নরেন্দ্রনাথ মিত্রের “পালঙ্ক” নামের গল্প

নরেন্দ্রনাথ মিত্রের “পালঙ্ক” নামের গল্প অবলম্বনে রাজেন তরফদারের নির্মিত সিনেমাটি ৪৭ এর দেশভাগের পরবর্তী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সুনিপুণভাবে। যখন সদ্য বিভাজিত পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায় ভারতমুখী হয় অস্তিত্তের সংকটে অথবা সুখ ছেড়ে সস্থির খোঁজে তখন রাজমোহন তার বসতভিটা আঁকড়ে পরে থাকে দেশের মায়ায়। তার একমাত্র ছেলে আগেই পাড়ি জমায় স্ত্রী পুত্র নিয়ে। রাজমোহনের সঙ্গী থাকে শুধু বিশাল বাগানবাড়ি আর কর্মচারী। তাদের মধ্যে দরিদ্র মুসলিম মকবুল সিনেমার মূল কেন্দ্রে চলে আসে যখন সে রাজমোহনের পুত্রবধূর দামি পালঙ্ক কিনে নেয়।

সন্ধ্যা রায় আর আনোয়ার হোসেনের অভিনয়

সিনেমার সংলাপ, চিত্রায়ণ, কাহিনী অনবদ্য হয়ে উঠে উৎপল দত্ত, সন্ধ্যা রায় আর আনোয়ার হোসেনের অভিনয় দক্ষতায়। সাথে ছিল হৃদয়স্পর্শী সব গান। একটি পালঙ্ক কে ঘিরে আবর্তিত কাহিনীতে সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সাম্প্রদায়িক চেতনার বীজ, সামন্ত প্রভুদের চিরায়ত রূপ অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে ’ এমন অসাধারণ সব সংলাপে পুরো সিনেমায় গভীর দর্শনের ছাপ স্পষ্ট। অনেকদিন পর এমন মাস্টারপিচ দেখলাম।যে কোনো অভ্যাস যা নেশায় পরিণত হয় তা ক্ষতিকারক। ধরুন আজ আপনি নতুন একটি বাসায় উঠলেন এবং দেখলেন যে এই বাসার জানালা দিয়ে সামনের বাসার প্রতিবেশীদের জীবনের সব কিছু দেখা যায়।+

mitro

এই মুভি সম্পর্কে আমার ডেডিকেশন

আপনার বিষয়টা মজার মনে হলো এবং আপনি প্রতিদিন তাদের দৈনন্দিন সংসার জীবন দেখতে শুরু করলেন। একটা পর্যায়ে এসে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার কেমন এক অদ্ভুত নেশা হয়ে গিয়েছে তাদের সংসার জীবন দেখার। কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না যে আসলে এই ইনোসেন্ট অবজারভেশন থেকে ধীরে ধীরে এই নেশার হাত ধরে আপনি পরিণত হচ্ছেন একজন স্টকারে। ঠিক এমনি এক কাহিনী নিয়ে সাজানো হয়েছে The Voyeurs মুভিটি। মুভির প্রধান চরিত্র Pippa যে একজন আই স্পেশিয়ালিস্ট এবং মাত্রই সে তার বয়ফ্রেন্ড Thomas-এর সাথে একটি নতুন বাসায় মুভ করেছে।

কিন্তু প্রথম দিনেই তারা দুজন লক্ষ্য করে যে সামনের বাসার প্রতিবেশীদের পুরো সংসার তারা তাদের বাসার জানালা দিয়ে দেখতে পায় এবং এর পর থেকেই শুরু হয় মূল কাহিনী। দেখতে দেখতে তারা এমন কিছু ঘটনা দেখে ফেলে যা থেকে সূত্রপাত হয় তাদের ব্যাক্তিগত জীবনে নানা সমস্যার ও তার থেকে কিছু ভয়াবহ পরিণতির। The Voyeurs মুভির কাহিনীটি অনেকের কাছেই পরিচিত মনে হতে পারে কারন এমন কাহিনী প্রায় সময়ই দেখা যায়। তবে আমার ব্যাক্তিগত ভাবে এমন স্টোরিলাইলের মুভি দেখার এক্সপেরিয়েন্স নেই তাই হয়তো মুভিটি প্রচন্ড উপভোগ করেছি।

বিশেষ করে মুভির টুইস্ট এ্যান্ড টার্ন গুলো

বিশেষ করে মুভির টুইস্ট এ্যান্ড টার্ন গুলো একদমই আগে থেকে প্রেডিক্ট করতে পারিনি। মুভির প্রথম দিকে Pippa ও Thomas-এর বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বন্ডিংটা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি ছিলো কারন তাদের সম্পর্কের প্রতি দর্শকদের কেয়ার করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাহিনীর উদ্দেশ্য স্থাপন করতে। প্রতিবেশী দম্পতি Seb ও Julia-কে ঘিরে গড়ে উঠে নানা রহস্য তাই তাদের প্রতিও এক অজানা কৌতুহল কাজ করে মুভিতে। প্রথম দিকে মুভিটি শুধুমাত্র একটি ইরোটিক ড্রামা মনে হয়েছে।

অনেক দূর পর্যন্ত মুভির মূল উদ্দেশ্য হয়তো কোনো ভাবেই টের পাবেন না। তবে শুরু থেকে ক্লাইম্যাক্স পর্যন্ত মুভিটি মনোযোগ কেড়ে রেখেছিলো আমার। কিন্তু শুরুটা এতোটা শক্তিশালী হবার পরও শেষে টুইস্ট রিভিল করার পরও মুভিটি বেশ খানিকক্ষণ টানা হয়েছে। এই পর্যায়ে এসে দৃশ্য গুলো খুবই অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। আমার মনে হয়েছে যে প্রথম টুইস্টটা দেখিয়েই মুভিটি শেষ করে ফেলা যেতো এবং এর মাধ্যমে দর্শকরা ভালো একটা মোরাল খুঁজে পেতো। শেষের বাকি টুইস্ট গুলো দেখে মনে হয় যে মুভিটি নিজের জনরা ত্যাগ করে অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে।

মুভিতে মূল চরিত্র Pippa ও Thomas চরিত্রে অভিনয় করেছেন Sydney Sweeney ও Justice Smith। প্রতিবেশী দম্পতি Seb ও Julia ভূমিকায় রয়েছেন Ben Hardy ও Natasha Liu Bordizzo। Justice Smith-কে হয়তো অনেকের খুব একটা ভালো লাগবে না তবে আমার কাছে তেমন খারাপ লাগেনি। এছাড়া বাকিরা ভালো অভিনয় করেছেন। সবশেষে বলবো যে মুভিটি দেখে মনে হয়েছে যে নিজের সম্পর্ক উপেক্ষা করে অন্যদের জীবনে নাক গলালে এর পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। মুভিটি যেহেতু আমার ভালো লেগেছে তাই আমি দেখার জন্য রিকমেন্ড করছি।

শেষে যদিও অতিরিক্ত টানা হয়েছে

শেষে যদিও অতিরিক্ত টানা হয়েছে তবুও একবারের জন্য দেখাই যায়। মুভিতে অনেক গুলো এক্সপ্লিসিট অ্যাডাল্ট দৃশ্য রয়েছে ও মুভির রানটাইম ২ ঘন্টা। মুভিটি যে কোন টরেন্ট সাইটে পেয়ে যাবেন সহজেই। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। এসব ছবি নিয়া কেউ কথা বলে না। এই ছবির খবর অনেকেই জানে না। দেখবেন ছোট বড় বুড়ো সবাই ABCD 2, Race 3 এর মতো গার্বেজের নাম ঠিকই জানে। এসব মুভি কেউ খায় না। বলছিলাম স্যার ছবিটার কথা। আচ্ছা আমাদের সমাজে কিছু কিছু জিনিস কেউ মেনে নিতে চায় না।

golpos

সিরিয়াল কিলিং নিয়ে মুভিটি একদম প্রথম দিককার

ভালোবাসা এমন একটা জিনিস যেটা অন্যকিছু মানতে চায় না। ভালোবাসা সমাজের পরোয়া করতে চায় না। তবুও করতে হয়। কারণ আমাদের চলাচল যে এই সমাজেই। একজন ঘরের কাজের মহিলার সাথে প্রেম। এগুলো শুধু পর্নোগ্রাফি বা চটি গল্পেই ফোটে উঠে। কিন্তু এতো সফটলি একটা স্টোরীও যে হতে পারে তা পরিচালক বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। ভালোবাসা কাছ থেকেই না হয় নাই বা হলো দূর থেকেই হোক। সমাজে বেড়াজাল পাড়ি দিয়ে সবাই তো আর একসাথে থাকতে পারে না। আমি নিশ্চিত মেয়েরা এই মুভিটা দেখার পর আশ্বিনের উপর ক্রাশ খাবে।

মুভিটা আপনাকে প্রেমের সংজ্ঞা নিয়ে আরেকবার ভাবাতে বাধ্য করবে। ছবিটার প্রেমে পড়ে যাবেন। অসাধারণ এবং ইউনিক একটা রোমান্টিক ছবিAfter Love (2020) – এক ব্রিটিশ নারী পাকিস্তানী এক নাবিককে বিয়ে করে মুসলিম ধর্মান্তরিত হয়ে ১৫ বছর সংসারে হটাৎ হার্ট এট্যাকে স্বামী মারা যাওয়ার পর জানতে পারে ফ্রান্সে পাকিস্তানী স্বামীর আরেক ফ্রেঞ্চ প্রেমিকা আর ছেলে আছে| মহিলা এই ১৫ বছরে ধর্মান্তরিত হয়ে নিজ ফ্যামিলি থেকে নির্বাসিত হয়ে এখন পুরোদুস্তর প্র্যাকটিসিং মুসলিম|স্বামীর মৃত্যুর পর এই গোপন সম্পর্কের কথা জানতে পেরে নিজেকে অসম্ভব প্রতারিত বোধ করে সিদ্ধান্ত নেয় ফ্রান্সে ওই মহিলার সাথে দেখা করতে যাবে| এই দুই নারী সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে অদ্ভুত সুন্দর ব্রিটিশ পাকিস্তানী পরিচালক আলিম খানের প্রথম সিনেমা| ব্রিটিশ মুসলিম নারীর ভূমিকায় জোয়ানা স্ক্যানলানের অনবদ্য অভিনয়| ছবিতে নামাজ ও সূরা পড়ার দৃশ্যের ডিটেলিং চোখে পড়ার মতো| মাস্ট ওয়াচ সিনেমা|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *