বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত নিয়ে আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি নবীজী সাঃ এর ইন্তেকালের হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রায় পাগলের মত হয়ে গেলেন তিনি ব্যাগ গুছিয়ে কোথায় চলে যাচ্ছেন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু গান তাকে জিজ্ঞেস করলেন-হে বেলাল তুমি কোথায় যাচ্ছ তিনি বলেন যে দেশে আমার প্রাণের নবী নেই সেখানে আমি থাকবো না কোথায় যাচ্ছি আমি তার কিছুই জানিনা এরপর তিনি মদীনা থেকে দামেস্কে চলে যান।

হযরত বেলাল রাঃ এর বিবাহ

কিছুদিন পর বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু স্বপ্নে দেখলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলছেন বেলাল তুমি আমাকে দেখতে আসছো না কেন এর স্বপ্ন দেখে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা মোবারক দেখতে মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন উল্লেখ্য হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা অত্যন্ত সুমধুর সুরে আযান দেওয়া মসজিদে নববী এবং মসজিদুল হারামের সর্বশ্রেষ্ঠ মহান এছাড়াও ইসলামের প্রাথমিক যুগে ঈমান আনয়নের জন্য ভাবছি গোলাম হওয়ার দরুন কাফির-মুশরিকরা তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেছিল।

বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

মরুভূমির তপ্তবালু উপরে তার বুকে পাথর চাপা দিয়ে চাবুক দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকে কিন্তু তারপরও তিনি আহাদ আহাদ বলতে থাকেন অর্থাৎ একাধিক খোদা ৯১ খোদায় আমি বিশ্বাসী একত্ববাদ তথা তাওহীদকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করার জন্য হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাকে দেখে দ্বিগুণ মূল্য দিয়ে তার কাফের মালিকের কাছ থেকে তাকে ক্রয় করে নেন এবং মুক্ত করে দেন যাইহোক হযরত বেলালের আগমনের খবর শুনে মদীনাবাসী আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন সবাই ভাবলেন আল্লাহর রাসূলের ইন্তেকালের পর হয়তো আর কখনোই বেলালকে দেখবেন না।

হযরত বেলাল রাঃ এর জীবনী

বেলাল রাদিয়াল্লাহু ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নিজ. তোমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ইন্তেকালের পর তিনি আর আযান দেয়নি তার কন্ঠে আজান শুনতে সাহাবীরা ব্যাকুল হয়ে আছে তাই তাকে আযান দেওয়ার অনুরোধ জানালেন কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করলেন সাহাবায়ে কেরাম বারবার অনুরোধ করলেন যে হেলাল তুমি সু মধুর কন্ঠে আজান দিয়ে আমাদের কলিজা ঠান্ডা করা কিন্তু বলতে থাকলেন আমাকে আযান দিতে বল না আমি এটি পারব না।

কেননা আমি যখন আযান দেয় তখন আল্লাহু আকবর’ বলার সময় ঠিক থাকে আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার সময় ঠিক থাকে কিন্তু আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলার সময় মসজিদের মিম্বারের বাইরের দিকে তাকিয়ে প্রিয় নবীকে দেখতে পাব না তখন আমার হৃদয়ের সহ্যের বাইরে চলে যাবে। তবুও সাহাবা একরাম বারবার অনুরোধ করলো পরিশেষে হাসান এবং হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হুজুর করলে তিনি আযান দিতে রাজি হন।  হযরত বেলাল আযান শুরু করলেন তার মধুর কন্ঠে আজান শুনে সাহাবায়ে কেরাম. প্রতিসরণের কেঁদে ফেললেন ।

হযরত বেলাল রাঃ এর কবর কোথায়

বেলাল (রাঃ) এর আজান আল্লহর আরস থেকে শুনা যেত

কিন্তু আযানের মাঝেই হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর তিনি বললেন আল্লাহু আকবর’ বলার সময় ঠিক ছিলাম। আসাদুল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার সময়ও ঠিক ছিলাম কিন্তু আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলার সময় মসজিদের মিম্বরের বাইরের দিকে তাকিয়ে প্রিয়নবীকে দেখতে না পেয়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আল্লাহু আকবার রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কত নিবেন ছিল হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর আল্লাহ পাক আমাদের প্রত্যেকটি উম্মতকে রাসুলপ্রেমিক হবার তৌফিক দান করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *