বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরয

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালাম। প্রথম মানবী হযরত হাওয়া আলাইহিস সালাম। প্রশ্ন হল যখন হযরত হাওয়া আলাইহিস সাল্লাম কে সৃষ্টি করা হয়েছে তখন হযরত আদম আলাইহিস সাল্লাম তার প্রতি আগ্রহী হয়ে হাত বাড়াতে গেলে ফেরেশতারা বলেন একটু ধৈর্য ধরুন আগে বিয়ে হোক। মহর আদায় করুন। হযরত আদম আলাই সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন ফেরেশতারা জবাব দিলো হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লাম এর উপর দুরুদ পাঠ করুন।

বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরয

সুবহানাল্লাহ আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বলেন বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরয।  এপ্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন তোমরা খুশি মনে স্ত্রীকে মোহর পরিশোধ করা। সূরা আন নিসা আয়াত .৪।  তবে যাই হোক সব ছাপিয়ে নেটদুনিয়ায় একটি মুসলিম দম্পতির বিয়ে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে যেখানে দেনমোহরে স্বামীর কাছে পাঁচ ওয়াক্ত স্ত্রী নগদ অর্থ ৯০৯না কোন ব্যাংক ব্যালেন্স। নববিবাহিত স্বামী যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে তার প্রতিশ্রুতি দিলে আর কিছু চায়না তার স্ত্রী এমনই এক অভিনব দেনমোহরের বিনিময় বিবাহ সম্পন্ন হলো।

বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরয

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এমন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে একটি সূরা মুখস্ত করাকে বিয়ের দেনমোহর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কন্যার পক্ষ থেকে সেই হিসেবে এই বিয়ে অভিনব না হলেও অনেকের জন্য তা অনুকরণীয়। অবশ্যই হতে পারে বিশেষ করে যখন কয়েক লাখ টাকার নগদ ঘরভর্তি আসবাবপত্র গাড়ি ছাড়া বর্তমান যুগে বিয়ে হয় না। সেখানে পাকিস্তানের টিভি সিরিয়ালের অভিনেত্রী তার বিপরীতে গিয়ে তার চেয়ে ১০ বছরের কম বয়সী বিয়ে করছে। সম্মতি জানিয়েছেন তবে দেনমোহর হিসেবে স্বামীর কাছ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নিয়মিত নামাজ চেয়েছেন।

হাদি বর্তমানে এমবিবিএস এর থিসিস নিয়ে ব্যস্ত তার স্বামীকে অর্থের জন্য চাপ না দিয়ে ইস রারে মুন্সি. ইসলামী শরীয়তে বিয়ের সময় পার্টির পক্ষ থেকে পাত্রের কাছে তাঁর সামর্থ্য অনুসারে দেনমোহর দাবি করা হয়। যা বাসর রাতের আগে পরিশোধ করে দেওয়া বাধ্যতামূলক। পক্ষ থেকে কিছু আদায় করার অনুমতি নেই যদিও বর্তমানে বরপক্ষ কনে পক্ষ থেকে মোটা অংকের টাকা আসবাবপত্র বিলাসবহুল সামগ্রী দাবি করে। এই প্রথা তথা যৌতুক প্রথা টি মূলত শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সামাজিক রীতিনীতি থেকে মুসলিম সমাজ সহজে লুফে নেয়।

দেনমোহর পরিশোধ না করার শাস্তি কি

গুলো তো মেয়ের বাবাকে বিপাকে ফেলার জন্য সম্পূর্ণরূপে ইসলামীকে নিষিদ্ধ এবং গর্হিত জঘন্য কাজ যেখানে মহান আল্লাহ পাক নারীকে স্পর্শ করার পূর্বেই তাকে দেনমোহর আদায় করা ফরয করেছেন।  সেখানে কর্নার বাবা থেকে যৌতুক যত জঘন্য পাপাচারী অন্তর্ভুক্ত অন্যদিকে কোন পক্ষ থেকেও বিশাল অঙ্কের দেনমোহর দাবি করা হয় । যা পরিশোধ করা পাত্রের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে না।  এটিও বর্তমান সমাজের একটি জঘন্য সংস্কৃতি যার ভার বইতে না পেরে অনেক বিবাহ অশুদ্ধ হয়ে যায়।  এমন পরিস্থিতিতে.হাদীর এমন অভিনব বিয়ের প্রস্তাব সদগতি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরয

এছাড়া বলেন নামাজ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আমাদের পাপ কাজ থেকে বাঁচায়।  এজন্য আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতিশ্রুতি চেয়েছি।  আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন এই দম্পতিকে কবুল ও মঞ্জুর করে নিন আমীন।  আর আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম এমন অভিনব এবং রাসূলের সুন্নাত সম্মত দেনমোহরের প্রচলন চালু করুন যাতে প্রত্যেকটি বিয়ে শুদ্ধ হয়।  কেননা শুদ্ধ বিয়ে হচ্ছে ভবিষ্যৎ সুন্দর দাম্পত্য জীবনের প্রথম পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *