রাজনৈতিক নেতার ছোট ভাই আর

সিনেমার মূল কাহিণী ধর্ষণকে কেন্দ্র করে।দুখিয়া গ্রামে রাজনৈতিক নেতার ছোট ভাই আর তার সঙ্গীদের কাছে ধর্ষণ একটা উৎসবের মত।মেয়েমানুষ দেখলেই দলবল নিয়ে প্রসুন তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।সেই দৃশ্যগুলো ছিল খুবই মর্মান্তিক।পুরো গ্রামে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই।ধর্ষণের বিচার চাইতে গেলে পুলিশরা তাদের এরিয়ার আওতাভুক্ত না বলে এড়িয়ে চলে। ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গেলে সেই লোকের বাড়ির মেয়েদের ধর্ষণসহ বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই গ্রামে বরুণ নামে এক শিক্ষিত ছেলে আরও কিছু শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে।

তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই

কিন্তু বরুণের পরিণতি হয় মৃত্যু। বরুণ কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতো। সেই সূত্রে পরিচয় বিনোদ বিহারীর সাথে।বিনোদ বিহারী বরুণের মৃত্যুর সংবাদ শুনে বরুণের গ্রামে শিক্ষকতা করতে আসে।সে পথে ঘাটে বরুণ সম্পর্কে সকলকে অবগত করতে থাকে।একসময় বিনোদ বিহারী বুঝতে পারে বরুণের খুনের বিচার পাওয়া যাবেনা।অন্যদিকে প্রসুন ও তার দলবলদের অত্যাচার গ্রামে আবারও বাড়তে থাকে।বরুণ জীবত অবস্থায় অনেকটা দমন করে ফেলেছিল ধর্ষকদের।বরুণের অবর্তমানে গ্রামটি আবারও নরকে পরিণত হতে থাকে।স্পেশাল অফিসার অনিমেষকে পাঠানো হয় দুখিয়া গ্রামে।

ইমু একাউন্ট খোলার সহজ উপায় | দেখুন খুব সহজে কিভাবে ইমু অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।

সে আসাতে গ্রামে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস পাওয়া যায়। অজ্ঞাতভাবে একে একে সব ধর্ষকরা খুন হতে থাকে।কিন্তু কে খুন করছে কেউ বুঝতে পারেনা।কোন প্রমাণ ছিলনা।একসময় অনিমেষ সবকিছু বুঝতে পারে এবং খুনীকে চিহ্নিত করে।কিন্তু খুনীর পরিচয় সবার সামনে প্রকাশ করে না।পুলিশ হয়েও তাকে খালাস করে দেয়।এই সিনেমায় খুনী বুঝতে পেরেছিল আইনের আওতায় আনলে ধর্ষকরা তাদের প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পেয়ে যাবে।তাদের বিরুদ্ধে আবার কোন বরুণ রুখে দাঁড়াবে।কিন্তু কাহিণীটা এরকম যে, বাসভর্তি নার্সদের বন্দি করে ইরাকী জঙ্গী সংগঠন ISC.তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য টাইগারকে হায়ার করে তার পুরনো বস শেনয়।

এটাকে এক থা টাইগারের সিক্যুয়েল বলা যায়।এই সিনেমা রিলিজের পাঁচ বছর আগে এক থা টাইগার রিলিজ হয়েছিল।সেখানে সালমান(টাইগার) র এর এজেন্ট এবং ক্যাটরিনা (জোয়া)আইএসআই এর এজেন্ট ছিল।দুজনে মিলে কিউবায় গিয়ে সংসার পাতে।আট বছর কেঁটে যায়।তাদের একটা সন্তানও হয়। সেখান থেকে টাইগার জিন্দা হ্যায় এর কাহিণী শুরু।নার্সদের উদ্ধারের মিশনে নামে টাইগার।দেখে আমার এটলিস্ট বোরিং লাগেনি।ভালোই ছিল। সিনেমাটিও ভালো ব্যবসা করেছিল।ভারতে ৪৬০০ টি এবং বাইরে ১০০০ টি স্ক্রিনে মুক্তি পায়। নিজের একটা টিম বানালো টাইগার।

আগে এক থা টাইগার রিলিজ হয়েছিল

যেখানে আছে একজন স্নাইপার,একজন টেকি,আর একজন বম্ব ডিফিউজার।টাইগারের মিশনের শুরু হল। টাইগার কি পারবে,জঙ্গীদের আস্তানা থেকে সেই জিম্মি নার্সদের নিরাপদে বের করে আনতে? গল্পটা আকর্ষণীয় তাতে কোন সন্দেহ নেই।আলী আব্বাস জাফর যত্ন নিয়েই বানিয়েছেন সিনেমাটা।হিরোইজমকে ছাপিয়ে গল্পকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।সালমান খানও তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।এই সিনেমার সফলতা সেসময় সালমান খান বেশ ভালোভাবেই এনজয় করেছিল।আতিফ আসলামের কন্ঠে দিল দিয়ান গাল্লান শিরোনামের গানটিও বেশ সাড়া ফেলে।

পাকিস্তানের মেয়ে শাহিদা।মায়ের সাথে ভারত এসেছিল চিকিৎসা করানোর জন্য।হঠাৎ ফেরার পথে ট্রেন থেকে হারিয়ে যায় শাহিদা। শাহিদাকে আশ্রয় দেয় এক নিষ্ঠাবান সৎ ব্রাহ্মন লোক পবন কুমার চতুর্বেদী।শাহিদা কথা বলতে পারেনা।তাই হাজার চেষ্টা করেও পবন শাহিদার থেকে তার বাড়ির ঠিকানা,মা-বাবার নাম জানতে পারেনা। শাহিদার নাম রাখা হয় মুন্নি।একসময় পবন বুঝতে পারে শাহিদা একজন মুসলিম এবং তার বাড়ি পাকিস্তানে।ভালোবাসা ও মানবতার খাতিরে পবন সিদ্ধান্ত নেয় শাহিদা মানে মুন্নিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার। পবন আর মুন্নি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বিনা পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই।

অনেক লুকোচুরি করে পবনকে রাজস্থান সীমান্ত পাড় হতে হয়।একসময় পবনের স্বাক্ষাৎ হয় একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক চাঁদ নওয়াবের সাথে।চাঁদের মাধ্যমেই পবন মুন্নির ঠিকানা বের করে।পাকিস্তানের লোকজন পবনকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্যও করেছিল। এইদিকে পাকিস্তানি পুলিশ পবনকে ভারতীয় গুপ্তচর ভেবে গ্রেফতার করার জন্য তৎপর হয়।কিন্তু হামিদ খান নামে একজন পুলিশ আসল সত্যিটা জানতে পারে।সেজন্য পবনকে সে তার দেশে ফেরত যেতে সহয়তা করে। চাঁদ নওয়াব তার ক্যামেরার ভিতরে মুন্নিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পবনের ডেডিকেশনের ক্লিপিং রেকর্ড করে রেখেছিল।

পবনের স্বাক্ষাৎ হয় একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

সেটা ভাইরাল হওয়ার পর বহু লোকজন পবনকে দেখতে আসে সীমান্তে।শেষ মুহূর্তে পবন যখন চলে যাচ্ছিলো বোবা মুন্নি/শাহিদা ডাক দিয়ে উঠে।সেই দৃশ্যটা খুবই সুন্দর একটা দৃশ্য। শাহিদা চরিত্রে ৭ বছরের মেয়ে হারশালি মালহোত্রা অনেক ভালো অভিনয় করেছে।সিনেমার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সালমান খান আর হারশালি মালহোত্রা।কারিনা কাপুর যতক্ষণ স্ক্রিনে ছিল সে তার জায়গাতে ঠিকই ছিল সাংবাদিক চরিত্রে নওয়াজুদ্দীন সিদ্দীকি ও বেশ। সালমান খানের ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা সিনেমা।২০১৫ সালে রিলিজের কিছুদিন পরেই দেখা হয়েছিল।সেসময় সিনেমাটি অনেক সাড়া ফেলে এবং সেইসাথে দারুণ ব্যবসা করে।

এই সিনেমায় সালমান খানের বডি শোয়িং,মারমার,কাটকাট এসব কিছু ছিলনা।এই সিনেমা নিয়ে হয়তো কারও অবজেকশান থাকার কথা না।আমার কাছে স্টোরি ভালোই লেগেছে।যতদূর মনে পড়ে এইটা আমার দেখা সালমান খানের প্রথম মুভি।এই মুভিতে সালমানের চুলের স্টাইল সেসময় অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়।মুভিটি ২০০৩ সালে ডিরেক্টর সতীশ কৌশিক নির্মাণ করেন।বলে রাখা ভালো এটা চার বছর আগে রিলিজ হওয়া তামিল মুভি ‘সেথু’-র রিমেক।রাধে মোহন একজন গুন্ডাটাইপ ছেলে।কিন্তু তার একটা কোমল হৃদয় রয়েছে।সে তার ভাই-ভাবীর সাথে থাকে।

অনেক কাঠ-খড় পুড়ে রাধে মোহন

একবার নির্জরা নামের অতি সুন্দরী,কোমলমতী মেয়েকে দেখে রাধে প্রেমে পড়ে যায়।কিন্তু নির্জনা শুরুতে রাজি থাকেনা।অনেক কাঠ-খড় পুড়ে রাধে মোহন আর নির্জরার প্রেম হয়।নির্জরা পুরোহিতের মেয়ে থাকে।তাদের পরিবারের কেউ রাধের সাথে নির্জরার বিয়ে মানতে চায়না। এই দিকে রাধে মোহন পাড়ার গুন্ডাদের হাতে মার খেয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়।স্মৃতিভ্রষ্ট হয় রাধে মোহনের।নির্জরা রাধের এই করুণ পরিণতি তে ব্যথিত থাকতো সবসময়।হঠাৎ নির্জরার বিয়ে ঠিক করে ফেলে তার পরিবারের লোকজন।

মোটরসাইকেল ইনসুরেন্স কি ও ইনসুরেন্স করার নিয়ম

কিন্তু নির্জরা ততদিনে রাধে মোহনকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিল যে তাকে না পাওয়া নির্জরার কাছে মৃত্যু সমতুল্য।শেষমেষ নির্জরার বিয়ে পণ্ড হয়ে যায়।কারণ মৃত মানুষকে বিয়ে দেওয়া যায়না। রাধে মোহন সুস্থ হয়ে ফিরে আসে নির্জরার কাছে।কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।নির্জরা যদি বিয়ের আগে বুঝতে পারতো রাধে সুস্থ হয়ে গিয়েছিল তাহলে শেষটা এরকম হতো না। এই সিনেমাকে রোমান্টিক ড্রামাই বলা যায় শেষটা বিয়োগান্তিক যদিও। সালমানের রাধে মোহন চরিত্রটিও খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে।গানগুলোও অসাধারণ ছিল।শুধু একটাই আফসোস তেরে নাম ২ নিয়ে সালমানভক্তরা অনেক দিন থেকে আশায় রয়েছে।তাদের আশা পূরণ হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *