মুসলমান বাহিনী যখন এক সংকীর্ণ গিরি পথ অতিক্রম করছিল

আল্লাহতালার নিয়ামত রাজি অসংখ্য-অগণিত প্রত্যেক মানুষের জীবন তার অনুগ্রহ অনুকম্পায় স্নাতক ন্যায় মতে মানুষ আনন্দিত হওয়াটাই স্বাভাবিক আর এটি আল্লাহর পছন্দনীয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লাম ইরশাদ করেন অবশ্যই আল্লাহ তাঁর বান্দার কাছে তার দেওয়া নেয়ামতের চিহ্ন দেখতে ভালোবাসেন তিরমিজি হাদিস নম্বর .২৮১৯।  নেয়ামতকে যদি কেউ নিজের অর্জন মনে করে নিজের যোগ্যতার স্মারক মনে করে কিংবা নিজের অধিকার মনে করে পুলক অনুভব করে তাহলে এটাই হবে আত্ম মুগ্ধতা আত্ম মুগ্ধতা বিনয় ও কৃতজ্ঞতাবোধের ছোঁয়া থাকে না।

মুসলমান বাহিনী যখন এক সংকীর্ণ গিরি পথ অতিক্রম করছিল

আল্লাহ তায়ালা আমাদের এমন মুগ্ধতা থেকে বারণ করেছেন কোরআনে বলা হয় তুমি উল্লসিত হলো না নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালবাসেন না সূরা আয়াতুল। তাই এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের কথা মাথায় রেখে কৃতজ্ঞতার সিজদায় লুটিয়ে পড়া হাদীসে এসেছে এক ব্যক্তি রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন কি জিনিস। তিনি জবাবে বললেন তোমার যখন তোমাকে আনন্দিত করবে আর তোমার মন্দ কাজ যখন তোমাকে তখনি বুঝবে তুমি মুমিন মুসলমান হাদিস নম্বর ২২১৬৩।

মুসলমান বাহিনী যখন এক সংকীর্ণ গিরি পথ অতিক্রম করছিল

আত্ম মুগ্ধতা সম্পর্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এভাবে সতর্ক করেছেন তিনটি বিষয়ে মারাত্মক ধ্বংসাত্মক এক অত্যাধিক কৃপণতা .২  প্রবৃত্তির অনুসরণ ৩  নিজেকে নিয়ে মুগ্ধতা বায়হাকী হাদিস নম্বর ৭৮৩। মুগ্ধতা যে কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে তার একটি নমুনা শোরুম চৌদ্দশ বছর আগের একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। তবুও পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হওয়ার কারনে যেন আমাদের কাছে তার.মক্কা বিজয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরবের দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন গোত্রের লোকেরা এসে ইসলাম কবুল করতে থাকে।

যাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ বর্তমান ছিল তারা এই দৃশ্য দেখে হিংসে অস্থির হয়ে ওঠে তাদের ভেতরে বিদ্বেষের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে হুনায়নের অধিবাসী ও সাকিব নামের দুই দিকে খুবই অগ্রগামী ছিল তারা এমনিতেই ছিল যুদ্ধবাজ জাতি তদুপরি ইসলামের অগ্রগতি দেখে তারা আরো অস্থির হয়ে পড়ে তারা মালিক ইবনে আউফ নামক ব্যক্তি কে সর্দার মনোনীত করে এবং মুসলমানদের মোকাবেলা করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তারা আরো বহু গোত্রকে নিজেদের সঙ্গী বানিয়ে নেয় যুদ্ধক্ষেত্র হুনাইন উপত্যকা শত্রুদের আগে থেকেই পরিচিত ছিল।

বদর যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়

এই সুযোগ তারা ভালোভাবেই লুফে নেয় দেশটি পর্বতময় পূর্বপরিচিত থাকার দরুন শত্রুসেনার পাহাড়ের আড়ালে উপযুক্ত জায়গায় লুকিয়ে থাকে।পাহাড়ের অবস্থানের দরুন তাদের এই লুকিয়ে থাকার কাজটি অত্যন্ত কার্যকর হয়েছিল তিনি সেনাবাহিনীর পুরোভাগ উপত্যকায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে শত্রুতা তাদের লুকিয়ে থাকা তীর ধনুক এর সাহায্যে মুসলিম সেনাদের অতর্কিত আক্রমন করে বিপর্যস্ত করে ফেলে মুসলমানরা সামনে আসা মাত্র দুশমনরা আশপাশের পাহাড় থেকে এলোপাতাড়ি তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করে ।

মুসলমান বাহিনী যখন এক সংকীর্ণ গিরি পথ অতিক্রম করছিল

এ পরিস্থিতির জন্য মুসলমানরা মোটেও প্রস্তুত ছিল না এর ফলে মুসলমানদের সৈন্যদলের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এই যুদ্ধে হাওয়া জিন ও বনু শাকিব ছাড়া অনুষ্ঠানগুলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয় তবে এ যুদ্ধে তারা পরিবার-পরিজনকে ও সঙ্গী নিয়ে আসে তাদের মোট সংখ্যা ছিল 24 থেকে 28 হাজার এদের সেনা সংখ্যা ছিল। হাওয়া দিনের এই যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ১২ থেকে ১৪ হাজার। সাহাবীর কাহিনী নিয়ে মক্কা থেকে বের হয়ে হুনায়ন উপত্যকায় উপস্থিত হন।

এর আগে কোন যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা. এত বেশি ছিল না এবার সেনাদলের কলেবর নিয়ে তাদের অনেকের মধ্যে কিছুটা অহংকার বোধ ও আক্ত মুগ্ধ মনোভাব জাগ্রত হয় কেউ কেউ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে যান আল্লাহর উপর নির্ভর করার পরিবর্তে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধির উপর এতটা নির্ভরশীল হওয়া। ঈমানী শক্তি দুর্বলতারই প্রকাশ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ হলো মক্কা বিজয়ের পর সদ্য মুসলমান হওয়া ওই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। উৎসাহ-উদ্দীপনার মাত্রা তাদের মধ্যে একটু বেশি ছিল সুতরাং এ যুদ্ধে মুসলমানরা যাতে সঠিক শিক্ষা পায় সেজন্য আল্লাহর ইচ্ছায় তারা যুদ্ধের শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

ওহুদের প্রান্ত থেকে হামরা উল আসাদ এর দূরত্ব কত ছিল

মুসলমান বাহিনী যখন এক সংকীর্ণ গিরি পথ অতিক্রম করছিল তখন হাওয়া জিনের তীরন্দাজ বাহিনীর আকস্মিক তাদের ওপর আক্রমণ চালায় এতে মুসলমানরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে পড়ে আল্লাহর অশেষ রহমতে আবার তারা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।  আত্ম মুগ্ধতা কত ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে হুনাইনের যুদ্ধ তার জ্বলন্ত প্রমাণ মনে রাখতে হবে আল্লাহ পাক এই জীবনে আমাকে.যত অর্থ-সম্পদ যৌনশক্তি সুস্থতা স্বাস্থ্য যতকিছুই দান করুক না কেন সবকিছু আল্লাহপাকের দান।

এর উপরে আমার কোন প্রভাব বা আত্মমগ্নতা চলে না।কারণ আল্লাহ পাক যেভাবে আমাকে দিয়েছেন চাইলে যেকোনো মুহূর্তে কেউ নিতে পারেন তাই প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি প্রক্রিয়া শুরুর দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে সেজদাবনত হয়ে আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে হবে। এ জীবনে যাই কিছু আমরা পেয়েছি তার তরফ থেকে সবসময় সন্তুষ্ট থাকার মনোভাব তৈরি করতে হবে। আত্মহত্যা উল্লাস সেলিব্রেশন জিনিসগুলো ইসলাম সমর্থন করে না আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে এগুলো থেকে দূরে রাখুক আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *