এত জনপ্রিয় সিনেমা ঢালিউডে খুব কমই

ঢালিউডের সেরা তিন সিনেমার ভিতরে এই সিনেমাটিকে আমি সবসময় রাখবো।মাস্টারপিস একটা সিনেমা।এত জনপ্রিয় সিনেমা ঢালিউডে খুব কমই রয়েছে।সিনেমাটি সালমানশাহ পুরোপুরি শেষ করতে না পারলেও শাবনূরের পরিপূর্ণ অভিনয় সিনেমাটিকে পূর্ণতা এনে দিয়েছে।সালমানশাহ মরার পর ২৭ টি সিনেমাই তার হয়ে যায়।সত্যের মৃত্যু নাই সিনেমাতে শাবানা তার ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা অভিনয় করেও তার চরিত্রটি আড়ালে চলে গেল।কিন্তু এই সিনেমাতে শাবনূর ঠিকই তার জাত চিনিয়েছিল। এই সিনেমার মূল কাহিণী দোলা আর খসরুকে নিয়ে।শহরের ছেলে খসরু গ্রামে বেড়াতে এসে কিশোরী চঞ্চলা মেয়ে দোলার প্রেমে পড়ে যায়।দোলার প্রেম বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় দেওয়ানগঞ্জের প্রভাবশালী নেতা হুমায়ূন ফরিদীর কাছে।

শহরে তার বাবার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া

পাগল বানিয়ে দেওয়া হয় খসরুকে। দোলার আড়ালে খসরুকে শহরে তার বাবার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।এইদিকে দোলা ও তার মাকে হতে হয় গ্রাম ছাড়া।শহরে এসে দোলা তার মাকে হারিয়ে ফেলে চিরতরে।ভাগ্যক্রমে দোলার দেখা হয় ভাবনার পরিবারের সাথে।সেবিকা হিসেবে নিজের জীবন শুরু করে দোলা।কিন্তু ঘটনাক্রমে দোলার ক্লিনিকেই খসরুর আগমন ঘটে।খসরুকে সুস্থ করার দায়ভার পড়ে দোলার উপর।কারণ ততদিনে দোলা হয়ে উঠেছিল সেই ক্লিনিকের সবার আস্থার প্রতীক।দোলা মায়ের কথা রাখতে কাজ ছেড়ে পালিয়ে আসতে চায় এক বুক বেদনা আর হাহাকার ভরা কান্না নিয়ে।

jmtyjrth

ফেসবুক গ্রুপ খোলার নিয়ম | নতুন ফেসবুক গুরুপ খোলার নিয়ম দেখুন এখানে

পথিমধ্যে ভাবনার অনুরোধ ফেলতে না পেরে খসরুকে সুস্থ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেয়।এক বিয়োগান্তিক পরিসমাপ্তি ঘটে এই সিনেমায়। এই সিনেমায় সালমানশাহর ডাবিং করেছিল খলনায়ক হিসেবে পরিচিত ডন।পুরো কাজ সালমান শেষ করতে পারেনি।শাবনূরের সাথে বেশ কিছু দৃশ্যে ডামী ব্যবহার করা হয়েছিল।শাবনূরের অভিনয় এতটা প্রাণবন্ত ছিল যে ডামীর বিষয়টা ম্লান হয়ে গিয়েছিল।অনেকে এটাও জানতো না শাবনূর ডামীর সাথে কাজ করেছিল।তারা ভেবেছিল সালমানশাহ ই ছিল।শাবনূর পরে সবাইকে এই বিষয়ে অবগত করে। পাগলের চরিত্রে সালমানশাহ দারুণ অভিনয় করেছিল।

আরেক নায়িকা কাঞ্চিও আলো কুঁড়িয়েছিল।খল চরিত্রে অনবদ্য ছিল হুমায়ূন ফরিদী।শাবনূরের মায়ের চরিত্রে ডলি জহুরও সুনিপুণ অভিনয় দেখিয়েছে। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র ছিল দোলা চরিত্রটি।এখানে শাবনূর প্রথমে একজন সরল-চঞ্চলা কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করে।তারপর প্রেমিকার চরিত্রে।সবশেষে একজন ম্যাচিউর সেবিকার চরিত্রে।শাবনূরের চরিত্রে ভ্যারিয়েশন ছিল।এক সিনেমায় পর পর তিনটা রোল প্লে করা খুবই কঠিন।এত কম বয়সে এত ভারী একটা চরিত্র (সেবিকা) শাবনূর বলেই সম্ভব হয়েছিল।নিজের বুকে জমে থাকা কষ্টকে লুকিয়ে প্রেমের জন্য পাগল হওয়া অন্য রোগীদের সুস্থ করে তুলেছিল।

আনন্দ-অশ্রু নাম ভূমিকাটি মূলত শাবনূরই

সব রোগীরা সিস্টার দোলার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। আনন্দ-অশ্রু নাম ভূমিকাটি মূলত শাবনূরই।হাজারো মেয়ের স্বপ্নের চরিত্র এই দোলা এবং নব্বই পরবর্তী সবচেয়ে জনপ্রিয় নারী চরিত্র।শেষে হুমায়ূন ফরিদীর বিপরীতে শাবনূরের চরিত্র জীবন্ত থেকে আরও জীবন্ত হয়ে উঠে।এই সিনেমায় দোলার বা দুলি চরিত্রের ব্যাপ্তি যে বেশি সেটা স্ক্রিনটাইম হিসেব করলেই বুঝা যায়। এখানে সবার অভিনয় নিঁখুত ছিল বিধায় সিনেমাটি সালমানের অসমাপ্ত বলে মনে হয়নি।সিনেমার টোটাল গান আছে ৫ টি। ১.উত্তরে ভয়ঙ্কর জঙ্গল……(শাবনূর) ২.তুমি মোর জীবনের ভাবনা….(সালমান-শাবনূর) ৩.থাকতো যদি প্রেমের আদালত….(শাবনূর) ৪.কোন ডালে বাঁধলিরে তুই…… (শাবনূর)

৫.তুমি আমার এমনই একজন…..(সালমান-কাঞ্চি,শাবনূর)এই গানে দেয়াল ঘেঁষে শাবনূরের হাহাকার ভরা কান্নার এক্সপ্রেশনটা সবচেয়ে শক্তিশালী একটা দৃশ্য।সবগুলো গানই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।উল্লেখ্য তুমি মোর জীবনের ভাবনা শিরোনামের একই গান কাঞ্চি ও সালমানেরও আছে।কিন্তু দুটোতেই ডামী ছিল। অন্যতম প্রিয় ডায়লগ যে সত্যিকারের ভালোবাসতে গিয়ে পাগল হয়েছে তাকে মিথ্যে ভালোবাসা দিয়ে কি লাভ?(শাবনূর) শুনেছি টাকা দিয়ে বাঘের চোখও পাওয়া যায়।কিন্তু টাকা দিয়ে যে একজন সেবিকার সেবা পাওয়া যায়না তা আজ প্রথম জানলাম।(সাদেক বাচ্চু) এই ডায়লগের মাধ্যমে পরিচালক শিবলী সাদিক বাস্তব জীবনে একজন সেবিকার গুরুত্বকে তুলে ধরতে চেয়েছে।আর সে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটিই ছিল শাবনূরের।

এমন কালজয়ী একটি সিনেমা শাবনূরের ঝুলিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।এই সিনেমা রিলিজের পর ১৯৯৭ সালে শাবনূর সারাদেশ ব্যাপী শ্রেষ্ঠ নায়িকার খেতাব অর্জন করে।এমনও কমেন্ট পড়েছিলাম SHABNUR is incomplete without “Anondo Osru”.চরিত্রটির ধার এতোটাই ছিল যে দর্শক হৃদয়ে এখনো দোলা চরিত্রটি দাগ কেঁটে রয়েছে।সেই সাথে সালমানও স্মরণীয় হয়ে আছে।কাঞ্চিকেও দর্শক মনে রেখেছে #কাস্টিং:শাবনূর,সালমানশাহ,কাঞ্চি,হুমায়ূন ফরিদী,ডলি জহুর,দিলদার,সাদেক বাচ্চু,খালেদা আক্তার কল্পনা,নানাশাহ প্রমুখ এই মুভিতে সবচেয়ে ভালো লেগেছে Suriya এর অ্যাক্টিং এবং পার্সোনালিটি।মুভির কনসেপ্ট দারুণ ছিল।

যেখানে কম খরচে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষরা

একজন এয়ার ফোর্স ক্যাপ্টেন চেয়েছিল একটা এয়ারলাইন কোম্পানি চালু করতে।যেখানে কম খরচে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষরা অনায়াসে বিমানে যাতায়াত করতে পারবে।বিমানের যাতায়াত খরচ বেশি হওয়ার শুধুমাত্র উচ্চবিত্তদের কাছে সেটি একচেটিয়ে অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।কিন্তু নিচের তলার মানুষদেরও তো আকাশে উড়ার স্বপ্ন থাকে।বাস,ট্রেনের ভাড়ার মত বিমানের ভাড়াও যদি সহজলভ্য হতো তাহলে সেই মানুষদের মনোবাসনা পূরণ করা যেত। নেদুমারান নামের সেই এয়ার ফোর্স ক্যাপ্টেনই এই গল্পের হিরো।অদম্য ইচ্ছা থাকলে যেকোন কিছুকে জয় করা যায়।

tjrth

চলার পথে অনেক বাঁধা-বিপত্তি আসবে।অনেক ঝড় আসবে।সবকিছুকে সামলে যে নিজেকে তার লক্ষ্যে অটল রাখতে পারবে সেই সাফল্য অর্জন করতে পারবে।এই মুভি দেখে কিছু inspiration পাওয়া যায়।তাছাড়া নেদুমারান এর লাইফে বিমানের ভাড়া নিয়ে একটা তিক্ত ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল যেটা তাকে তার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে আরও বেশি তাড়িত করতো।পরেশ গোস্বামী নামের একজন এয়ারলাইন বিজনেসম্যান ছিল নেদুমারানের এক প্রকার আইডল। কিন্তু নেদুমারান তার সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছিল একবার যে মানুষ অনেক উঁচুতে বিচরণ করতে থাকে তখন সে নিচের তলার মানুষের কথা ভুলে যায়।

অথচ সেই পরেশ গোস্বামী একসময় মিডেল ক্লাস পরিবারের সন্তান ছিল।নেদুমারানও বর্তমানে তাই।মুভিতে নেদুমারান এবং পরেশ গোস্বামীর ভিতরে বিজনেস রাইভাল শুরু হয়ে যায়।সব বাঁধা পেরিয়ে নেদুমারান কিভাবে তার স্বপ্নপূরণে সফল হয় তারই গল্প হচ্ছে Soorarai Pottru।সাহসীরা সবসময়ই প্রশংসার যোগ্য।২০১৩ সালের বর্ষাকাল। রাজশাহী নগরীর আকাশে বাতাসে, অলি-গলিতে বাজছে ‘হাম তেরি বিন আপ রেহে নেহি সাগতে………’ ! আকাশ জুড়ে ঝুম বৃষ্টি নামে আর এই গানের সুর শুনে উঠতি বয়সী শরীরের হরমোনগুলো কিলবিল করে উঠে। মনে হয় সমাজ-দুনিয়ার সব বাধ্যবাধকতা ভেঙ্গে প্রেমিকার সাথে ভিজতে ভিজতে ব্লেজার দিয়ে ঘোমটা দিতে চলে যাই  Love Makes life live ! তাই কি?

তত্ত্ব প্রতিষ্টিত করতে গিয়ে নিব্বা-নিব্বি

আমি জানিনা, তবে মোহিত সুরি তার এই সিনেমায় এই তত্ত্ব প্রতিষ্টিত করতে গিয়ে নিব্বা-নিব্বি প্রেমের সিনেমা বানিয়ে ফেলেছিলেন। একটা সাধারণ গল্পের অর্ডিনারি একটা সিনেমাটাকে এক্সট্রা অর্ডিনারি করে তুলেছিল মূলত এই সিনেমার মিউজিক। প্রেম-পিরিতির নিরীহ আবেগগুলো দারুণভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল প্রেম পিরিতি ও ডিপ্রেশনের চাষাবাদ করা উঠতি প্রজন্মকে। #স্পয়লার_এলার্ট একজন রকস্টার কোনো এক অজানা কারনে সিনেমার প্রথম সেকেন্ড থেকেই হুদাই ডিপ্রেসড। সেভেন আপের মতো করে মদ খায়, আর দুঃখের গান গায়।

ফেসবুক পেজ খোলার নিয়ম | দেখুন কি ভাবে একটি ফেসবুক পেজ খুলতে হয়

দেখে মনে হয় মদ কী মিষ্টি ! এই সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি একবার সেভেন আপের মতো ওভাবে বোতল ধরে দুষ্টু পানি গিলতে গিয়েছিলাম! বাকিটা ইতিহাস..১৯৯০-এর আশিকির গল্পের প্লটের সাথে কিছুটা সিমিলার গল্প এখানেও। আদিত্য-শ্রদ্ধা দুইজনকেই রোমান্টিক ক্যারেক্টার হিসেবে দারুণ মানিয়েছিল। অভিনয়ে শ্রদ্ধা কাপুরকে বেশি ইম্প্রেসিভ লেগেছে। সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরনঃ মদ্যপান ও প্রেম দুটোই নেশা। এই সিনেমা দেখে কোনো একটার প্রতি অনুপ্রাণিত হলে আমি দায়ী নই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *