এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে তারা জড়িয়ে আছে

জীবন! মৃত্যু! একে অপরের বিপরীত; অথচ এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে তারা জড়িয়ে আছে একে অপরের সাথে। জন্মিলে মরিতে হবে… এটা প্রতিটি জীবের জন্যই এক চুড়ান্ত অবধারিত সত্য। আমাদের জীবনের সবারই ইচ্ছে থাকে কিছু না কিছু হওয়ার বা করার বা কোনো কিছু হাসিল করার। আমরা আমাদের সেই কাঙ্খিত জিনিসটাকে না পাওয়া অবধি হাপিত্যেশ করি, দিনান্ত খাটা খাটনি করি নিজের সেই অতৃপ্ত ইচ্ছা(গুলো)কে পূরণের জন্য। আচ্ছা কখনো কি এটা ভেবেছেন যে, যখন আপনি যা হতে চান, যা পেতে চান, যা করতে চান, যখন তা হাসিল করবেন তার পরে কী করবেন?

সেটাকে ঘিরেই তৈরি হবে আপনার পরবর্তী

ওই… যেটার জন্য এতকিছু করলেন, যেটাকে মনেপ্রাণে চেয়েছেন, সেটাকে ঘিরেই তৈরি হবে আপনার পরবর্তী রোজকার জীবন। আবার অনেক ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় যে আপনি যেই আশায় এতদিন এর জন্যে ছুটেছেন সেটাকে হাতের মুঠোয় পাওয়ার পরেও আপনার আশা পূরণ হয়নি। ঠিক যেন মাছের পোনার মতো, যে সমুদ্রে থেকেও অনুধাবন করতে পরে না যে সে সমুদ্রে আছে। সে সমুদ্র আর পানির মধ্যে ভেদ করতে পারে না। তাহলে এত পরিশ্রম কীসের জন্য ছিল? এবার আরেকটা সিচুয়েশন নিয়ে কথা বলি। আচ্ছা যদি যা হতে চেয়েছেন, যা করতে চেয়েছেন, আপনার কাঙ্খিত আশা পূরণ হওয়ার আগেই যদি আপনার মৃত্যু এসে যায়! তখন কী করবেন?

bondhon

রাজনৈতিক নেতার ছোট ভাই আর

একবারও কি ভেবেছেন আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যে সারাটা জীবন পরিশ্রম করে গেলেন কিন্তু সে লক্ষ্যেই আপনি পৌঁছানোর আগেই মরতে হলো আপনাকে। এইভাবে নিরন্তর সেই অপূর্ণ ইচ্ছেগুলোর পিছনে আমৃত্যু রুদ্ধশ্বাস ছুটে চললেন অথচ… না এই মাঝখানের বেঁচে থাকাকালীন সময়টাতে কিছু করলেন; না জীবন কে জানলেন; না উপভোগ করলেন; না আশেপাশের মানুষগুলোর সাথে বা নিজের পরিবারের সাথে ঠিক মতো মন খুলে বাঁচতে পারলেন; না জীবনে সত্যিকারের বন্ধু বানালেন। এমনকি আপনার লক্ষ্যে চলার পথে যারা বন্ধু হয়েছিল তারাও যেন একটা অদৃশ্য শিকলের বন্ধনে আবদ্ধ।

যতটুকু দরকার ব্যস ততটুকুর মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ সেই সম্পর্কগুলো। শুধু বন্ধুত্ব নয়, বরঞ্চ যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এগুলো দেখা যায়। অনেকটা “কাজের বেলায় কাজি কাজ ফুরোলেই পাজি” এমন টাইপের। নিজেদের ইচ্ছের পেছনে ছুটতে ছুটতে সম্পর্কগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সেই অদৃশ্য গণ্ডিটা ভাঙার মতো কোনও চিন্তা যেন মাথাতেই আসতে চায় না। তাহলে আপনার জীবনের মানে টা কি রইলো?! না আপনার লক্ষ্যে পৌঁছালেন আর না জীবন কে উপলব্ধি করলেন। জীবন কে চেনার আগেই, বুঝার আগেই অনাকাঙ্খিতভাবে মৃত্যু এসে আলিঙ্গন করলো আপনাকে। মানুষের জন্ম একটা বিশাল ব্যাপার।

নিয়তির টানে মানুষ তার ইচ্ছে পূরণের

নিয়তির টানে মানুষ তার ইচ্ছে পূরণের পথে অবিরাম ছুটতে থাকে এমনভাবে যেন সেটা পেলেই তার আত্মার শান্তি হবে এমন। কিন্তু সব হিসেব কিন্তু সবসময় মেলে না। যে জিনিসটার জন্য, যে স্বপ্ন পূরণের জন্য আপনার জন্ম হয়েছে বলে ভাবছেন, কোনো কারণে যদি সেটা পূরণ না হয়, আপনার জীবন কি থেমে থাকবে? মোটেই না। আপনার অধরা স্বপ্ন বা ইচ্ছেগুলো কিন্তু আপনার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ নয় আর হতে পারেও না। মানুষ যদি তার জীবনে থেকে ছোট ছোট হাজারো খুশিগুলোকে কুড়িয়ে এনে প্রতিটা মুহূর্ত বাঁচতে পারে তাহলে সেই ছোট ছোট খুশিগুলোই কি মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা নয়?

মানুষের জীবনে স্বপ্ন দেখাও জরুরি কিন্তু তার মানে এটা নয় যে জীবনটাকে উপভোগ করা যাবে না। মানুষ তার ইচ্ছে গুলো পূরণ করতে পারলেই যে সে “সব পেয়েছি’র দেশে” পৌঁছে যাবে এমন নয়। সবকিছু পেয়েও মানুষ কিন্তু পূর্ণ হতে পারে না। কিন্তু যদি আপনি আপনার জীবনটাকে নিজের মতো করে উপভোগ করতে পারেন, সেই সব ছোট ছোট খুশিগুলো একসাথে জড়ো করে দেখেন, দেখবেন সেই খালি খালি ভাব টা আর থাকছে না। আর আপনার সাথে নানান সম্পর্কের শেকলে আবদ্ধ মানুষগুলোর কথা ভাবুন।

তাদের সাথে সাধারণত যেসব কারণে আপনি কথাবার্তা বলেন, একটু সেইসব কারণগুলোর শেকল ভেঙে অন্য কিছু নিয়ে কথা বলুন, হাসুন… সেগুলো কিন্তু আপনি আর আপনার সেই চেনা পরিচিত মানুষগুলোরও খুশির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। খালি যে আপনার নিজের দরকার সেরেই চলে গেলেন, সেটাই কিন্তু সব না। আপনার চিরচেনা আপন মানুষগুলোর সাথে অভিমান করা, হিংসা করা, ঝগড়া করা, আবার যত্ন করা, ভালোবাসা মাখা শাসন করা, এই যে ছোট ছোট ভালোবাসার মুহূর্ত গুলোই কিন্তু পারে সম্পর্কের শেকল গুলো ভেঙে জীবন কে ছোট ছোট আনন্দে ভরিয়ে তুলতে।

আজ দেখলাম গত ১৩ আগষ্ট রিলিজ

আজ দেখলাম গত ১৩ আগষ্ট রিলিজ হওয়া ফিল্ম ‘Coda’ সিনেমাটির পরিচালনায় ছিলেন সিয়ান হেডার। এবং মুভির লিড রোলে অভিনয় করেছেন এমিলিয়া জোন্স, মার্লি ম্যাটলিন, ইউজেনিও ডারবেজ প্রমুখ। এই সিনেমাটি মূলত ২০১৪ সালে রিলিজ হওয়া ‘La Famille Bélier’ নামের একটি ফ্রেঞ্চ ফিল্মের অফিসিয়াল রিমেক। মুভিতে এমন একটি পরিবারকে দেখতে পাই। যেখানে চারজন লোক রয়েছে। এই চারজনের মধ্যে তিনজন কথা বলতে ও শুনতে পারে নাহ। আরেক একজন রয়েছে যিনি বলতে ও শুনতে পারেন। যার নাম ছিলো ‘রুবি’ আর এই রুবির মাধ্যমেই এই পরিবারটি লোকজনদের সাথে কমিউনিকেট করে।

joriya

মুভি একটার চেয়ে আরেকটা কম না

এর জন্য রুবিই এই ফিল্মের মেইন ক্যারেকটার বলা যায়। অন্যদিকে রুবি আসলে একজন সিংগার হতে চায়। কিন্তু তার পরিবার তার গান শুনতেই পারে নাহ। তো সংক্ষেপে মুভি গল্প মূলত এতোটুকুই। প্রথমেই এই মুভিটি নিয়ে যদি এক কথা আমার মনে ভাব প্রকাশ করি তাহলে বলব মুভিটি এ বছরের ওয়ান অফ দ্য মোস্ট ইমোশনালি টাচিং ফিল্ম ছিলো আমার কাছে। কেননা, মুভিতে এই সব পরিস্থিতি গুলো আমাদের খুব ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেয় যে একটা Dumb & Deaf ফ্যামিলির কতটা প্রতিকুল পরিবেশের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

আর এই গোটা সিনেমাটি সবচেয়ে বড় ইমপ্রেসিভ ও খুবই ইন্টারেস্টিং বিষয় ছিলো ফিল্ম এ অভিনয় করা অভিনয় শিল্পীরা বাস্তব জীবনে ও বোবা ও বধির ছিলো। কাজেই এই বিষয়টাই এই মুভিটাকে দেখার জন্য প্রচন্ড ভাবে আমাকে আগ্রহী করে তুলেছিলো। এটা খুবই রেয়ার সিনেমা গুলোর মধ্যে একটি যেখানে ঔ অভিনয় শিল্পীদেরকেই কাস্ট করা হয়। সেখানে বাস্তব জীবনে তাদেরই ঔ ডিসেবলিটি থাকে। কেননা আমরা বরাবরের মতোই দেখে আসছিলাম যে প্রথম সারির অভিনয় শিল্পী। যারা এই সব ডিসেবল ব্যেক্তি দের ক্যারেকটার গুলো প্লে করতে।

এবং তারা বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড জিতে

এবং তারা বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড জিতে নিতেন। কিন্তু এটা কখনো কেই ভাবে না। এমনিভাবে আর অনেক অভিনয় শিল্পী রয়েছে যাদের বাস্তব জীবনে এই ধরনের ডিসেবলিটির কারণে ফিল্মে অভিনয় শিল্পী হিসেবে নেওয়াই হতো নাহ। আর ডিরেক্টর ‘সিয়ান হেডার’ এই প্রচলিত প্রথাটি কে ভাঙার চেষ্টা করেছেন। যার কারণে #Coda আমার কাছে একটা খবই স্পেশাল ফিল্ম হয়ে থাকবে আজীবন! এছাড়াও মুভির লিড রোলে অভিনয় করা এমিলিয়া জোন্স কে আমার অসম্ভব কিউট ও সুইট লেগেছে।

মুভিতে তার অভিনয়, এক্সপ্রেশন, সাইন ল্যাংগুয়েজ এ কথা বলা গান গাওয়া সবই খুবই খুবই অসাধারণ! তাছাড়া মুভিতে ইউজেনিও ডারবেজ, ট্রয় কটসুর, ড্যানিয়েল ডুরান্ট এবং মার্লি ম্যাটলিন সবার পারফরম্যান্সই ছিলো খুবই সাবলীল। আর মূলত এই মুভিটি এতো ভালো লাগার কারণ ছিলো ডিরেক্টর ইমোশন ও ফ্যামিলি বন্ডিংস্ কে খুবই দারুণ ভাবে উপস্থাপন করেছেন এই সিনেমার পর্দায়। যার কারণে মুভিটা আমার এতোটা মন ছুঁয়ে গেছে। আর মুভিটা রিমেক হলেও একেই হয়তো টপ ক্লাস রিমেক বলে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *