জনরা কাজের মাঝেই একটা ফ্রেশ

রব গ্র‍্যান্টের ‘হারপুন’ (২০১৯) সিনেমাটা খুব সারপ্রাইজ করেছিল। জনরা কাজের মাঝেই একটা ফ্রেশ, বুদ্ধিদীপ্ত কাজ ছিল। ‘অ্যালাইভ’ (২০১৮) ওই সূত্রেই দেখা হয়েছে। গোর, ভায়োলেন্স, থ্রিলের আরেকটি ভালো ‘বি-মুভি’। ‘হারপুন’ সিনেমায় ভায়োলেন্সটাকে সে খানিকটা অন্যভাবে ব্যবহার করার পাশাপাশি অবশ্যম্ভাবীও করে তুলেছিল। এটায় ব্যবহার করেছে, একদম সরাসরি, স্ল্যাশারের কঠিন অনুরক্তিতে। প্রিমাইজটা এমন, এক পুরুষ আর এক নারী একটা পরিত্যক্ত হাসপাতালে নিজেদের আবিষ্কার করে। নিজেদের শরীরের পরিবর্তন তারা দেখতে পায়।

ধীরেধীরেই ভয়াবহ সত্যের উন্মোচন

পূর্বেকার কোন স্মৃতি তাদের স্মরণে নেই। এক অদ্ভুতুড়ে কেয়ারটেকার তাদের দেখাশোনা করে। ধীরেধীরেই ভয়াবহ সত্যের উন্মোচন তারা করে। এবং ক্লাইম্যাক্সে গিয়ে খুবই অপ্রত্যাশিত একটি টুইস্ট দিয়ে শেষ হয় সিনেমা। ‘অ্যালাইভ’-এর চিত্রনাট্যে সীমাবদ্ধতা আছে। সংহতি’টা থাকেনি সবসময়। তৃতীয় অংক অবশ্য সেসবকে ভুলিয়ে দেবার ভালো প্রচেষ্টা করেছে। তবে মূল ব্যাপার হলো, রব গ্র‍্যান্ট যা করতে চেয়েছেন, সেটা পেরেছেন। একটু ক্লেশভাব জাগিয়ে হলেও। সিনেমার আবহে অস্থিরতা’টা মাঝেমাঝে একটু পড়ে গেলেও, খুব তড়িৎই আবার সেই নার্ভ ধরতে পেরেছে।

w

আমার দেখা বাংলা সিনেমা গুলোর মধ্যে

‘হারপুন’-এ রব গ্র‍্যান্ট যতটা দক্ষ ক্রাফটম্যানশিপ দেখিয়েছিলেন, এটায়ও তেমনই আছে। আর ক্লাইম্যাক্স তো অবশ্যই উত্তেজনাপূর্ণ এবং সন্তুষ্টি দেওয়ার মতো। ওটাতে লক্ষ্য রেখেই আবহ’টা তৈরি করেছেন। উপভোগ্য জনরা সিনেমাই হয়েছে।১ লক্ষ ৩০ হাজার ৭৭২ জনের রেটিং এর ভিত্তিতে। Dara of Jasenovac সিনেমায় দেখেছিলাম বিভিন্ন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প থেকে বাচ্চাদের জার্মানিতে নিয়ে আসা হতো দত্তক নেওয়ার জন্য। লিজেল নামের এক মেয়েকেও এভাবে এনে দত্তক দেওয়া হয় এক জার্মান পরিবারে হয়তো ।

( এই সিনেমার সাথে Dara of jasenovac এর কোন সাদৃশ্য নেই বা ওইটার কোন সেকেন্ড পার্ট না)। কিছুদিন বাদেই হিটলারের ইহুদি নিধনের সময়ে সেই জার্মান দম্পতি তাদের বেসমেন্টে আশ্র‍য় দেয় ম্যাক্স নামে এক ইহুদি ছেলে কে। সেখানেই ম্যাক্সের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে উঠে লিজেলের। এতদিন ম্যাক্স কে লুকিয়ে রাখার পর শেষ পর্যন্ত কি নাৎসিদের হাত থেকে বাচাতে পারে ওরা? এই সিনেমায় তৎকালীন হিটলারের সময়ের জার্মানির সামাজিক ও বাস্তব চিত্র গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

সবচেয়ে নজর কেড়েছে যে বিষয় টা

সবচেয়ে নজর কেড়েছে যে বিষয় টা সেটা হলো সকলের ন্যাচারাল এক্টিং,বিশেষ করে লিজেলের অভিনয় ছিলো দুর্দান্ত। সব বুঝলাম কিন্তু এই সিনেমার নাম বইচোর কেন? Well, সেটা জানার জন্য সিনেমা দেখতে হবে।গ্যাংস্টার সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফক এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা সিনেমার একটি। Robert De Niro সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য, Ray Liotta এর হাসি কিংবা Joe Pesci এর রাগি স্বভাব সিনেমাকে কালজয়ী করে রেখেছে। Martin Scorsese এর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ মুভির একটি ধরা হয়। ২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলারের বাজেটে তৈরি করা এই মুভি বক্স অফিসে ৪৭ মিলিয়নের অধিক গ্রোস তুলতে সক্ষম হয়।

Best Director এবং Best Picture ক্যাটাগরি সহ Academy Awards এ সর্বমোট ৬ টি নমিনেশন অর্জন করে। যার মধ্যে Joe Pesci Best Supporting Actor এ পুরস্কার জয় করেন। Bafta থেকে ৫ টি পুরস্কার জিততে সক্ষম হয়। বিভিন্ন মুভি এবং টিভু সিরিজকে অনুপ্রাণিত করেছে।এ মুভি দেখার জন‍্য ডিরেক্টর হিসেবে Night Shyamalan এর নামের তকমাটাই আমার কাছে যথেষ্ট ছিল! আর ট্রেলারটা চমৎকার ছিল যে সাতপাঁচ না ভেবেই বসে গিয়েছিলাম স্ক্রিনের সামনে। গাই-প্রিসকা দম্পতির এটাই সন্তানদের সাথে একসাথে কাটানো শেষ ছুটি! সেপারেশনের আগে তারা তাদের দুই সন্তান নিয়ে কাটাতে চেয়েছে মনে রাখার মত কোন ছুটি।

হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের একটা নির্জন প্রাইভেট সীবিচ কাটানোর একটা অফার করে। সেই বিচে আসার পর থেকে ঘটতে থাকে অস্বাভাবিক সব ঘটনা। দ্রুতই বাড়তে থাকে তাদের বয়স। এই বিচে আধ ঘন্টা দুবছরের মত! এ যেন একদিনেই তারা তাদের পুরো লাইফ টাইম যাপন করে ফেলছে! সময়ের সাথে সাথে শিশুরা হয়ে যাচ্ছে তরুণ আর মধ‍্যবয়সীরা বৃদ্ধ! কি করে পালাবে এ জায়গা থেকে! নাকি একের পর এক মারা পরবে এখানেই! আমরা কেবল ভবিষ্যৎ আর অতীত নিয়েই ভাবি। কিন্তু বর্তমান টা যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা বোধ হয় ভুলে যাই আমরা।

কি হারালাম: এভাবেই জীবন কাটিয়ে

কি পাবো,কি হারালাম: এভাবেই জীবন কাটিয়ে দেই। সুন্দর থিম নিয়ে গল্পটা। কিন্তু এক্সিকিউশনে গিয়ে কেন জানি তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন Night Shyamalan সাহেব! তাইতো অনেক হাই কনসেপ্ট থ্রিলার হওয়া সত্ত্বেও একে ঠিক আপ টু দ‍্যা মার্ক বলতে পারছি না। একই ঘটনা বার বার দেখানো, দূর্বল অভিনয়, সিলি ডায়লগ আর বড় রান টাইম সব মিলিয়ে Old আমার কাছে আশানুরূপ মনে হয়নি।অর্ণবকে নিয়ে ‘ডকুফিকশন’ ‘চরকি’ অরিজিনাল কনটেন্ট হিসাবে ওয়েব সিরিজ, ফিল্মের পাশাপাশি এবার আনতে যাচ্ছে ‘ডকুমেন্টারি ফিকশন’ যাকে মিডিয়াম ইন শর্ট ডাকা হয় ডকু ফিকশন বা ডকুড্রামা নামে।

e

আনে ডিরেক্টর ফ্রান্সিস ফোর্ড কাপেলো

আগামী বৃহস্পতিবার মুক্তি পাবে এই ‘আধখানা ভাল ছেলে, আধা মস্তান’ এর গল্প। নির্মান করেছেন আবরার আতহার। ডকুফিকশনে আপনি পুরোপুরি বাস্তবতার নিরিখে কাগজে কলমে প্রামাণ্যচিত্র দেখতে পাবেন না। আবার এটা কোন কাল্পনিক কাহিনীচিত্রও না। ডকুড্রামা নির্মিত হয় এই দুইয়ের সম্মিলনে মানে, বাস্তব ঘটনা বা ব্যক্তিজীবনকে উপজীব্য করে সিনেমাটিক স্টাইলে ফিকশনাল স্ক্রিনপ্লে দিয়ে। অর্ণবের জীবন-যাপন বাংলাদেশের আর দশজন শিল্পীর চেয়ে আলাদা। তাঁর গান যেমন আলাদা, তাঁর সুর, কণ্ঠ, কথা— আলাদা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও।

গা ভাসান না ভিউ আর জনপ্রিয়তার

নিজের মতো কাজ করেন। প্রচলিত ট্রেন্ডে তিনি নেই। গা ভাসান না ভিউ আর জনপ্রিয়তার জোয়ারেও। অর্ণব তাই অর্ণবের মতোই। এমন শিল্পীর যাপন তো শ্রোতাদের জন্য কৌতুহলের বিষয়। নির্মাতা আবরার আতাহার শ্রোতাদের সেই কৌতুহলের কথা মাথায় রেখেই ক্যাজুয়াল অর্ণবকে তুলে এনেছেন ফ্রেমে। কেমন হবে ডকুফিকশনটি? নির্মাতা আবরার বলেছেন, ”আধখানা ভালো ছেলে আধা মস্তান” ফিল্মে এক শিল্পীর জীবনের দ্বৈত রূপের মধ্য থেকে নিজের সত্তা খুঁজে বের করার গল্প দেখানো হয়েছে। এখানে আমার আর অর্ণবের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে জীবনের অনেক দোটানা আর দ্বিধার কথা উঠে এসেছে।

মূলত, আমরা সবাই আধখানা ভালো, আধা মস্তান—এই দুই সত্তার মধ্যে বাঁধা। এই ফিল্ম আমার ও অর্ণবের আত্মোপলব্ধির যাত্রা। আশা করি, সবাই এর মধ্যে নিজ জীবনের প্রেম, বিচ্ছেদ আর দোটানা খুঁজে পাবেন।’ কি কি থাকছে এই ছবিতে? ছবিতে থাকবে অর্ণবের গাওয়া জনপ্রিয় ১২টি গানের নতুন সংগীতায়োজন। সেই সঙ্গে জানা যাবে অর্ণবের জীবনের কিছু অজানা গল্প, যা শোনাবেন খোদ অর্ণব ও তাঁর কাছের মানুষেরা। নির্মাতা আবরার আতহার এ বছরের শুরুর দিকে এই ছবির কাজ শুরু করেন। ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও কক্সবাজারে এর শুটিং হয়। অর্ণবের সঙ্গে মিউজিক্যাল ফিল্মটিতে দেখা যাবে তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের। গানের অংশগুলোয় অর্ণবের সঙ্গে বাজাবেন তাঁর অর্ণব অ্যান্ড ফ্রেন্ডস গানের দলের সদস্যরা। এবার অপেক্ষা পুরো ছবির, যার মুক্তির মধ্য দিয়ে এক অজানা অর্ণবকে দেখতে পাবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলা সিনেমা ও গানপ্রেমী দর্শক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *