার অভিনয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *