মুভিটি সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে

যারা থ্রিলারপ্রেমী তাদের জন্য মাস্টওয়াচ একটি মুভি।মুভিটি সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মাণ হয়েছিল।মুভিটি অসম্পূর্ণ হলেও আপনার কাছে একদমই তেমন মনে হবেনা।একেবারে শেষ অংশেও দারুণভাবে উত্তেজনা তৈরী করতে পেরেছিল।মুভির পরিচালনায় ছিলেন Parasite খ্যাত ডিরেক্টর বং জন হো। Spoiler: মুভিটি সিরিয়াল কিলিং নিয়ে।কোরিয়ান একটা অঞ্চলে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটেছিল।তারই চিত্রায়ন ছিল এই মুভিটি। রহস্যজনকভাবে একটি অঞ্চল থেকে একের পর এক মেয়ে খুন হতে থাকে।খুনী খুবই নির্দিষ্ট অর্ডারে খুনগুলো করছিলো।আর মেয়ে গুলোকে খুব কষ্ট দিয়ে মারে।মারার সময় তাদের যোনিপথে ফলের পিসসহ আরো অনেক কিছু ঢুকিয়ে দিত।

পুলিশ আর গোয়েন্দা খুনীকে ধরার জন্য

পুলিশ আর গোয়েন্দা খুনীকে ধরার জন্য অনেক পরিকল্পনা করেছিল।খুনী ধরা পড়েও যেন পড়তে চাচ্ছিলো না।সন্দেহের পর সন্দেহের তীর বিদ্ধ হচ্ছিলো।আর মুভি দেখার সময় বারবার মনে হচ্ছে শেষটায় কি হতে চলেছে! প্রায় ১৭ বছর আগে এমন ধরনের নির্মাণ আসলেই প্রশংসনীয়।আর খুনী ধরার ঘটনাগুলোতে টান টান উত্তেজনা ছিল।একদমই বিরক্ত হইনি দেখার সময়। অনেকদিন পর দেশীয় কন্টেন্ট এর রিভিউ নিয়ে আসলাম।অবশেষে সত্য ঘটনা অবলম্বনে Tragic Truth “জানোয়ার” দেখে ফেললাম।প্রতিটি মানুষের ভিতরেই সুপ্ত জানোয়ার বাস করে।

hnfh

ফেসবুক একাউন্ট খোলার নিয়ম | ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা শিখুন এখানে

বিশ্বাস করতে কষ্ট হলে একটু নিজেকে প্রশ্ন করুন।সত্য এই আমরা সবাই রক্ত-মাংসের মানুষ।কিন্তু যে নিজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা জানোয়ারকে বধ করতে পারে সেই প্রকৃত মানুষ।সুযোগের অভাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমরা সবাই সৎ! Spoiler: মুভিতে শুরুতেই একজন পুলিশ অফিসার গত রাত্রে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক এক ঘটনার তদন্ত করতে আসে।বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই ভিক্টিমরা ভয়ে চেঁচামেচি শুরু করতে থাকে।বাড়িতে বাস করতো এক মা সহ দুই মেয়ে এবং এক প্রতিবন্ধী ছেলে।ভিক্টিমদের আর বাড়ির অবস্থা দেখে পুলিশ অনুমান করতে পারে গত রাতে তাদের উপর দিয়ে এক ভয়ানক ঝড় বয়ে গেছে।যে ঝড়ের গতির কোন পরিমাপ হয়না!

ঠিক কি হয়েছিল হাওয়ারিন নামের সেই ছোট্ট ফুলের মত মেয়েটির জন্মদিনের রাতে? “ছোট ছোট আবেগে আদর মাখা ছোট ছোট স্বপ্নে জীবন গাঁথা। এভাবেই আমাদের এগিয়ে চলা এভাবেই সাজানো গল্প বলা পেতে কি চাই,খুঁজে কি পাই জীবনের আবেগ ছোঁয়া হারিয়ে যাই পেয়ে হারাই হারানোর এমনই মায়া…।” গানটি আমার মন ছুঁয়ে গেছে।পুরো ইউনিট তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।আর শিশুশিল্পী আরিত্রা এর অভিনয় একদম বাস্তব লেগেছে।নেগেটিভ রোলে রাশেদ মামুন অপুর অভিনয় জাস্ট মাইন্ডব্লোয়িং।তাশকিন রহমান আর ইলিনা শাম্মীর অভিনয়ও ভালো লেগেছে।

আমার অন্তত এই মুভি নিয়ে কোন অভিযোগ

আর ডিরেক্টর রায়হান রাফি এমন একটি নির্মাণের জন্য অবশ্যই বাহুবা ডিজার্ব করে।আমার অন্তত এই মুভি নিয়ে কোন অভিযোগ নেই।সবাই দেশীয় কন্টেন্টকে সাপোর্ট করুন যেন নির্মাতারা উৎসাহিত হয়ে আরও ভালো ভালো কাজ আমাদের উপহার দিতে পারে।এই নাটকে কিছুটা সাহিত্যিক ফ্লেবার পেয়েছিলাম আমি! গ্রামের সহজ সরল সেই সাথে চঞ্চল মেয়ে বেনু বিয়ে করে স্বামীর সাথে প্রথম বার ঢাকায় আসে।বেনু মূলত শহর দেখতে পারবে এই আশায় বিয়েতে রাজি হয়েছিল রতন মন্ডলের সাথে।রতন মন্ডল প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আগে বেনুকে রুমের ভিতর তালা দিয়ে রাখতো।

tujtrhr

কারণ তার বেনুর হঠকারিতা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল।সুযোগ পেলেই বেনু যদি পালিয়ে যায় তাকে ছেড়ে!স্বামী-স্ত্রীর ভেতরে যে স্বাভাবিক ভালোবাসার সম্পর্ক হয় সেটার অভাব শুরু থেকেই দুজনের ভিতর পরিলক্ষিত হয় কারণ রতন মন্ডল এক প্রকার পারিবারিক চাপে পড়ে বিয়ে করেছিল।বেনু ঘরের ভিতরে মনমরা হয়ে বসে থাকতো।বাইরের পরিবেশ তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতো।ডানা মেলে শহরে উড়ার শখ বেনুর প্রথম থেকেই ছিল। একদিন রতন মন্ডল বেনুর প্রতি ভালোবাসা থেকে রুমে তালা না দিয়ে অফিসে চলে আসে।বেনু সুযোগ বুঝে শহর দেখতে বেরিয়ে পড়ে।

মনের আনন্দে ঘুরতেও থাকে।কিন্তু একসময় বেনু হারিয়ে যায় এত বড় শহড়ে।তারপর কি হয়? নাটকটার শেষটা আমার খুব ভালো লেগেছে।আফরান নিশো আর মেহেজাবিন দুজনেই দারুণ অভিনয় করেছে।মেহেজাবিন গ্রাম্য ভাষায় সুন্দর করে কথা বলতো যাতে ফিদা হই আমি।⭕একসাথে কমেডি,অ্যাকশন,থ্রিলারের স্বাদ পেতে হলে দেখে ফেলুন এই মুভিটি।স্ক্রিনপ্লে ভালো না হলে এই তিন জনরা একসাথে থাকলেও উপভোগ্য হয়ে উঠেনা।কিন্তু যেহেতু এটা কোরিয়ান মুভি তাই ভরসা করাই যায়।Midnight Runners মানে মাঝরাতের দৌড়বিদরা।

সার্থকতা যাদের পুলিশ হওয়ার ইচ্ছা

কিন্তু কিভাবে এ নামের সার্থকতা?যাদের পুলিশ হওয়ার ইচ্ছা আছে বা বর্তমানে সেই লাইনে অধ্যয়নরত তাদের দেখা উচিত। Spoiler: Ki-joon এবং Hee-yeol দুজনে কোরিয়ান ন্যাশনাল পুলিশ ইউনিভার্সিটির ছাত্র।মুভি শুরুর প্রথম কিছু অংশে তাদের বন্ধুত্ব হওয়ার কাহিণী দেখানো হয়। তারপর এক রাতে দুই বন্ধু ক্লাবে যায় girlfriend খোঁজার জন্য।কিন্তু রাস্তায় তারা একটি মেয়েকে কিডন্যাপ হতে দেখে।সেখান থেকেই মুভির আসল মজা শুরু হয়।মেয়েটিকে খোঁজা নিয়ে একটার পর একটা ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় দুই বন্ধুকে।একটা গ্যাঙ আছে যারা মেয়েদের অপহরণ করে তাদের ডেরায় নিয়ে যায়।

ভাইবার একাউন্ট খুব দ্রুত ও সহজে চালু করার উপায়।

একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।কি সেই উদ্দেশ্য? দুই বন্ধু কি পারে ইউনিভার্সিটির নিষেধ অগ্রাহ্য করে মানবিকতার খাতিরে সেই মেয়েগুলোকে রক্ষা করতে? মুভির ভিতরে বেশকিছু শিক্ষণীয় দিক রয়েছে।এটাকে একাধারে বন্ধুত্ব,দায়িত্ব,সততা ও ইচ্ছাশক্তির গল্প বলা যেতে পারে।ফিনিশিং টা বেশ ভালো লাগে। একটা কথা আছে এমন যে-বাইরে ১০ জন অপরাধী ঘুরে বেড়াক কিন্তু ১ জন নিরপরাধী যেন জেলের ভিতরে বন্দি না থাকে।

একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাবা

একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাবা এবং মেয়ের অসম্ভব ভালোবাসার গল্প যা চোখের কোণে পানি এনে দেয়।কোরিয়ানরা কত সহজে মানুষকে ইমোশনাল করে দিতে পারে তাদের মুভিগুলো না দেখলে বুঝা সম্ভব না। Spoiler: Ye-Seung তার বাবা Yong-goo এর কাছে একটা সেইলর মুন ব্যাগের আবদার করে।সেই ব্যাগ কিনতে গিয়ে Young-goo কে হতে হয় শিশু ধর্ষক এবং খুনী।জেলে ঢুকানো হয় তাকে।এইদিকে Ye-Seung তার বাবাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারেনা।মেয়ে বাবার সাথে জেলে থাকতে এক পায়ে খাড়া তবুও হোমে থাকবে না।

কিন্তু জেল কতৃপক্ষ সেটা তো এলাউ করবে না।তাহলে উপায়?কিভাবে Ye-Seung তার বাবাকে ফিরে পাবে?ক্ষণিকের জন্য ফিরে পেলেও একেবারে পাবে তো?বাবার কলঙ্ক কি আদৌ ঘুচাতে পারবে বড় হয়ে আইনজীবী হওয়া Ye-Seung? পুরো মুভি থেকে চোখ সরাতে পারিনি।কমেডি,সাসপেন্স আর শেষের দিকের ইমোশনাল সিকুয়েন্স গুলোর জবাব নেই।মুভির কিছু ডায়লগ তো অসম্ভব সুন্দর।সকলে দারুণ অভিনয় করেছিল।এই মুভির প্রেমে পড়েনি এমন মানুষ হয়তো দুটি নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *