মুভি একটার চেয়ে আরেকটা কম না

পছন্দের একটা মুভি।কোরিয়ান কোন মুভি একটার চেয়ে আরেকটা কম না।সত্যিই তারা বারবার অবাক করায়।এ পর্যন্ত যতগুলো কোরিয়ান মুভি দেখেছি একটাও হতাশ করেনি।আর এই মুভি তো একদমই না।বলিউড মুভি Rocky Handsome এই মুভি থেকে কপি করা হয়েছিল। একজন লোক স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে একা একা একটা এপার্টমেন্টে বাস করে।নিজের জীবনে চাওয়া-পাওয়া বলতে তার কিছু নেই।মাঝে মাঝে পাশের বাসা থেকে একটা ছোট মেয়ে তার সাথে দেখা করতে আসে।মেয়েটির বাবা নেই।মা ড্রাগ এডিক্টেড।সেই লোকটির মাঝে মেয়েটি তার বাবার ছায়া খুঁজতে আসে।কিন্তু লোকটি বাইরে থেকে মেয়েটিকে খুব বেশি পাত্তা দিতে চায়না।

পাওয়া বলতে তার কিছু নেই।মাঝে মাঝে

অথচ মনে মনে ঠিকই নিজের সন্তানের জায়গা দিয়েছে। তাইতো একদিন মেয়েটির মা আর মেয়েটি কুখ্যাত কিছু সন্ত্রাসী দ্বারা অপহরিত হলে তাদের খুঁজে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।ঘটনাচক্রে মেয়েটির মায়ের লাশ লোকটি খুঁজে পায়।কিন্তু মেয়েটিকে সন্ত্রাসীরা একটা বাজে জায়গায় বিক্রি করে দেয়।তাহলে কিভাবে দেখা মিলবে লোকটির সাথে সেই ছোট্ট মেয়েটির? mমুভির ফাইটিং সিনগুলো দারুণ ছিল।আর কিছু কিছু জায়গায় আছে টান টান উত্তেজনা।লিড রোলে নায়কের অভিনয়ও খুব ভাল লেগেছে।আর কোরিয়ান শিশুশিল্পীরা একেকটা জেম।

fdgvg

ফেসবুক গ্রুপ খোলার নিয়ম | নতুন ফেসবুক গুরুপ খোলার নিয়ম দেখুন এখানে

সবচেয়ে অবাক লাগে এত ভাল একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মুভির IMDb রেটিং তুলনামূলক কম।সেই সাথে এই মুভিটি নিয়ে গ্রুপগুলোতে আলোচনাও কম।সত্যিকারের আন্ডাররেটেড মুভি বলা চলে।যারা থ্রিল আর সাসপেন্স পছন্দ করে তাদের জন্য এই মুভিটি দারুণ একটা কিছু।মুভিটি বিখ্যাত থ্রিলার রাইটার Agatha Christie এর একটি নোভেল থেকে এডাপ্ট করা হয়েছে।আসলে আপনি কে?আপনার আসল সত্ত্বা কি?এই কনসেপ্ট নিয়েই নির্মিত Identity. অন্ধকার এবং প্রবল ঝড়ের রাত।রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।প্রচন্ড শব্দে বাজ পড়ছে।এই কঠিন প্রতিকূল আবহওয়াতে একটি মোটেলে আশ্রয় নিতে এসেছে ১০ জন মানুষ।

মোটেলের ম্যানেজার সহ মোট ১১ জন।রহস্যজনক ভাবে মোটেলের একজন একজন করে খুন হতে থাকে।১১ জন মানুষের ভিতরে রয়েছে ১ জন খুনী।কিভাবে খুনীর হাত থেকে বাঁচবে জীবিত থাকা মানুষগুলো?নাকি এসব কিছুর বাইরে অন্যকিছুর প্রভাব রয়েছে।এই মুভিতে আরও দেখানো হয়েছে মানসিক সমস্যা একটা মানুষের জন্য কতটা ভয়াবহ রকমের হতে পারে। এই মুভির climax twist কেউ ধরতে পারবে বলে মনে হয়না।শেষে নিজেকে একটা ধাক্কা খেতে হয়।আর মুভির কনসেপ্ট টা অসাধারণ।যারা Forgotten দেখেছেন তারা এটাও দেখে ফেলুন।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ আটকে থাকার মত একটি মুভি।

মোটেলের একজন একজন করে খুন হতে থাকে

মাহীকে এখানে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তার অভিনয় দর্শক কর্তৃক প্রশংসিতও হয়েছে বেশ।অবশ্য আমার পার্সোনালী একটু বেশিই ভালো লেগেছে।অনেকের মতে মাহী নাকি ন্যাকামী করে!কিন্তু আদৌতে ন্যাকামী জিনিসটাই আমার চোখে প্রকট হয়নি মাহীর ক্ষেত্রে।একটু-আধটু যদি হয়েও থাকে ন্যাকামী তবে সেটা আমার কাছে কুল-ই লাগে।কারণ ন্যাকামী তো নায়িকারাই করবে।তাছাড়া মাহীর কন্ঠে একটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব আছে।অনেকে সেটাকে ন্যাকামী ভেবে ভুল করেনা তো!আরেকটা কথা যেমন-মাহীর একটি মুভি ছিল ‘দবির সাহেবের সংসার’।

hdgs

মুভিটি কমেডি ধাচের।সেখানে বরং ন্যাকামী আশা না করাটাই অডিয়েন্সের ভুল হবে। কোভিড-১৯ মহামারী এবং গভীরভাবে ত্রুটিযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পটভূমিতে তৈরী হয়েছে অক্সিজেন।৩৩ মিনিটের একটা শর্ট ফিল্ম আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছে।মানুষ এবং অমানুষের ভিতরে পার্থক্য নিরূপন করিয়েছে।শ্যুটিং করা হয়েছে ঢাকার উত্তরা,যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁও এ।এ বছর ইদুল আযহার সময় সরাসরি ইউটিউবে উম্মুক্ত করা হয়। মায়া আর তার বৃদ্ধ বাবার একটা ফ্ল্যাটে একসাথে বসবাস।মধ্যবিত্ত পরিবারের পরহেজগার মেয়ে মায়ার কাছে তার বৃদ্ধ বাবাই সবকিছু।

মায়া তাকে আদর করে ষাট বছরের বাচ্চা বলে ডাকে।বাবার কিছু অদ্ভুদ কান্ড দেখে মায়া আবার মাঝে মাঝে বিরক্তিও প্রকাশ করে।একদিন সকালে চা খাওয়ার সময় মায়ার বাবা অজ্ঞান হয়ে যায়।শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।বাবাকে নিয়ে ছুটে চলে হসপিটালের পানে।কিন্তু সাধের এই দুনিয়া অনেক রঙ্গ দেখায়।এই নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে কাহিণী।স্বল্প সময়ের ভিতরেই আপনি ইমোশনাল হয়ে যাবেন।⭕জীবনটা আসলে কেমন?জীবন কি আসলেই সুন্দর?যে জীবন স্ত্রীর ভালোবাসা,সন্তানের স্নেহের তরে উৎসর্গকৃত সে জীবন সুন্দর না হয়ে পারেনা।সত্যিই Life Is Beautiful. মুভির কাহিণী ১৯৩৯ সালের ২য় বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে।কিছু অদ্ভুদ কান্ড দেখে মায়া আবার মাঝে মাঝে বিরক্তিও।

 স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পটভূমিতে তৈরী হয়েছে

গুইডো নামের এক সহজ-সরল,আমুদে মানুষ তার শাহাজাদী ডোরার প্রেমে পড়ে।ভীষণ নাটকীয়ভাবে তাদের বিয়ে হয়।বিয়ের পর তাদের যশোয়া নামে ৪-৫ বছরের এক ছেলে সন্তান হয়।স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়েই গুইডোর জীবন। কিন্তু হিটলার ২য় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ইহুদি নিধনের খেলায় নামে।যে খেলায় বাদ যায়না গুইডোর পরিবারও।সেসময় নাৎসি বাহিণীরা অনেকগুলো বন্দিশিবির নির্মাণ করেছিল।সেখানে বন্দিদের উপর চলতো অমানষিক পরিশ্রম আর নির্যাতন।বাদ যেত না বৃদ্ধ আর শিশুরাও। বন্দিশিবিরের চরম ভয়াবহতা থেকে গুইডোতার ছেলে যশোয়াকে তার উর্বর মস্তিষ্ক দিয়ে রক্ষা করতে চেয়েছিল।

যাতে যশোয়া বন্দিদশার ভয়াবহতা আঁচ করতে না পারে।এইদিকে নারী আর পুরুষরা আলাদা কাজ করতো।তাই যশোয়ার সাথে তার মাও ছিলনা।গুইডো কিভাবে বন্দিদশা থেকে তার পরিবারকে রক্ষা করবে?যশোয়া কি শেষ পর্যন্ত তার বাবার বানানো খেলার উইনার হতে পারে? কমেডি,রোমান্স দিয়ে শুরু হলেও শেষটা তার বিপরীত ছিল।ইতালীয় এই মুভিটি অস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করে।তাছাড়া ব্যবসায়িকভাবেও ছিল দারুণ সফল।ভালো লাগার মত একটা মুভি।যারা এখনো দেখেননি তারা দেখে নিতে পারেন কিভাবে জীবনকে সুন্দর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয় জানেন কতটা হৃদয়স্পর্শী একটি সিনেমা।মাজিদ মাজিদি পরিচালিত ১৯৯৭ সালের একটি ইরানী সিনেমা। আলী এবং জারার অভিনয় অসাধারণের উপরে অসাধারণ ছিল।আলী এবং জারা সম্পর্কে আপন ভাই-বোন।তাদের পরিবার দিন আনে দিন খায় এই অবস্থা।আলী স্কুলে ছাত্র হিসেবে খুব ভালো।একবার সে তার বোনের একজোড়া জুতা হারিয়ে ফেলে।বাবার ভয়ে আলী তার ছোটবোন জারাকে কিছু বলতে নিষেধ করে এবং আশ্বস্ত করে সে জারাকে আবার এরকম জুতা এনে দেবে। জুতা খোঁজা নিয়ে দুই-ভাই বোন বিভিন্ন এডভ্যাঞ্চারের ভিতর দিয়ে যায়।

ভাই বোন বিভিন্ন এডভ্যাঞ্চারের ভিতর দিয়ে যায়

স্কুলে যাওয়ার সময় তার ছোটবোন আলীর জুতা পরে যেত এবং ছুটি হলে আলী আবার সেই জুতা পড়ে ক্লাসে যেত।এভাবে ক্লাসে যেতে বিলম্ব করতো আলী।একসময় হেড মাস্টারের কাছে ধরাও খায়।তারপরও আরও নানা ঘটনা ঘটতে থাকে এক জোড়া জুতাকে কেন্দ্র করে।এত সব ঘটনা আলীর বাবা-মা কিছুই জানতে পারেনা। অনেক খুঁজার পর আলী বোনের জন্য জুতা আনতে ব্যর্থ হয়। কিছুদিন পর আলীর স্কুলে একটা ঘোষণা আসে দৌড় প্রতিযোগিতার।যে তৃতীয় হতে পারবে সে এক জোড়া জুতা উপহার পাবে।আলী বোনের খুশির জন্য দৌড় প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়ার জন্য নাম লেখায়।

ভাইবার একাউন্ট খুব দ্রুত ও সহজে চালু করার উপায়।

তাকে প্রথম বা দ্বিতীয় হলে চলবে না।কারণ জুতা পেতে গেলে তাকে তৃতীয়ই হতে হবে। আলী তৃতীয় হওয়ার নিয়তে দুজনকে আগে যেতে দিয়ে দৌড়াতে থাকে।কিন্তু ঝামেলা সৃষ্টি হয় আলীর পেছনের চতুর্থ জনের জন্য।জেদ চেপে যায় আলীর।অপ্রত্যাশিত এবং অনিচ্ছাকৃত প্রথম হয়ে যায় আলী। ঐদিকে জারা ভাইয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে থাকে উঠানে। আলী বিজয়ী হয়ে আসে। কিন্তু আলীর দুচোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে।সে চ্যাম্পিয়ন হয়েও বারবার তৃতীয় হওয়া জুতার দিকে তাকিয়ে ছিল।

স্কুলের সবাই আলীকে বাহুবা দিলেও আলীর তাতে খুশি হওয়ার কোন কারণ থাকেনা। অন্যদিকে আলীর জুতা জোড়াও দৌড়াতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।এতদিন এক জোড়া জুতা দিয়ে দুজনে চলতো সেই পথটাও বন্ধ হয়ে যায়।শেষটায় কি আলী আর জারা তাদের দুই জোড়া জুতাই ফিরে পায়? এই সিনেমাটি অসম্ভব সুন্দর।বর্ণনা করে বুঝানো যাবেনা।১৯৯৮ সালে অস্কারের আসরে বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে নোমিনেশন পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *