যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয় জানেন কতটা

যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয় জানেন কতটা হৃদয়স্পর্শী একটি সিনেমা।মাজিদ মাজিদি পরিচালিত ১৯৯৭ সালের একটি ইরানী সিনেমা। আলী এবং জারার অভিনয় অসাধারণের উপরে অসাধারণ ছিল।আলী এবং জারা সম্পর্কে আপন ভাই-বোন।তাদের পরিবার দিন আনে দিন খায় এই অবস্থা।আলী স্কুলে ছাত্র হিসেবে খুব ভালো।একবার সে তার বোনের একজোড়া জুতা হারিয়ে ফেলে।বাবার ভয়ে আলী তার ছোটবোন জারাকে কিছু বলতে নিষেধ করে এবং আশ্বস্ত করে সে জারাকে আবার এরকম জুতা এনে দেবে। জুতা খোঁজা নিয়ে দুই-ভাই বোন বিভিন্ন এডভ্যাঞ্চারের ভিতর দিয়ে যায়।স্কুলে যাওয়ার সময় তার ছোটবোন আলীর জুতা পরে যেত এবং ছুটি হলে আলী আবার সেই জুতা পড়ে ক্লাসে যেত।

একসময় হেড মাস্টারের কাছে ধরাও

এভাবে ক্লাসে যেতে বিলম্ব করতো আলী।একসময় হেড মাস্টারের কাছে ধরাও খায়।তারপরও আরও নানা ঘটনা ঘটতে থাকে এক জোড়া জুতাকে কেন্দ্র করে।এত সব ঘটনা আলীর বাবা-মা কিছুই জানতে পারেনা। অনেক খুঁজার পর আলী বোনের জন্য জুতা আনতে ব্যর্থ হয়। কিছুদিন পর আলীর স্কুলে একটা ঘোষণা আসে দৌড় প্রতিযোগিতার।যে তৃতীয় হতে পারবে সে এক জোড়া জুতা উপহার পাবে।আলী বোনের খুশির জন্য দৌড় প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়ার জন্য নাম লেখায়।তাকে প্রথম বা দ্বিতীয় হলে চলবে না।কারণ জুতা পেতে গেলে তাকে তৃতীয়ই হতে হবে।

jtryhd

মোটরসাইকেল ইনসুরেন্স কি ও ইনসুরেন্স করার নিয়ম

আলী তৃতীয় হওয়ার নিয়তে দুজনকে আগে যেতে দিয়ে দৌড়াতে থাকে।কিন্তু ঝামেলা সৃষ্টি হয় আলীর পেছনের চতুর্থ জনের জন্য।জেদ চেপে যায় আলীর।অপ্রত্যাশিত এবং অনিচ্ছাকৃত প্রথম হয়ে যায় আলী। ঐদিকে জারা ভাইয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে থাকে উঠানে। আলী বিজয়ী হয়ে আসে। কিন্তু আলীর দুচোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে।সে চ্যাম্পিয়ন হয়েও বারবার তৃতীয় হওয়া জুতার দিকে তাকিয়ে ছিল।স্কুলের সবাই আলীকে বাহুবা দিলেও আলীর তাতে খুশি হওয়ার কোন কারণ থাকেনা। অন্যদিকে আলীর জুতা জোড়াও দৌড়াতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

এতদিন এক জোড়া জুতা দিয়ে দুজনে চলতো সেই পথটাও বন্ধ হয়ে যায়।শেষটায় কি আলী আর জারা তাদের দুই জোড়া জুতাই ফিরে পায়? এই সিনেমাটি অসম্ভব সুন্দর।বর্ণনা করে বুঝানো যাবেনা।১৯৯৮ সালে অস্কারের আসরে বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে নোমিনেশন পায়। #কাস্টিং:আমির ফারুক হাশেমিয়ান(আলী),বাহার সিদ্দীকি(জারা),মোহাম্মদ আমির নাজী,ফিরেস্তি সারাবান্দি প্রমুখ। পছন্দের একটা মুভি।কোরিয়ান কোন মুভি একটার চেয়ে আরেকটা কম না।সত্যিই তারা বারবার অবাক করায়।

এ পর্যন্ত যতগুলো কোরিয়ান মুভি

এ পর্যন্ত যতগুলো কোরিয়ান মুভি দেখেছি একটাও হতাশ করেনি।আর এই মুভি তো একদমই না।বলিউড মুভি Rocky Handsome এই মুভি থেকে কপি করা হয়েছিল। Spoiler: একজন লোক স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে একা একা একটা এপার্টমেন্টে বাস করে।নিজের জীবনে চাওয়া-পাওয়া বলতে তার কিছু নেই।মাঝে মাঝে পাশের বাসা থেকে একটা ছোট মেয়ে তার সাথে দেখা করতে আসে।মেয়েটির বাবা নেই।মা ড্রাগ এডিক্টেড।সেই লোকটির মাঝে মেয়েটি তার বাবার ছায়া খুঁজতে আসে।কিন্তু লোকটি বাইরে থেকে মেয়েটিকে খুব বেশি পাত্তা দিতে চায়না।অথচ মনে মনে ঠিকই নিজের সন্তানের জায়গা দিয়েছে।

তাইতো একদিন মেয়েটির মা আর মেয়েটি কুখ্যাত কিছু সন্ত্রাসী দ্বারা অপহরিত হলে তাদের খুঁজে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।ঘটনাচক্রে মেয়েটির মায়ের লাশ লোকটি খুঁজে পায়।কিন্তু মেয়েটিকে সন্ত্রাসীরা একটা বাজে জায়গায় বিক্রি করে দেয়।তাহলে কিভাবে দেখা মিলবে লোকটির সাথে সেই ছোট্ট মেয়েটির? মুভির ফাইটিং সিনগুলো দারুণ ছিল।আর কিছু কিছু জায়গায় আছে টান টান উত্তেজনা।লিড রোলে নায়কের অভিনয়ও খুব ভাল লেগেছে।আর কোরিয়ান শিশুশিল্পীরা একেকটা জেম। সিনেমার মূল কাহিণী ধর্ষণকে কেন্দ্র করে।দুখিয়া গ্রামে রাজনৈতিক নেতার ছোট ভাই আর তার সঙ্গীদের কাছে ধর্ষণ একটা উৎসবের মত।

মেয়েমানুষ দেখলেই দলবল নিয়ে প্রসুন তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।সেই দৃশ্যগুলো ছিল খুবই মর্মান্তিক।পুরো গ্রামে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই।ধর্ষণের বিচার চাইতে গেলে পুলিশরা তাদের এরিয়ার আওতাভুক্ত না বলে এড়িয়ে চলে। ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গেলে সেই লোকের বাড়ির মেয়েদের ধর্ষণসহ বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই গ্রামে বরুণ নামে এক শিক্ষিত ছেলে আরও কিছু শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে।কিন্তু বরুণের পরিণতি হয় মৃত্যু। বরুণ কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতো।

বিনোদ বিহারী বরুণের মৃত্যুর সংবাদ

সেই সূত্রে পরিচয় বিনোদ বিহারীর সাথে।বিনোদ বিহারী বরুণের মৃত্যুর সংবাদ শুনে বরুণের গ্রামে শিক্ষকতা করতে আসে।সে পথে ঘাটে বরুণ সম্পর্কে সকলকে অবগত করতে থাকে।একসময় বিনোদ বিহারী বুঝতে পারে বরুণের খুনের বিচার পাওয়া যাবেনা।অন্যদিকে প্রসুন ও তার দলবলদের অত্যাচার গ্রামে আবারও বাড়তে থাকে।বরুণ জীবত অবস্থায় অনেকটা দমন করে ফেলেছিল ধর্ষকদের।বরুণের অবর্তমানে গ্রামটি আবারও নরকে পরিণত হতে থাকে।স্পেশাল অফিসার অনিমেষকে পাঠানো হয় দুখিয়া গ্রামে।সে আসাতে গ্রামে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস পাওয়া যায়।

bdfgxd

অজ্ঞাতভাবে একে একে সব ধর্ষকরা খুন হতে থাকে।কিন্তু কে খুন করছে কেউ বুঝতে পারেনা।কোন প্রমাণ ছিলনা।একসময় অনিমেষ সবকিছু বুঝতে পারে এবং খুনীকে চিহ্নিত করে।কিন্তু খুনীর পরিচয় সবার সামনে প্রকাশ করে না।পুলিশ হয়েও তাকে খালাস করে দেয়।এই সিনেমায় খুনী বুঝতে পেরেছিল আইনের আওতায় আনলে ধর্ষকরা তাদের প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পেয়ে যাবে।তাদের বিরুদ্ধে আবার কোন বরুণ রুখে দাঁড়াবে।কিন্তু পরিণতি হবে মৃত্যু।তাই খুনী কৌশলে নরকের কীটগুলোকে নিশ্চিহ্ন করতে থাকে। হলিউডের অন্যতম সমাদৃত ও বাণিজ্যিক সফলভাবে চলচ্চিত্রের পর্দায় তুলে আনে ডিরেক্টর ফ্রান্সিস ফোর্ড কাপেলো।এটি ছিল মারিও পুজোর বিখ্যাত উপন্যাসের এডাপশন।

কাপেলোর নিপুণ দক্ষতার জন্য অস্কার সহ আরো বিভিন্ন পুরস্কার জিতে নেয় এই মুভি।১৯৭৩ সালের অস্কারে এই ছবি একাই দশটি বিভাগে নমিনেশন পায়।এক এক করে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র,শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য পুরষ্কার লাভ করে।৩০তম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার,১৫তম গ্র্যামি পুরস্কার,২৫তম ডিরেক্টরস গিল্ড অব আমেরিকা পুরস্কার এই মুভি অর্জন করে নেয়। Spoiler: ভিটো কর্লিয়নি নিজেকে মার্কিন গডফাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।বড় ছেলে সনি কর্লিয়নি একটু রগচটা স্বভাবের।সবসময় তাড়াহুড়ো করে সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে চায়।মেজো ছেলে ফ্রেডো কর্লিয়নি ভীতু প্রকৃতির।

যেকোন সমস্যার সমাধানে মানুষ

নিজেকে সবসময় গুটিয়ে রাখে।ছোট ছেলে মাইকেল কর্লিয়নি তার বাবার জায়গা নেয় পরবর্তীতে। যেকোন সমস্যার সমাধানে মানুষ ভিটোর কাছে সাহায্যের জন্য আগে আসে।অবশ্য আমেরিগো বনসেরা তার কন্যার উপর ধর্ষণ চেষ্টার বিচার পুলিশের কাছে না পেয়ে পরে গডফাদার ভিটোর কাছে এসেছিল।মাদক সম্রাট ভার্জিল সলোজ্জ এর সাথে চুক্তি নাকচ করে দেওয়ার পর ভিটোর পরিবারের সাথে সলোজ্জ পরিবারের শত্রুতা শুরু হয়।

ভাইবার একাউন্ট খুব দ্রুত ও সহজে চালু করার উপায়।

এক সময় ভিটোকে রাস্তায় বুলেট বিদ্ধ হতে হয়।এ যাত্রায় বেঁচে ফিরে ভিটো।কিন্তু পাল্টা আক্রমণ থেমে থাকেনা।এগিয়ে যায় মুভির কাহিণী। Accept this justice as a gift on my daughter’s weeding day. বনসেরাকে বলা ভিটোর এই ডায়লগটি অসাধারণ।মুভিটির রানটাইম একটু বেশি এবং গল্পের কাহিণী ধীরগতিতে এগিয়েছিলো।সেজন্য অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে।

তবে আমি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য নিয়ে শেষ করার পর মনে হয়েছিল অসাধারণ একটি মুভি দেখলাম।মারিও পূজো ও কাপেলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়তো এমন বিখ্যাত সিনেমা তৈরি সম্ভব হয়েছে।দ্য গডফাদারের সফলতার পর দুজনে মিলে এর সিকুয়েল তৈরি করে পার্ট টু ও পার্ট থ্রি।গডফাদার ট্রিলজির প্রতিটি সিনেমাই দর্শক জনপ্রিয়তার শীর্ষে।মার্লোন ব্রান্ডো এবং আল পাসিনো এর অভিনয় অসাধারণ ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *