কখনো কখনো এমন মানুষ আসেন গানের জগতে

কখনো কখনো এমন মানুষ আসেন গানের জগতে,যাদের গান শুনলে মনে হয় যেন আমার জন্য ই এই গান তৈরি করা। তার সাথে পরিচয় নেই,কথাবার্তা নেই,তবুও তাকে আপন মনে হয়,অথচ হৃদয় জুড়ে থাকেন আমাদের মাঝে। অর্ণব আমাদের জীবনে এমনই একজন। আমরা যারা নতুন শতকে নিজেদের বুঝতে শিখেছি,তিনিও আমাদের মধ্যে জড়িয়ে গেছেন সময়ের সাথে সাথে।

ব্যস্ত শহরে থেকে হোক কলরব,সে যে বসে আছে কিংবা রবীন্দ্রনাথের গান মাঝে মাঝে তব দেখা পাই। আরো অনেক গান দিয়ে অর্ণব মিশে গেছেন আমাদের মাঝে।

কখনো কখনো এমন মানুষ আসেন গানের জগতে

তখন অনেকটাই আড়ালে চলে গেলেন

আমরা বড় হচ্ছি বাস্তবতায় পা দিচ্ছি অর্ণবকে আরো বেশি করে পেতে ইচ্ছে করছিল। তখন অনেকটাই আড়ালে চলে গেলেন,তবে যত আড়াল হচ্ছিলেন ততটাই যেন আরো আপন হয়ে উঠেছিলেন। তিনি স্বাধীকার আন্দোলন থেকে বিরহের কিংবা খোলা আকাশের নীচে গুণগুণ করে গাওয়া। আর হেডফোনের মাঝে ততটাই সমকালীন হয়ে রইলেন আরো হয়ে উঠলেন প্রাসঙ্গিক।

সেই অর্ণব এবার ধরা দিলেন রুপালী পর্দায়,তাকে নিয়ে তৈরি হল মিউজক্যাল ফিল্ম। গায়ক অর্ণব আর তার ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে হাজির হয়েছেন এই ফিল্মে তাকে কোন অভিনয় করতে হয় নি।

এক্সঝফঝ

অর্ণবের সৃষ্টি নানা সময়ের সৃজনশীল গান,তার ছেলেবেলার কথা,বাবা- মায়ের গল্প,শান্তিনিকেতনে পড়ার গল্প,সঙ্গীতে নিজেকে যুক্ত করার গল্প,জীবনের বাঁক বদলের গল্প,সঙ্গীর গল্প। আর এই নিয়েই চরকির আয়োজন আধখানা ভালো ছেলে আধা মস্তান। আবরার আতহার, যিনি এই মিউজিক্যাল ফিল্মের নির্মাতা।

যাকে পূর্বে কলি ২.০,মাইনকার চিপায় নির্মান করতে দেখেছি,এইবার আসলেন পুরো ভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে। মিউজিক্যাল ডকু ফিল্মে তিনিই যাত্রা করলেন অর্ণবকে নিয়ে। অর্ণবের জার্নি টা তিনি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন,বিশেষ করে আরো ভালো লেগেছে সমুদ্রের বিশালতায় অর্ণবকে মিলিয়ে দেয়ার জন্য।

অর্ণব মানে সমুদ্র,আর অর্ণবের গান মানে সমুদ্রের বিশালতায় নিজেকে পাবার মন্ত্র। সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ বেশ পরিচ্ছন্ন ভাব। চমকে গিয়েছি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তির গানের প্রসঙ্গ আসায়,এই ফিল্মে অর্ণবের গাওয়া মোট ১২ খানা গান আছে। অর্ণবের গানে তো নতুন করে মুগ্ধ হওয়ার কিছু নেই,ওটা সব সময় ই করে।

গানের আয়োজন ভালো,সুনিধি নায়েক কেও পেলাম। তবে মিস করলাম বন্ধনের সেই নষ্টালজিয়া গান ‘ব্যস্ত শহরে’,এই গান টা থাকলে মনে হলো আরো পরিপূর্ণ হত। এই ধরনের মিউজিক্যাল ফিল্মের যাত্রা শুরু হল মাত্র,আশা করি সঙ্গীত জগতের মহারথীদের নিয়ে এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

চরকির আসে এই প্রত্যাশা রইলো

চরকির আসে এই প্রত্যাশা রইলো,হয়ে যাক আর্কাইভ হয়ে থাকার জন্য এক ক্ল্যাসিক মিউজিক্যাল ডকু ড্রামা সিরিজ। স্রষ্টার সৃষ্টি ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। হলো মধু মাসে বিয়া বাসর সাজাই মধু কলস দিয়া, হলুদচন্দন দিয়া চান্দের নন্দন বরণ করি গিয়া, ধনপতির কইন্যা যে সোন্দর চান্দের নন্দন জামাই লখিন্দর।

তার চলচ্চিত্রে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের বাইরের সম্পর্ক, নারীর ক্রমশ নারী হয়ে ওঠা- এসবই বিষয় বিভিন্ন সময়ে উঠে আসত। ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাড়িওয়ালি মুক্তিপ্রায় ২০০০ সালে। যার মূল চরিত্র অভিনয় করেছিলেন কিরন খের, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।

এই সিনেমায় কিরণ খের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী আর সুদীপা চক্রবর্তী পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। বাড়িওয়ালি সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয় একদা সম্ভ্রান্ত বংশের অবিবাহিত ও নিঃসঙ্গ মাঝবয়সী নারী বনলতাকে (কিরণ খের) কেন্দ্র করে।

সিনেমার শুরুর দৃশ্যেই দেখা যায়, গৃহকর্মী প্রসন্ন সেটেলমেন্ট অফিসারকে বাড়ি ঘুরিয়ে দেখানোর সময় জানায়, বনলতাদের বংশে পুরুষদের অকাল মৃত্যুর অভিশাপ আছে। সেই অভিশাপের ছায়া পড়ে বনলতার বিয়েতেও। সেই থেকে তার এই একাকীত্ব জীবন। বনলতার বিয়ের আগে তার স্বামীকে সাপে কাটে।

বিধবা না হয়েও বনলতা অনেকটা বিধবাদের মত জীবন যাপন করে। এরপরে বনলতার বাড়িতে চোখের বালি মুভির শ্যুটিংয়ের অনুমতি নিতে আসেন দীপঙ্কর (চিরঞ্জিত চক্রবর্তী) নামক পরিচালক। বনলতার একঘেয়ে জীবনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয়।

কখনো কখনো এমন মানুষ আসেন গানের জগতে

শ্যুটিং টিমের সাথে নিজের অজান্তেই

শ্যুটিং টিমের সাথে নিজের অজান্তেই মিশে যায় সে। প্রবল ব্যক্তিত্বে অধিকারী দীপঙ্করের প্রতি বনলতা আগ্রহবোধ বাড়তে থাকে। একদিন কাজের মেয়ে মালতী জানায়, দীপঙ্কর বিবাহিত এমনকি এই সিনেমার নায়িকা সুদেষ্ণার (রূপা গঙ্গোপাধ্যায়) সাথেও তার একসময় প্রেম ভালোবাসা ছিলো।

স্বভাবতই বনলতার মনে তা ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে বনলতা জানতে পারে, স্ত্রীর সঙ্গেও দীপঙ্করের আক্ষরিক অর্থে কোনো সম্পর্কই নেই যদিও আইনগতভাবে তারা আলাদা হয়ে যায়নি। ঘটনাচক্রে শ্যুটিংয়ে এক নারী অভিনেত্রী আসেননি, দীপঙ্কর তখন দারস্থ হন বনলতার।

পুরো সিনেমায় তিনটি স্বপ্নদৃশ্য রয়েছে। এই স্বপ্নগুলোই বনলতার মনঃস্তত্ত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রথম স্বপ্নদৃশ্যে আমরা দেখি, বনলতা হাজির হয় হলুদ মাখা মুখে। ঠিক তার বিয়ের আগের দিনের মতো। এরপর মালতীকে সে অনুরোধ জানায় যেনো বরপক্ষকে কলাপাতায় খাবার পরিবেশন করে।

Capturefrt5yse

মালতী জানায়- ওরা খাবেনা, লুচিতে বেড়ালে মুখ দিয়েছে।  মালতী প্রসন্নের কাছে গিয়ে আবারো কলাপাতা চায়, নারীর পোষাক পরিহিতা প্রসন্ন উত্তর দেয়- এ কলাগাছ তো দেয়া যাবেনা দিদি[। ভেলা তৈরি হবে যে, সাপে কাঁটা মরা তো তাই কলার ভেলায় ভাসিয়ে দিতে হবে।

মুহুর্তেই কলাপাতা ভিন্ন অর্থ ধারণ করলো। খাবার পরিবেশনের পাত্র থেকে হয়ে উঠলো মৃতদেহ ভাসানোর পাত্র। প্রাচীনকালে সাপে কাঁটা দেহ ভাসানোর জন্য কলাগাছের ভেলা ব্যবহৃত হতো, স্বপ্নের এই অংশে তাই দেখতে পাওয়া যায়। মানব মন সারা জীবন আশ্রয় খুঁজতে থাকে। বনলতাও আশ্রয় খুঁজতে চায় পুরুষালি বলিষ্ঠ কন্ঠের দীপঙ্করে কাছে।

সিনেমার শেষ দৃশ্যে খালি বিছানাটা যেন মানুষের একাকীত্বকেই নির্দেশ করে। বনলতার চরিত্র দিয়ে ঋতুপর্ণ ঘোষ আমাদের জানায়, নারীর একাকীত্বের কথা। আর আমার সেই পরিচিত মাঝবয়সী নারীও জানায়, তুমি পুরুষ মানুষ, তুমি চাইলেও নারীর একাকিত্ব বুজতে পারবে না।

চোখের জলে ভাসায় বাপে মায় পতির

চোখের জলে ভাসায় বাপে মায় পতির সনে চাঁদের পুরী যায়, মধুমাসে মধুরও মিলন কলস কলস মধুর আয়োজন বাপের সোহাগ মায়ের আদর বাড়ে, ভাঙ্গা কপাল কেমনে জুড়িবারে।চারিদিকে ই কমার্স সাইটগুলোর রমরমা দুর্নীতি ঘাটতে ঘাটতে নেটপিক্সের Bad boy billionaires:India ডকুমেন্টরি সিরিজ চোখে পরল  দেরি না করে দেখে ফেললাম।

যদিও আরো ডিপ ইনফরমেশন থাকলে বেটার হত শেষ করার পর ভাবতেসি যে এমন দুর্নীতি নিয়ে সিরিজ বাংলাদেশে করলে মিনিমাম ১০০ পর্ব ছাড়িয়ে যাবে। যাইহোক সিরিজের ঘটনাগুলো ভারতের সবচেয়ে বিত্তশালী, সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু মানুষের যারা তাদের বিয়ে-জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বলিউড সেলেব্রিটিদের দিয়ে খাবার পরিবেশন করায়। নিজের এন্টারটেইনমেন্টের জন্য ক্রিকেট টিম কিনে ফেলায়, হলিউড সেলেব্রিটিদের দিয়ে হেপিবাড্ডে গাওয়ায়।

থাকার জন্য একজন হয়ত আরবসাগরের পাড়ে বাড়ি বানায় ফালায় কিংবা একজন পুরো ডিজনি লাইক শহরই গড়ে তোলে। আমাদের দেশের মোটিভেশনাল স্পিকাররা তাদের মোটিভেশনের মাধ্যমে যাদের বৃত্তান্ত তুলে এরা তারাই কিংবা তাদের চেয়েও দশ-বারগুন সফল। কিন্তু এত সব সফলতা কিংবা এত অর্থই তাদের করে তুলেছে লোভী,এরোগেন্ট বা কারও মাঝে নিয়ে এসেছে God Complex

উপরে থাকার জন্য জন্য রুল বেন্ড করতে, প্রতারনা করতেও তাদের খুব একটা বাধে না।বড় বড় মানুষের প্রতারনা গুলোও হয়ত বড় বড় ই হয়। তাদের প্রতারনা গুলো ১-২ টাকার নয়,তাদের প্রতারনা গুলো ৯০০০ কোটি টাকা বা ১১০০০ কোটি টাকা বা ১৫০০০ কোটি টাকার  ভারতের এরকম চার কুখ্যাত বিলিয়নার নিয়েই তৈরি নেটফ্লিক্সের নতুন ডকুমেন্টারি  Bad boy billionaires:India

এখানে ফিচার হয়েছেন  King of good times নামে খ্যাত বিজয় মালেয়া, Diamond king খ্যাত নিরভ মোদী, ভারতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান সাহারার চেয়ারম্যান সুব্রত রয় এবং সত্যম কম্পিউটারের চেয়ারম্যান রামালিঙ্গাম রাজু। চার এপিসোডের এই সিরিজের তিনটি এপিসোড রিলিজ হয়েছে।রামালিঙ্গাম রাজুর এপিসোডটি আইনগত কারনে হোল্ড রাখা হয়েছে।

পোষ্টটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য আমাদের পেজের সঙ্গে থাকুন আর আপনার কোন মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে চাইলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.