জীবন ও মৃত্যু একে অপরের বিপরীত

জীবন ও মৃত্যু একে অপরের বিপরীত,অথচ এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে তারা জড়িয়ে আছে একে অপরের সাথে। জন্মিলে মরিতে হবে, এটা প্রতিটি জীবের জন্যই এক চুড়ান্ত অবধারিত সত্য। আমাদের জীবনের সবারই ইচ্ছে থাকে কিছু না কিছু হওয়ার বা করার বা কোনো কিছু হাসিল করার। আমরা আমাদের সেই কাঙ্খিত জিনিসটাকে না পাওয়া অবধি দুঃখ করি, দিন রাত খাটা খাটনি করি নিজের সেই অতৃপ্ত ইচ্ছাগুলোকে পূরণের জন্য।

আচ্ছা কখনো কি এটা ভেবেছেন যে, যখন আপনি যা হতে চান, যা পেতে চান, যা করতে চান, যখন তা হাসিল করবেন তার পরে কী করবেন?। এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব জীবন ও মৃত্যু একে অপরের বিপরীত।

যেটার জন্য এতকিছু করলেন, যেটাকে মনেপ্রাণে চেয়েছেন, সেটাকে ঘিরেই তৈরি হবে আপনার পরবর্তী রোজকার জীবন। আবার অনেক ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় যে আপনি যেই আশায় এতদিন এর জন্যে ছুটেছেন সেটাকে হাতের মুঠোয় পাওয়ার পরেও আপনার আশা পূরণ হয়নি। ঠিক যেন মাছের পোনার মতো, যে সমুদ্রে থেকেও অনুধাবন করতে পরে না যে সে সমুদ্রে আছে।

সে সমুদ্র আর পানির মধ্যে ভেদ করতে পারে না। তাহলে এত পরিশ্রম কীসের জন্য ছিল? এবার আরেকটা সিচুয়েশন নিয়ে কথা বলি। আচ্ছা যদি যা হতে চেয়েছেন, যা করতে চেয়েছেন, আপনার কাঙ্খিত আশা পূরণ হওয়ার আগেই যদি আপনার মৃত্যু এসে যায়! তখন কী করবেন?

জীবন ও মৃত্যু একে অপরের বিপরীত

একবারও কি ভেবেছেন আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যে সারাটা জীবন পরিশ্রম করে গেলেন। কিন্তু সে লক্ষ্যেই আপনি পৌঁছানোর আগেই মরতে হলো আপনাকে। এইভাবে নিরন্তর সেই অপূর্ণ ইচ্ছেগুলোর পিছনে আমৃত্যু রুদ্ধশ্বাস ছুটে চললেন না। অথচ এই মাঝখানের বেঁচে থাকাকালীন সময়টাতে কিছু করলেন না, জীবন কে জানলেন না, উপভোগ করলেন না।

আশেপাশের মানুষগুলোর সাথে বা নিজের পরিবারের সাথে ঠিক মতো মন খুলে বাঁচতে পারলেন না জীবনে সত্যিকারের বন্ধু বানালেন। এমনকি আপনার লক্ষ্যে চলার পথে যারা বন্ধু হয়েছিল তারাও যেন একটা অদৃশ্য শিকলের বন্ধনে আবদ্ধ।

যতটুকু দরকার ব্যস ততটুকুর মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ সেই সম্পর্কগুলো। শুধু বন্ধুত্ব নয়, বরঞ্চ যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এগুলো দেখা যায়। অনেকটা কাজের বেলায় কাজি কাজ ফুরোলেই পাজি এমন টাইপের। নিজেদের ইচ্ছের পেছনে ছুটতে ছুটতে সম্পর্কগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সেই অদৃশ্য গণ্ডিটা ভাঙার মতো কোনও চিন্তা যেন মাথাতেই আসতে চায় না।

তাহলে আপনার জীবনের মানে টা কি রইলো? আপনার লক্ষ্যে পৌঁছালেন আর না জীবন কে উপলব্ধি করলেন। জীবন কে চেনার আগেই, বুঝার আগেই অনাকাঙ্খিতভাবে মৃত্যু এসে আলিঙ্গন করলো আপনাকে। মানুষের জন্ম একটা বিশাল ব্যাপার।

মানুষের জন্ম একটা বিশাল ব্যাপার নিয়তির টানে মানুষ তার ইচ্ছে পূরণের পথে অবিরাম ছুটতে থাকে এমনভাবে যেন সেটা পেলেই তার আত্মার শান্তি হবে এমন। কিন্তু সব হিসেব কিন্তু সবসময় মেলে না। যে জিনিসটার জন্য, যে স্বপ্ন পূরণের জন্য আপনার জন্ম হয়েছে বলে ভাবছেন, কোনো কারণে যদি সেটা পূরণ না হয়, আপনার জীবন কি থেমে থাকবে?

মোটেই না। আপনার অধরা স্বপ্ন বা ইচ্ছেগুলো কিন্তু আপনার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ নয় আর হতে পারেও না। মানুষ যদি তার জীবনে থেকে ছোট ছোট হাজারো খুশিগুলোকে কুড়িয়ে এনে প্রতিটা মুহূর্ত বাঁচতে পারে তাহলে সেই ছোট ছোট খুশিগুলোই কি মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা নয়?

জীবন ও মৃত্যু একে অপরের বিপরীত

মানুষের জীবনে স্বপ্ন দেখাও জরুরি কিন্তু তার মানে এটা নয় যে জীবনটাকে উপভোগ করা যাবে না। মানুষ তার ইচ্ছে গুলো পূরণ করতে পারলেই যে সে সব পেয়েছির দেশে পৌঁছে যাবে এমন নয়। সবকিছু পেয়েও মানুষ কিন্তু পূর্ণ হতে পারে না। কিন্তু যদি আপনি আপনার জীবনটাকে নিজের মতো করে উপভোগ করতে পারেন, সেই সব ছোট ছোট খুশিগুলো একসাথে জড়ো করে দেখেন, দেখবেন সেই খালি খালি ভাব টা আর থাকছে না। আর আপনার সাথে নানান সম্পর্কের শেকলে আবদ্ধ মানুষগুলোর কথা ভাবুন।

এক্সঝফঝ

তাদের সাথে সাধারণত যেসব কারণে আপনি কথাবার্তা বলেন, একটু সেইসব কারণগুলোর শেকল ভেঙে অন্য কিছু নিয়ে কথা বলুন, হাসুন। সেগুলো কিন্তু আপনি আর আপনার সেই চেনা পরিচিত মানুষগুলোরও খুশির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। খালি যে আপনার নিজের দরকার সেরেই চলে গেলেন, সেটাই কিন্তু সব না।

আপনার চিরচেনা আপন মানুষগুলোর সাথে অভিমান করা, হিংসা করা, ঝগড়া করা, আবার যত্ন করা, ভালোবাসা মাখা শাসন করা, এই যে ছোট ছোট ভালোবাসার মুহূর্ত গুলোই কিন্তু পারে সম্পর্কের শেকল গুলো ভেঙে জীবন কে ছোট ছোট আনন্দে ভরিয়ে তুলতে।

আমাদের এই পোষ্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে আমাদের পেজে সঙ্গে থাকতে হবে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.