‘গ্র‍্যান্ড হোটেল’ নামের এক আভিজাত্যপূর্ণ,

মুক্তির দিক থেকে এটিই চলচ্চিত্র ইতিহাসের প্রথম অ্যান্থলজি সিনেমা। ‘গ্র‍্যান্ড হোটেল’ নামের এক আভিজাত্যপূর্ণ, গৌরবান্বিত হোটেলে আসা অনেক অনেক মানুষের মাঝে ৫ জন মানুষের গল্প নিয়েই এই সিনেমা। সেই গল্পগুলো দর্শক একজন ডাক্তারের দৃষ্টিকোণ ধরে দেখে। বার্লিনে অবস্থিত এই গ্র‍্যান্ড হোটেলের পার্মান্যান্ট একজন অতিথি সে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়েছিলেন তিনি। মুখের এক অংশ পুরোপুরিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যুদ্ধেই। তিনি এই হোটেলে থেকে হোটেলের সব মানুষকে পর্যবেক্ষণ করেন। তাই সিনেমার ন্যারেটিভে তারও একটা যোগ আছে।

তারপর আরেকজন হলো ব্যালে ড্যান্সার

মূল ন্যারেটিভ থার্ড পার্সন ধরেই এগোয়। এই ৫ মানুষের মাঝে একজন হলো, ব্যারন। জুয়াড়ি এবং স্বর্ণচোর। তারপর আরেকজন হলো ব্যালে ড্যান্সার গ্রুসিন্সকায়া। ক্যারিয়ারের শেষভাগে চলে এসেছে এই ড্যান্সার। গ্র‍্যান্ড হোটেলের আভিজাত্যের আড়ালে একাকীত্ব আর বিষাদই যার নিত্য সঙ্গী। এই ড্যান্সারের প্রেমময় সম্পর্ক তৈরি হয় ব্যারনের সাথে। ব্যারন নিজের ঋণ পরিশোধ করতে গ্রুসিন্সকায়ার রুমে আসে হিরে চুরি করতে। ওমন সময়ে চলে আসে গ্রুসিন্সকায়া। পর্দার আড়ালে লুকিয়ে তার দুঃখ, বিষাদের কথা শুনে ব্যারন। এবং নিজের পরিচয় উন্মোচন করে, চায় তার সঙ্গী হতে।

hotel

তার এক বিশেষ মানসিক অবস্থার

এই ব্যারনের বন্ধুত্ব হয় আবার ক্রিংগেলাইনের সাথে, যে ছিল একজন একাউন্ট্যান্ট। জীবনের সবটাই তার কাটাতে হয়েছে দরিদ্রতায়। শেষ বয়সে, রোগটাও জেঁকে বসেছে শরীরে ভীষণ। টাকা কিছু হাতে তখনই এলো। ক্রিংগেলাইন তাই সিদ্ধান্ত নিল, শেষ কয়টা দিন সকল জাঁকজমকতাকে পুষে নিয়ে কাটাবে। ওদিকে একই হোটেলে উঠে ক্রিংগেলাইনেরই বস। সাম্রাজ্যবাদী, জেনারেল ডিরেক্টর প্রিসিং। ক্রিংগেলাইন তার কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও শ্রমটা শুষে নিয়ে, কখনো নাম জানার চেষ্টা করেনি প্রিসিং। প্রিসিং আর ক্রিংগেলাইনের সেই দ্বন্দ্ব এবার অভিঘাতী হয়ে উঠে। পিকচারে ঢুকে আরো একটি চরিত্র।

ফ্লেম্যাচেন। একজন শ্রুতিলেখিকা। পাশাপাশি মডেলও। তাকে পছন্দ হয় প্রিসিং’য়ের। সে আবার ব্যারনের প্রতি একটা অব্যক্ত ভালোবাসা অনুভব করে। সিনেমা এগোতে এগোতে দৃশ্যপটে ঢোকে অনেক জটিলতা। গ্রুসান্সকায়াকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করবার প্রতিশ্রুতি করা ব্যারন, ধার মেটাতে আর ট্রেনের টিকেটের টাকা জোগাড় করতেই একটা শেষ জুয়া খেলতে নামে। ক্রিংগেলাইনের ভাগ্য খুলে যায় আরো। সাথে তার আর প্রিসিংয়ের দ্বন্দ্বটাও আরো বেড়ে চলে। সময় গড়াতে গড়াতে এখানে হয় একটি খুন। বিষাদটা তখন হয়ে উঠে আরো গাঢ়।

আলাদা আলাদা গল্পের অ্যান্থলজি নয়

‘গ্র‍্যান্ড হোটেল’ ঠিক আলাদা আলাদা গল্পের অ্যান্থলজি নয়। একটা সিঙ্গেল থিমের ভেতরেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের জীবন ঢুকে পড়ে এবং একটা নেটওয়ার্ক ন্যারেটিভ গড়ে উঠে। সমান্তরালে, সমানভাবে সবকয়টি চরিত্রচিত্র চলতে থাকে। প্রায় ২ ঘন্টা দৈর্ঘ্যের এই সিনেমায় ক্লেশিত হবার মতো সুযোগ তো ছিল, কিন্তু শেষত তেমনটি হয় না। কারণ পরিচালক এডমুন্ড গোল্ডিং-এর ধূর্ত এবং বুদ্ধিদীপ্ত পরিচালনা। আর চমকপ্রদ অভিনয়শিল্পী সকল। গ্রেটা গার্বো, জোয়ান ক্রফোর্ড, জন ব্যারিমোর, লাওনেল ব্যারিমোর; সকলেরই সুদক্ষ অভিনয়শৈলী। গার্বোর চরিত্রটাকে মঞ্চ অভিনয়ের ঢঙেই রূপায়ন করা হয়েছে, সিনেমাটা মঞ্চনাটকেরই সিনেম্যাটিক অভিযোজন।

এবং তার অভিনয়ে মঞ্চের সেই ব্যাপারটা ছিল। আর পোশাকের সেই আড়ম্বরতা তো চোখে তাক লাগায়। ব্যারন চরিত্রে জন ব্যারিমোরের অভিনয় চরিত্রটাকে জীবন্ত করার পাশাপাশি, তার অ্যাকশনের প্রতি দর্শককে সমব্যথীও করতে পেরেছেন। জোয়ান ক্রফোর্ডের চরিত্রটার সাথে সহজে সম্পৃক্ত হওয়া যায়, তার অভিনয়শৈলীর কারণে। ক্রিংগেলাইন চরিত্রে লাওনেল ব্যারিমোর আবেগের গোটা গ্যামাট’টা ধরেই রীতিমতো অভিনয় করেছেন। তার হতাশা, সাম্রাজ্যবাদী বসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, জেতার উৎসব; সবটাই অভিব্যক্তিপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার অভিনয়ে।

একদিন রাতুল এবং তার বাবা সাইকেলে করে যাচ্ছিলো। হঠাৎ রাতুলের বাবা দেখেন তাদের বাড়ির সামনেই কয়েকজন লোক দাড়িয়ে আছেন। লোকগুলো রাতুলের বাবাকে জিজ্ঞেস করলো সমুদ্রের পানি বেড়ে যাওয়ার খবর সত্যি নাকি। রাতুলের বাবা উত্তরে বলেন সমুদ্রের পানি বেড়ে যাওয়ার খবর সত্যি এবং কক্সবাজারে তারা যেখানে থাকে সেই জায়গাও পানির তলানিতে ডুবে যাবে। এক রাতে রাতুলের সামনে এক বৃদ্ধের আগমন ঘটে। বৃদ্ধ রাতুল কে বলে মানুষের অবহেলার কারণে পৃথিবী এখন ধ্বংস হওয়ার মুখে। রাতুল জানতে চায় কীভাবে পৃথিবী কীভাবে ধ্বংসের মুখে।

তখন বৃদ্ধ রাতুল পৃথিবী কীভাবে

তখন বৃদ্ধ রাতুল পৃথিবী কীভাবে ধ্বংস হচ্ছে তা দেখানোর জন্য নিয়ে যায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এর উপর মুভি তৈরি করা খুবই ইতিবাচক। কারণ শুধু বই খাতায় লেখে পড়ে কিংবা র‍্যালি আয়োজন করে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব সম্পর্কে জানা বা বুঝা যাবে না। অ্যানিমেনেটেড মুভি হওয়ায় বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও খুব সহজে বিষয় টা বুঝতে পারবে। মানুষের জ্ঞানহীন কর্মকান্ডের পরিণতি কী হতে পারে তা খুব ভালো ভাবে বুঝানো হয়েছে। আরো বুঝানো হয়েছে কীভাবে এই ভয়ানক অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করে পৃথিবীকে আগের মতো সুন্দর করা যাবে।

grand

ইতিমধ্যে অনেকেই জেনে গেছেন এই মুভিটি Cannes World Film Festival এ বেস্ট অ্যানিমেশন ক্যাটাগরিতে জয়লাভ করেছে। এই খবর শোনার পর ইউটিউবে মুভিটি আবার রি ওয়াচ করলাম। যারা এখনো দেখেননি তারা মাত্র ২৫-২৬ মিনিট সময় ব্যয় করে নিজ দেশের তৈরি করা একটি ভালো মানের এনিমেশন সিনেমা দেখে নিতে পারবন। বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষায় রয়েছে অভিনন্দন জানাই নির্মাতাদের এবং এইভাবেই এগিয়ে যান  চেন্নাই শহরের মাঝখানে একটা ব্রিজ! ইউটার্ণ নিতে হলে ব্রিজ পার হয়ে খানিকটা ঘুরে আসতে হয়। কিন্তু লোকজন এতটা কষ্ট করতে রাজি না।

ফলে ইট দিয়ে বানানো রোড ডিভাইডার থেকে কয়েকটা ইট সরিয়ে ব্রিজের মাঝখানেই তারা ইউটার্ন বানিয়ে ফেলে! এটা প্রতিদিনের দৃশ্য! তারপর সারাদিন ধরে হাজারো গাড়ি সেই ফাঁকা জায়গা দিয়ে ঘুরতে থাকে! ফলে এক্সিডেন্টও হয় দেদারসে! একটা দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক শহরের মাঝখানে এত এত সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেমে খুঁজে পায় ভয়ানক এক কাহিনি! একটা পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার গল্প, যাদের রয়েছে ছোট্ট এক রাজকন্যা। সেই ঘটনার সাথে জড়িয়ে যায় পুলিশ! আপনারা নিশ্চয়ই ধরে ফেলেছেন গল্পটা? সামান্থা আক্কেনেনির অভিনীত সাউথ ইন্ডিয়ান থ্রিলার ‘ইউটার্ন’!

একবার দেখা শুরু করলে এই থ্রিলার

একবার দেখা শুরু করলে এই থ্রিলার থেকে চোখ ফেরানো অসম্ভব! বাইক এক্সিডেন্ট নিয়ে এত অসাধারণ গল্পের সিনেমা আর হয়েছে কিনা জানা নাই! গত কোরবানির ঈদে কুমিল্লায় গিয়ে ছোট ভাইয়ের বাইকে চড়েছিলাম কয়েকবার! গতিই যেন ওর প্রাণ, আর সাথে হেলমেটের প্রতি তীব্র অনীহা। একবার কুমিল্লা শহর থেকে বেরিয়ে ঢাকা চিটাগং হাইওয়ে ধরে বাড়ি ফিরছিলাম। এত তীব্র গতিতে ও ছুটল, আমি বাধ্য হয়েছিলাম রাস্তায় নেমে যেতে! কোনওভাবেই বাকি পথ ওর পেছনে বসে যেতে রাজি হইনি! বাড়ি ফিরে ইউটার্ন মুভিটা ওর ইনবক্সে পাঠিয়েছিলাম।

কিছু নতুন পরিচালক এর আবির্ভাব ঘটেছে

দেখেছে কিনা, সেটাও ফলোআপ করেছি! ধারণা ছিল, ওর নিজেরও ছোট ছোট দুটো বাচ্চা আছে! এই মুভিটা দেখলে যে কারো মনস্তত্ত্বে বড়সড় ধাক্কা লাগবে! ও মুভিটা দেখে নাই। দেখলে কি হত সেটা জানিনা। কিন্তু না দেখার কারণে আজ ওর দুটো ছোট ছোট বাচ্চা পিতৃহীন! তার চার বছর বয়সী পুত্র আমাকে ফোন দিয়ে বলছে, ‘জেয়া, বাবাতো ঘুমাচ্ছে! প্রতিদিন তাকে গিয়ে এত ডাকি সে ঘুম থেকে উঠে না ক্যানো? এত ঘুম কেনো ব্যাটার?’ আজ উত্তরায় সেক্টর ১৮তে যাওয়ার পথে দেখি, দুটো রিকশার সাথে দুরন্ত ছুটেচলা বাইকের সংঘর্ষ। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো বাচ্চা দুইটা ছেলে দুরে বসে কাতরাচ্ছে! রিকশায় ছিল চারজন নারী, দুইটা শিশু।

সবার হাত পা ছিড়ে একাকার। আশেপাশের লোকজন ছুটে এসেছে ওদের বাঁচাতে। ওরা খুব ভাগ্যবান। একটা জনবহুল জায়গায় এক্সিডেন্টটা হল। কিছু লোক আসল ওদের উদ্ধারে! যদি সেটা হাইওয়েতে হত? জনহীন কোনও জায়গায়? কতক্ষণ যে পড়ে থাকতে হত কে জানে! আবার কোন গাড়ি এসে আরেকবার চাপা দিয়ে চলে যেত! হয়তো একবার, শেষবারের মত মাথাটা তুলে পৃথিবীটা দেখার সাধ জাগতো! কিন্তু ততক্ষণে মাথাটার ওজন যে কয়েক টন হয়ে গেছে! সেটা তোলার সাধ্য কার? আর এভাবে, কিছু জীবন খুব ভয়ানকভাবে অপচয় হয়ে যেত, চিরকালের জন্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *