আপনি মনে করেন আপনি একজনকে মেরে ফেলেছেন

মুভিটি একটি মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করা নিয়ে।ধরুন আপনি মনে করেন আপনি একজনকে মেরে ফেলেছেন অনিচ্ছাকৃত।পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করেছে।আপনি ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে আছেন।কিন্তু সেই পুলিশই যদি আপনাকে এসে বলে আপনি নির্দোষ তাহলে কেমন লাগবে? ৮৫ বছর বয়সী Harlan Thrombey একজন রহস্যময় নোভেলিস্ট।তার জন্মদিন পার্টির পরদিন সকালে বাড়ির কাজের লোক তাকে গলায় ছুরির আঘাতে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।পুলিশ এটাকে সুইসাইড হিসেবে নির্দেশ করে।পরে Blanc নামে এক ডিটেক্টিভ এসে আসল রহস্য উদঘাটন করে। Marta হচ্ছে Harlan এর নার্স।

আপনি নির্দোষ তাহলে কেমন লাগ

তাকে তার পরিবারের চেয়ে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে।Marta এর একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে সে কখনো মিথ্যা কথা বললে তার পরপরই বমি করে।এইটাকে কাজে লাগিয়ে Blanc ধীরে ধীরে আসল ঘটনায় ঢুকতে থাকে।Harlan এর সাথে তার পরিবারের লোকদের সম্পর্ক তেমন সুবিধার ছিলনা।এমনকি তার নাতি Ransom এর সাথেও না।সবার নজর বিশাল সম্পত্তির দিকে। Marta জানে Harlan কিভাবে মারা গেছে।Marta এর দেওয়া morphine এর ওভারডোজের কারণে Harlan এর এই পরিণতি।তাহলে ছুরি দিয়ে Harlan কিভাবে মারা গেল?নাকি আসল খুনী অন্যকেউ যে পরোক্ষভাবে খুনের সব পরিকল্পনা করেছিল?Blanc কি পারবে আসল কালপ্রিটকে ধরতে? যারা এধরনের রহস্যের মুভি পছন্দ করেন তারা দেখে নিতে পারেন।মুভিটি বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেছে।

rgdd

ভাইবার একাউন্ট খুব দ্রুত ও সহজে চালু করার উপায়।

প্রথমে মুভিটিকে একটা সাদামাটা খুনের কেইস মনে হলেও শেষটায় অন্যরকম মনে হবে।Marta এর বমি করার বিষয়টাতে সবচেয়ে বেশি মজা পাবেন।লোকটার অপরাধ ছিলো তিনি সমকামী ছিলেন। এলান টুরিং। একজন ব্রিটিশ গণিতবিদ, যুক্তিবিদ ও ক্রিপ্টোবিশেষজ্ঞ। বিজ্ঞানের জগতে এক প্রতিষ্ঠিত নাম। যার জন্ম না হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, টুরিং টেস্টের জন্ম হতো না….অনেকেদিন ধরেই ভাবছিলাম মুভিটি দেখবো। কয়েকবার ডাউনলোড করেও দেখা হয়নি। মুভিটি রিলিজের সময়কালেও একবার ট্রাই করেছিলাম, প্রথম দিকে মনোযোগ না বসায় আর দেখা হয়নি।

সে যাইহোক শীতকালের আলাপ…. আইএমডিবি বা পচা টেমেটোতে হাইলি রেটিং পাওয়া এই মুভির পরিচালককে আমি তেমন একটা চিনিনা। তার নাম Morten Tyldum, ভদ্রলোকের এটাই ইংলিশ মুভিতে প্রথম কাজ। সার্চ করে দেখলাম লোকটা নরওয়ের মানুষ। নরওয়ে ভাষায় তার ভালো কিছু কাজ আছে। তার আরেকটি মুভি আমি দেখেছি। মুভিটির নাম Passengers (2016)। মুভিটির গল্প লিখেছেন Graham Moore, ভদ্রলোক একজন লেখক। তার সাড়া জাগানো বই আছে। এই মুভিটির স্ক্রিপ্টটি তিনি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত বায়োগ্রাফি Alan Turing: The Enigma থেকে ধার করে ছিলেন। বইটির লেখক Andrew Hodges। প্রথমদিকে এলান টুরিং চরিত্রে Leonardo DiCaprio-এর অভিনয়ের কথা চলছিলো। সে এখানে না এসে ভালোই হয়েছে।

নরওয়ে ভাষায় তার ভালো কিছু কাজ আছে

এই চরিত্রটি বেনেডিক্টের জন্যই। পুরো মুভিতে তোতলানো ডায়ালগ, এক্সপ্রেশান, দুঃশ্চিন্তা, জেদি মনোভাব, নিঃসঙ্গতা আবার হাবাগোবা চরিত্রটিকে সে যেভাবে সেলুলয়েড পর্দায় ফুটিয়ে তুললেন, তাতে তার আগে থেকে ফ্যান হলেও, এই চরিত্র দেখলেও অনায়াসে তার ফ্যান হয়ে যাওয়া যায়। আহা অসাধারণ এক চরিত্র করেছেন তিনি। Keira Knightley ওর চরিত্রে খুবই দারুণ ছিলো। ঝলমলে ছিলো ওর ক্যারেক্টারে। বাদবাকি অন্যান্যরাও দারুণ ছিলো। যেহেতু মুভিটি বায়োগ্রাফি। কমবেশি তার জীবনী সম্পর্কে জানা থাকার কথা।

তবু মুভির প্রয়োজনে  স্পয়লার এলার্ট  দিয়ে দিচ্ছি। এবার আসি গল্পে, মুভিটি দেখার পর এলান টুরিং-এর জীবনী নিয়ে সার্চ করে যা দেখলাম, মুভিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিস্টোফার চরিত্রের যে শেইডটি দেয়া হয়েছে তা আদপে সিনেমাটিক কারণেই দেয়া হয়েছে। বাস্তবতায় এর এমন অস্তিত্ব অন্যভাবে আছে। এমন আরও অনেক কিছুর চেইঞ্জিং এসেছে মুভিতে। যা শুধুমাত্র মুভির প্রয়োজনে এসেছে। তবে তার বাস্তব জীবন আমার কাছে আরও ঘটনাবহুল লেগেছে। যাইহোক, মুভির গল্পটি বেশ আকর্ষণীয় ছিলো। শুরু থেকেই আকর্ষণ ধরে রেখেছিলো।

পুরো মুভিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি থাকলেও মুভিতে সরাসরি যুদ্ধের দৃশ্য নেই। এই ব্যাপারটা বরং আমার জন্য ভালোই হয়েছে। তো এলান টুরিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কি করেছিলেন তা এই অন্তত এই মুভিটি দেখার পর, কারও সন্দেহ থাকবেনা। স্যার উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন টুরিং-য়ের জন্যেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় দুই বছরের জন্য কমে এসেছিলো। তাহলে কি এমন করেছিলেন এই টুরিং মহাশয় তিনি জার্মানদের দূর্ভেদ্য Enigma কোড ভেঙেছিলেন। তাইতো সরাসরি যুদ্ধ না করেও তিনি ও তার টিম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কমপক্ষে দুই বছর কমিয়ে ফেলেছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। তাইতো যুদ্ধক্ষেত্রে এমন মহান কাজের জন্য ১৯৪৬ সালে “Order of the British Empire” সম্মানে ভূষিত করা হয়।

 বিশ্বযুদ্ধ প্রায় দুই বছরের জন্য কমে এসেছিলো

এদিকে মুভিটি দেখার পর থেকে আমার মাথায় বারবার Enigma ব্রেকের চিন্তাটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনারা কে কে পারেন এই এনিগমা কোড ভাঙতে। আমি কিন্তু পারিনা😉 যাইহোক শুরুর কথায় ফিরে আসি, জি তিনি ছিলেন এক সমকামী। এজন্য তাকে জীবনভর অনেক অনেক ঝামেলা, অবিশ্বাস ফেইস করতে হয়েছিলো। এতো এতো অবদানও তার এই অপরাধ ঢাকতে পারেনি। তাইতো তাকে এমন এক পরিণতি ফেইস করতে হয়, তা দেখলে ও শুনলে হ্নদপিন্ড কেঁপে উঠে।

sffef

ফেসবুক গ্রুপ খোলার নিয়ম | নতুন ফেসবুক গুরুপ খোলার নিয়ম দেখুন এখানে

কি ছিলো সেই পরিণতি একজন কবি আজকের এই দিনে ১৯৫৪ সালে আত্মহত্যা করেছেন। তবু তার অপ্রকাশিত কবিতার বই ২০১৫ সালে এসেও প্রকাশিত হয়, এতেই বুঝা যায় সেই কবির গুরুত্ব, বুঝা যায় তার জনপ্রিয়তা…. হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, তিনি রূপসী বাংলার কবি। সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা এই কবি হলেন জীবনানন্দ দাশ। তিনি এখনো আধুনিকতম কবি। তাকে “শুদ্ধতম কবি” নির্জনতম কবি” নামেও অভিহিত করা হয়। বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন তিনি।

বাংলার আধুনিক কবিতার অন্যতম কবি তিনি।কাল রাতে – ফাল্গুনের রাতের আঁধারে যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ মরিবার হল তার সাধ। জীবদ্দশায় দারিদ্র্যতার সাথে ও চরম অবহেলার সাথে জীবন যাপন করেছেন। সাহিত্যের সমালোচকরা তাকে কখনোই ভালো চোখে দেখেনি। তারা তাকে “গন্ডার কবি” নামে ডাকতেন। “সুরঞ্জনা তোমার হ্নদয় আজ ঘাস” লাইনটার জন্য তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতেন।অথচ বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে “সুরঞ্জনা” কবিতাটি অন্যতম…আলো — অন্ধকারে যাই — মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়, কোন এক বোধ কাজ করে

! স্বপ্ন নয় — শান্তি নয় — ভালোবাসা নয়, হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়! আমি তারে পারি না এড়াতে সে আমার হাত রাখে হাতে; অথচ আধুনিক বাংলা সাহিত্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলামকে পেড়িয়ে এলেও তাকে এখন পর্যন্ত পেরুতে পারেনি। তিনি এখনো বাংলা সাহিত্যের বর্তমান কবি। এখনো প্রাসঙ্গিক কবি। এখনো আধুনিক কবি….সুরঞ্জনা, ওইখানে যেওনাকো তুমি, বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে; ফিরে এসো সুরঞ্জনা: নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *