বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

হযরত মুহাম্মদ  সা: এর একজন প্রিয় সাহাবী ছিলেন বেলাল রাঃ। তার কণ্ঠস্বর এতই সুমধুর ছিল যে তিনি আযান দিলে আর আজান আল্লাহর আরশ পর্যন্ত শোনা যেত।  হরযত মোহাম্মদ সাঃ  জীবন কালে  হযরত বেলাল রাঃ কে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার সুমধুর কন্ঠে আযান দেওয়ার জন্য।

হযরত বেলাল রাঃ আমাদের প্রিয় নবীর এ নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করেছেন তিনি মক্কাতে প্রতিদিন পাঁচবার তার সুমধুর কন্ঠে আযান দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত নিয়ে আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আজ আমরা হযরত বেলাল রাঃ তা’আলা সুমধুর কন্ঠে আজান নিয়ে আলোচনা করব।

বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

নবীজী সাঃ এর ইন্তেকালের হযরত বেলাল রাঃ আনহু প্রায় পাগলের মত হয়ে গেল। তিনি ব্যাগ গুছিয়ে কোথায় চলে যাচ্ছেন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু ডেকে তাকে জিজ্ঞেস করলেন,হে বেলাল তুমি কোথায় যাচ্ছ। তিনি বলেন যে দেশে আমার প্রাণের নবী নেই সেখানে আমি থাকবো না কোথায় যাচ্ছি আমি তার কিছুই জানিনা এরপর তিনি মদীনা থেকে দামেস্কে চলে যান।

নবীজী সাঃ এর ইন্তেকালের হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রায় পাগলের মত হয়ে গেল। তিনি ব্যাগ গুছিয়ে কোথায় চলে যাচ্ছেন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু ডেকে তাকে জিজ্ঞেস করদেক,হে বেলাল তুমি কোথায় যাচ্ছ। তিনি বলেন যে দেশে আমার প্রাণের নবী নেই সেখানে আমি থাকবো না কোথায় যাচ্ছি আমি তার কিছুই জানিনা এরপর তিনি মদীনা থেকে দামেস্কে চলে যান। 

হযরত বেলাল রাঃ শৈশবকাল ও ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে হযরত বেলাল রাঃ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাতিতে  একজন আফ্রো- আরব। তার পিতার নাম ছিল রাবাহ ও মাতার নাম হল হামামা।  তার পিতা একজন ক্রীতদাস হলেও মাতা ছিলেন একজন শাহজাদী। ছোটকাল থেকেই হরযত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা কণ্ঠ ছিল সুমধুর।

তিনি তার কণ্ঠের জন্য ছোটকাল থেকেই সবার কাছে অনেক প্রিয় ছিলেন। তাহার মধুর আযানের ধ্বনিতে সমগ্র ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের হৃদয়ের আকুল হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই ধারণা করেন যে হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তালা ছিলেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। তিনি একজন ইসলামের খেদমতকারী ছিলেন ও ইসলামের জন্য আমৃত্যু পর্যন্ত তিনি সাহসী যোদ্ধার মত লড়াই করে গিয়েছেন।

570 খ্রীষ্টাব্দে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সালাম জন্মগ্রহণ করেন। সেই বছরই আবরার বাদশা বিরাট হাতি বাহিনী নিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে আক্রমণ চালায়। তার  বিশাল হাতি বাহিনির কারনে মক্কা বাসী আতঙ্কিত হয়ে যায়। মক্কা নগরী আল্লাহর ঘর কাবা শরীফকে আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতেই রক্ষা করেন এবং পরবর্তীতে আব্রাহা বাহিনী নিয়ে পলায়ন করেন।

এই ঘটনার কথা মুসলমানদের পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা ফীল নামে উল্লেখ করা হয়েছে। যার আরবি শব্দের অর্থ হচ্ছে হাতি। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আব্রাহার  সমস্ত বাহিনী পালিয়ে গেলেও যারা পালাতে পারলো না তারা আবরার হাতে বন্দী হয়। এই ঘটনাক্রমে  হযরত বিলাল রাদিআল্লাহু তা’য়ালা মাতা শাহজাদী হামামা দাসী হন।

তিনি ছিলেন আব্রাহার আপন ভাতিজি কিন্তু ভাগ্যের কর্মক্ষেত্রে তিনি দাসী তে রুপান্তরিত হয়। তাকে বিক্রি করা হয়, তিনি হলেন একজন সৌদি আরবের সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের একজন ব্যক্তি।  সেখানেই আবার আরেক দাস কাজ করতো এবং পরবর্তীতে তাদের বিয়ে হয়।  তাদের ঘরে জন্ম নেয় ইসলামের এক নিষ্ঠুর কান্ডারী ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তালার।

তার সম্পর্কে বিভিন্ন বইয়ে লেখা হয়েছে তা থেকে জানা যায় তার গায়ের রঙ ছিল দীর্ঘ ছিল কালো,  লম্বা মাথার চুল ঘন কালো চুল ও  লাল হিজাব সবসময় ব্যবহার করতেন।  শিশু বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলার  মা-বাবা হঠাৎ করে পাড়ি জমায় না ফেরার দেশে এবং ঘটনার ক্রমবিকাশে হযরত বিলাল রাদিআল্লাহু তা’য়ালা হয়ে যায় একজন দাস।

বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

একজন দাস হিসেবে হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা শৈশবকাল বেড়ে চলে গিয়েে। হঠাৎ একদিন তার মনিব মারা যায় এবং মনিবের  পুত্র হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু উপর নির্মম ভাবে নির্যাতন শুরু করে। কিশোর হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা   কাছে ছোট্ট একটু ভুল পেলেই তার ওপর নির্যাতন চালাতেন। এক সময়  জুলুম আর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেল। হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা  মনে হলো এটা মানুষের জীবন নয়, বাঁচতে মানুষের মতোই সম্মান নিয়ে বাঁচতে হবে।

দুঃখ কষ্টের কথা মাথা উঁচু করে  বলতে শুরু করলেন বন্ধু আম্মার ইবনে ইয়াসইনকে বলল। আর এভাবেই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাম এর কাছে পৌঁছে যায় হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলার অত্যাচারের কথা। পরবর্তী সময়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাম তাদের দুই বন্ধুকে দাস হিসেবে মুক্ত করে দেয়।

তারা দুজনেই ইসলাম প্রচার এবং ইসলামের ভিত্তি প্রস্থর মজবুত করার জন্য সাহসী যোদ্ধা হিসেবে হযরত মুহাম্মদ সঃ ইসলামের পাশে সব সময় ছিলেন।  হযরত মুহাম্মদ সাল্লাম তার সুমধুর কন্ঠের জন্য পবিত্র মক্কা নগরীতে আজাদ দেওয়ান নির্দেশ করে।

হযরত বেলাল রাঃ এর বিবাহ

কিছুদিন পর বেলাল রাঃ তা’আলা আনহু স্বপ্নে দেখলেন যে ,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলছেন বেলাল তুমি আমাকে দেখতে আসছো না কেন। এর স্বপ্ন দেখে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা মোবারক দেখতে মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

উল্লেখ্য হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা অত্যন্ত সুমধুর সুরে আযান দেওয়া মসজিদে নববী এবং মসজিদুল হারামের সর্বশ্রেষ্ঠ মহান এছাড়াও ইসলামের প্রাথমিক যুগে ঈমান আনয়নের জন্য ভাবছি গোলাম হওয়ার দরুন কাফির-মুশরিকরা তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেছিল।

বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

মরুভূমির তপ্তবালু উপরে তার বুকে পাথর চাপা দিয়ে চাবুক দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকে, কিন্তু তারপরও তিনি আহাদ আহাদ বলতে থাক। অর্থাৎ একাধিক  খোদায় আমি বিশ্বাসী একত্ববাদ তথা তাওহীদকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করার জন্য হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাকে দেখে দ্বিগুণ মূল্য দিয়ে তার কাফের মালিকের কাছ থেকে তাকে ক্রয় করে নেন এবং মুক্ত করে দেন।

যাইহোক হযরত বেলালের আগমনের খবর শুনে মদীনাবাসী আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন। সবাই ভাবলেন আল্লাহর রাসূলের ইন্তেকালের পর হয়তো আর কখনোই বেলালকে দেখবেন না।

হযরত বেলাল রাঃ এর জীবনীঃ– বেলাল রাঃ ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন প্রিয় সাহাবী।  হযরত বেলাল রাঃ তা’আলা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাম কে অনেক বেশি ভালোবাসতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ইন্তেকালের পর তিনি আর আযান দেয়নি তার কন্ঠে আজান শুনতে সাহাবীরা ব্যাকুল হয়ে আছে।

তাই তাকে আযান দেওয়ার অনুরোধ জানালেন কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করলেন সাহাবায়ে কেরাম বারবার অনুরোধ করলেন যে হেলাল তুমি সু মধুর কন্ঠে আজান দিয়ে আমাদের কলিজা ঠান্ডা কর। কিন্তু তিনি বলতে থাকলেন আমাকে আযান দিতে বল না কারন  আমি আযান পারব না।

কেননা আমি যখন আযান দেয় তখন আল্লাহু আকবর’ বলার সময় ঠিক থাকে আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার সময় ঠিক থজান। কিন্তু আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলার সময় মসজিদের মিম্বারের বাইরের দিকে তাকিয়ে প্রিয় নবীকে দেখতে পাব না। তখন আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ বইতে থাকে।

তবুও সাহাবা একরকম বারবার অনুরোধ করলো পরিশেষে হাসান এবং হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলাতে  তিনি আযান দিতে রাজি হন।  হযরত বেলাল রাঃ সুমধুর কন্ঠে আযান শুরু করলেন তার মধুর কন্ঠে আজান শুনে সাহাবায়ে কেরাম প্রতিসরণের কেঁদে ফেললেন।

হযরত বেলাল রাঃ এর কবর কোথায়

বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

কিন্তু আযানের মাঝেই হযরত বেলাল রাঃ বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর তিনি বললেন আল্লাহু আকবর’ বলার সময় ঠিক ছিলাম। আসাদুল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার সময়ও ঠিক ছিলাম। কিন্তু আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলার সময় মসজিদের মিম্বরের বাইরের দিকে তাকিয়ে প্রিয়নবীকে দেখতে না পেয়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

আল্লাহু আকবার রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তার হৃদয় কতোটা ভালবেসে ছিলো হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর আল্লাহ পাক আমাদের প্রত্যেকটি উম্মতকে রাসুলপ্রেমিক হবার তৌফিক দান করুক।

ইসলামের এক নিষ্ঠুর সাহাবীদের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের পেজের সঙ্গে থাকতে হবে এবং ইসলাম সম্পর্কে আরো নতুন তথ্য পেতে আমাদেরকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.