ফিল্মে আমার চোখে কিছু অসঙ্গিত ধরা পড়েছে

এই ফিল্মে আমার চোখে কিছু অসঙ্গিত ধরা পড়েছে।সেগুলোকে উপেক্ষা করলে পরী নিঃসন্দেহে হরর ফিল্মের তালিকায় অনেক উপরে অবস্থান করবে।এটাকে শুধু হরর ফিল্ম হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবেনা।এটাকে সেইসাথে থ্রিলার এবং রোমান্টিক ড্রামাও বলা যেতে পারে। এই ফিল্মে ইফ্রিত নামক জ্বিনের কথা বলা হয়েছে।সবচেয়ে শক্তিশালী জ্বীন।যে মানুষের সাথে অদৃশ্যভাবে যৌন সঙ্গম করতে পারে।পরী ফিল্মে একদল বিকৃত চিন্তার মানুষ এই জ্বীনের অনুসারী।তাদের উদ্দেশ্য হল মনুষ্যকুলে ইফ্রিতের বংশ এবং প্রভাব বিস্তার করা।

অবিবাহিত যুবতী মেয়েদের অপহরণ করে

তাই ইফ্রিতের অনুসারীরা অবিবাহিত যুবতী মেয়েদের অপহরণ করে ইফ্রিত জাতের জ্বীনদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক ঘটাতো।তারই ফলস্বরূপ পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হতো ইফ্রিতের সন্তান।এই সন্তান নয় মাস বাকি রেখে এক মাসেই জন্মগ্রহন করতো।নরমাল বাচ্চাদের যেমন আম্বিলিকাল কর্ড থাকতো এদের তা থাকতো না। অন্যদিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর কাশিম আলী ইফ্রিতের বংশধরদের দমন করার পদক্ষেপ হাতে নেয়।তিনি ‘কেয়ামত আন্দোলন’ নামে একটি আন্দোলন শুরু করে।কিন্তু বিতর্ক এবং তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপে কাশিম আলী গোপনে সেই কাজ সম্পন্ন করতে থাকে।

hbtrreh

ফেসবুক পেজ খোলার নিয়ম | দেখুন কি ভাবে একটি ফেসবুক পেজ খুলতে হয়

গর্ভবতী মেয়েদের পেট থেকে ইফ্রিতের সন্তানকে বের করে একটি বড় জার বা পাত্রে সিল করে রাখে কাশিম আলী এবং তার সঙ্গীরা।এই প্রক্রিয়া গর্ভবতী মেয়েদের জন্য খুব পাশবিক ছিল।এদের মধ্যে থেকে একবার এক গর্ভবতী মহিলা কাশিম আলীর চোখ কানা করে দিয়ে পালিয়ে আসে।তারপর থেকে কাশিম আলী সেই মহিলা আর সন্তানকে খুঁজতে থাকে এবং একসময় দেখাও পায়।তারপর কি হয় ফিল্ম দেখলেই বুঝবেন। মেয়ে অপহরণের কাহিণী উঠে এসেছে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা থেকে।এর সত্যতা কতটুকু জানা নেই।তবে সিনেমাতে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা,ঢাকা ইউনিভার্সিটি এগুলোর কথাই বলা হয়েছে।

সিনেমার হিরো অর্নবের গাড়িতে এক্সিডেন্টলি একজন বয়স্ক মহিলা মারা যায়।জঙ্গলের ভিতর কুঁড়ে ঘরে বাস করা একমাত্র মেয়ে রোকসানা মায়ের লাশ দেখতে হাসপাতালের মর্গে আসে।সেখান থেকে রোকসানার প্রতি অর্নবের একটা সহানুভূতি তৈরী হয়।পরপর বিভিন্ন ঘটনার ভিতর দিয়ে সেই জংলী টাইপ মেয়ে রোকসানা অর্নবের বাসভবনে এসে উঠে মৃত্যুভয়ে।তাদের ভিতরে অপ্রত্যাশিত প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়।এই দিকে পিয়ালীর সাথে বিয়ে ঠিক হওয়া থাকে অর্নবের।পিয়ালীর জীবনেও সন্তান জন্ম দেওয়া সম্পর্কিত একটা অতীত থাকে। যেটা একেবারে সিনেমার শেষে প্রকাশিত হয়।

মাঝখানে পুরো কাহিণী আমি স্কিপ

পিয়ালীর কথা শুনে অর্নব রোকসানার পেটে বেড়ে উঠা তার সন্তানকে বাঁচাতে ছুটে যায়।মাঝখানে পুরো কাহিণী আমি স্কিপ করে গেছি।রোকসানার পেটে অর্নবের বাচ্চার সাথে ইফ্রিতের বাচ্চার কি কানেকশান সেটা জানার জন্য সিনেমা দেখতে হবে। অভিনয়ের দিক দিয়ে আনুস্কা শর্মা আর পরমব্রত চ্যাটার্জী একদম পারফেক্ট ছিল।রিতাভরীও তার জায়গা থেকে ভাল করেছে।আর রজত কাপুরের অভিনয়ও দেখার মত ছিল।সিনেমার হরর সিকুয়েন্স এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলোও স্মার্টলি হেন্ডেল করা হয়েছে।অনেক সময় গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে।আনুস্কা তার চরিত্রে একেবারে মিশে গিয়েছিল।

আনুস্কার জীবনে অন্যতম সেরা পারফরমেন্স বললেও ভুল হবেনা।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে I love you too বলা,আযান শুনলে বালতির পানিতে মাথা চুবানো,পয়জন রিলিজ করার সময় কুকুরের রক্তচোষা এবং তার পর পরই বিবেকের দংশন,পিরিয়ডকালীন এক্সপ্রেশন সবকিছুতেই বেশ ভালো করেছে আনুস্কা। ২০১৮ সালের মার্চে রিলিজ হয়।এই সিনেমার প্রডিউসার ছিলেন আনুস্কা শর্মা।২১ কোটি বাজেটে ৪০ কোটির উপরে আয় করে।সিনেমাটোগ্রাফিও ভালো ছিল।এই সিনেমায় অনেকটাই ১৯৯৫ সালের হলিউড হরর মুভি “স্পিসিজ” এর ছায়া রয়েছে।

এই সিনেমার একটা অসঙ্গতি হল অর্নবের মত একটা নার্ভাস ছেলে যে ছোটবেলা বাড়ীতে মানুষ আসলে খাটের তলায় লুকাতো,বিয়ের পাত্রী দেখতে গিয়ে হবুবউয়ের সামনে কথা বলার জন্য ইয়োগা ব্যায়ামের সাহায্য নিতে হয় সে কেমনে রোকসানা ইস্যুতে এত নরমালি জড়াতে পারে।ডিরেক্টর প্রসিত রায় অর্নবকে সিনেমার শুরুতে একটা নার্ভাস ছেলে হিসেবে প্রেজেন্ট না করলেও পারতো।কারণ অর্নবের ব্যক্তি আচরণের সাথে সিনেমায় রোকসানা পরবর্তী তার আচরণ লজিক্যাল ছিলনা।আরেকটা বিষয় যেখানে ইসলামিক কেয়ামত আন্দোলন টার্মটি এসেছে সেখানে হিন্দুয়ানী ‘অলাতচক্র’ টার্মটি তার সাথে জুরে দেওয়াটা অড লাগে।তবে সকল ধর্মেই কালা জাদুর চর্চা ছিল এটা রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে অনেকটা।

করেই আমি সিনেমাটিকে বিচার

এসব কিছুকে উপেক্ষা করেই আমি সিনেমাটিকে বিচার করেছি।বলিউডের হরর ফিল্মের ভিতরে সবচেয়ে সেরা জায়গাটি দখল করার দাবিদার।এই সিনেমায় একটা ম্যাসেজও রয়েছে।পুরোটা বলবো না।শুধু এইটুক জেনে রাখুন ভালো এবং শয়তান আমাদের মানুষের মাঝেই বিরাজমান।ভালোবাসা দিলে একজন শয়তান মানুষ হয়ে উঠতে পারে এবং ঘৃণার চোখ দিয়ে দেখলে সে শয়তানই থাকে।শেষ মুহূর্তে রিতাভরীর দায়িত্ববোধটাও শিক্ষণীয়।বাকিটা সিনেমা দেখলে বুঝবেন।Revenant মানে সোজা বাংলায় যে ব্যক্তি স্বাক্ষাৎ মৃত্যুর কাছ থেকে বেঁচে ফিরে আসে।মৃত্যুর কাছ থেকে এমনি এমনি এই গল্পের নায়ক হিউ গ্লাস ফিরে আসেনি।

tama

তাকে চরম মাত্রার প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করতে হয়েছিল। অত্যাচারী রি ইন্ডিয়ান উপজাতিদের বর্বর আক্রমণে সীমান্তবাসী হিউ গ্লাস ও তার সঙ্গীরা পালিয়ে আসে।সাথে ছিল গ্লাসের মা-হারা আদরের ছেলে হক(Hawk).
পশু শিকার করা এবং তা নিয়ে ব্যবসা করা ছিল গ্লাস এবং তার সঙ্গীদের পেশা। একবার হিউ গ্লাস জঙ্গলে এক ভাল্লুক দ্বারা মারাত্মভাবে জখম হয়।গ্লাসের অবস্থা ছিল খুব শোচনীয়।বাঁচার কোন আশঙ্কা ছিলনা।তাই গ্লাসের সঙ্গীরা কনকনে ঠান্ডা প্রতিকূল পরিবেশে তাকে কষ্ট করে টেনে নিয়ে যেতে চায়না।তাকে বর্জন করা হয়।

ব্যাপারে আপত্তি জানালে তাকে এক

গ্লাসের ছোট্ট ছেলে এই ব্যাপারে আপত্তি জানালে তাকে এক পর্যায়ে মেরে ফেলা হয় গ্লাসের চোখের সামনেই। শয্যাশায়ী গ্লাস প্রাণপণ চেষ্টা করেও ছেলেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়।গ্লাসের সাথে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করে তারই সঙ্গী জন ফিটজগারেল্ড।একদিকে প্রতিকূল অবস্থায় টিকে থাকা আর অন্যদিকে প্রতিশোধ স্পৃহা এই নিয়ে এগিয়ে যায় সিনেমার গল্প। এই সিনেমার চিত্রায়ন খুবই ভালো ছিল।লিউনার্দো ডি ক্যাপ্রিও’র অনত্যম সেরা কাজ।সিনেমার শুরু থেকে শেষ সবকিছুই জীবন্ত ছিল।কনকনে শীত থেকে বাঁচতে মৃত পশুর পাকস্থলীতে আশ্রয় নিতেও দেখা গেছে হিউ গ্লাসকে।

ভাইবার একাউন্ট খুব দ্রুত ও সহজে চালু করার উপায়।

আর হিউ গ্লাসের (ডি ক্যাপ্রিও) প্রতি মুহূর্তের যায় যায় প্রাণকালীন এক্সপ্রেশন গায়ে কাঁটা দেওয়ার মত।একদিকে হিংস্র পশুর থাবা এবং অন্যদিকে চরম প্রতিকূল অবস্থা থেকে একজন মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পই The Revenant. এই সিনেমার মধ্যদিয়ে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও প্রথম বারের মত অস্কারের স্বাদ গ্রহন করে এবং তার ভক্তদের আশাও পূরণ হয়।মুক্তির সাল ছিল ২০১৫।একাডেমিক পুরস্কার অর্জন করে ২০১৬ সালে।এর আগে চার চারবার মনোনীত হয়েও অস্কার ঘরে তুলতে পারেনি ক্যাপ্রিও।২০০৭ এর আসরে Blood Diamond দিয়েও আশাহত হতে হয়েছিল ক্যাপ্রিওকে। আর অন্যতম সেরা ডিরেক্টর আলেজান্দ্রো গঞ্জালিস ইনারিতু ও এই সিনেমা দিয়ে চার বারের মত অস্কার লুফে নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *