সিরিয়াল কিলিং নিয়ে মুভিটি একদম প্রথম দিককার

সিরিয়াল কিলিং নিয়ে মুভিটি একদম প্রথম দিককার।মুভিটি থমাস হ্যারিসের ১৯৮৮ সালের বই The Silence of the Lambs থেকে এডাপ্ট করা।হাতে-গুনা যে কয়টি মুভি ৫ টি ক্যাটাগরিতেই অস্কার জিতেছে তার ভিতরে এটি অন্যতম। বাফেলো বিল নামে একজন সিরিয়াল কিলার নির্দিষ্ট গড়নের কিছু মহিলাকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে।তারপর মেয়েগুলোর শরীরের চামড়া কেঁটে রেখে দেয়।বিভিন্ন জায়গায় মেয়েগুলোর বিভৎস লাশ পাওয়া যায়।এই নিয়ে পুলিশ ভীষণ চিন্তিত।একজন কিলার মহিলার চামড়া নিয়ে কি করতে চাচ্ছে? এদিকে কিলারকে ধরার জন্য এজেন্ট স্টারলিং কে পাঠানো হয় একজন মানুষখেকোর কাছেকৌশলে।

খুনীকে ধরার ক্লু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করে

।তার নাম ডক্টর হ্যানিবেল লেকটার।যার কাছ থেকে স্টারলিং কৌশলে খুনীকে ধরার ক্লু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করে।এদের দুজনের কথোপকথন ছিল এই মুভির অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্য।স্টারলিং এর অতীত কাহিণী নিয়ে কথা বলাটাও সাসপেন্সফুল লাগে। আমেরিকার এক সিনেটরের মেয়ে যখন নিঁখোজ হয় তখন FBI সহ উর্ধতন কর্মকর্তারা নড়ে-চড়ে বসে।কিলারকে যে করেই হোক ধরতে হবে।স্টারলিং কি শেষমেষ কিলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে?আর এদিকে মানুষখেকো ডক্টর হ্যানিবেল লেকটারেরই বা কি হবে?এই মুভির সবচেয়ে মিস্ট্রি চরিত্র হচ্ছে হ্যানিবেল। হ্যানিবেল নিয়ে আরও কিছু মুভি-

vs

ভাইবার একাউন্ট খুব দ্রুত ও সহজে চালু করার উপায়।

সালের সিরিয়াল কিলিং হিসেবে দারুণ এবং সেই সাথে মুভিটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার।এই মুভিতে কুপন থেকে প্রজাপতি হওয়ার বিষয়টায় বাফেলো বিল এর ইচ্ছা বা বাসনা প্রকাশিত হয়েছে।আর সিনেটরের মেয়ের উদ্ধারের অভিযানে স্টারলিং এর ছোটবেলার একটা আবেগঘন বিষয় জড়িয়ে আছে।আর হ্যানিবেল সম্পর্কে আরও বেশি করে জানতে হলে হ্যানিবেল সিরিজ মুভি গুলোও দেখে ফেলুন।⭕Mind Fucking মুভিগুলোর ভিতরে Triangle অন্যতম।শুধু দর্শক না মুভির মূল ক্যারেক্টার Jess ও অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে আয়নার সামনে Fuck You বলে দেয়।আসলে হচ্ছেটা কি!AEOLUS নামক এক জাহাজে নিজেকে বার বার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

মুভিটি মূলত টাইম লুপ নিয়ে এবং এই মুভিতে একটি গ্রীক মাইথোলজিকে তুলে আনা হয়েছে।যারা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পছন্দ করেন তাদের জন্য দারুণ একটি মুভি।এই মুভির রেটিং কম বোধহয় এজন্য যে অনেকে এন্ডিং টা ঠিক ভাবে বুঝে উঠতে পারেনি কিংবা মুভির থিমটা ধরতে পারেনি।কিন্তু আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এই মুভির কনসেপ্ট সত্যিই অসাধারণ। কি স্পয়লার লিখবো বুঝতে পারছি না।লিখতে গেলে মাথা ঘুরবে।তার চেয়ে Explaination এ চলে যাই।যারা মুভিটি দেখেছেন তারাই শুধু পড়বেন।

 নিজেকে বার বার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে

এই মুভিতে Jess এর বন্দরে যাওয়ার পর থেকে মুভিতে দেখানো এক্সিডেন্টের আগ পর্যন্ত পুরোটাই ছিল মৃত Jess এর আত্মা।বাস্তবের Jess এবং তার ছেলে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়।মারা যাওয়ার পর Jess এর আত্মা তার ছেলের মৃত্যুর জন্য গিলটি ফিল করে।ছেলে বেঁচে থাকতে ছেলের সাথে Jess কতই না খারাপ আচরণ করেছে!তাই Jess এর অতৃপ্ত আত্মা পরকালে না ফিরে গিয়ে বারবার তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যায়।সেজন্য যমরাজ Jess কে শাস্তিস্বরূপ টাইম লুপে ফাঁসিয়ে দেয়।মুভিতে এক্সিডেন্টের পর যে ড্রাইভারকে দেখতে পাওয়া যায় সে প্রতীকী যমরাজ।

sd

তাকে কথা দিয়েছিল ছেলের সাথে দেখা করে ফিরে আসবে।কিন্তু Jess কথা রাখেনি। আবার সমুদ্রে যখন Jess এর বন্ধুদের বুট তলিয়ে যায় তখন সবারই মৃত্যু ঘটে।কিন্তু এরাও Jess এর জন্য Jess এর পাশাপাশি টাইম লুপে চলতে থাকে।Jess এর মৃত্যু সময় ছিল ৮ টার আশে পাশে এবং তার বন্ধুদের মৃত্যুর সময় ছিল ১১ টার আশে-পাশে।তাই ঘড়িতে তারা তাদের সময় দেখেছিল। গ্রীক মাইথোলজি অনুসারে- মুভিতে জাহাজের নাম ছিল AEOLUS.গ্রীক মাইথোলজিতে AEOLUS একজন দেবতা থাকে।তার ছেলে সিসিফাস God of Death কে ধোঁকা দেয় এই বলে যে সে তার বাবার সাথে দেখা করে মৃত্যু পরবর্তী দুনিয়াতে যাবে।কিন্তু সিসিফাস তার কথা রাখেনি।

সেজন্য তাকে God of Death শাস্তিস্বরূপ একটা বিশাল পাথর খন্ডকে পাহাড়ের চূড়ায় তুলতে বলে।কিন্তু সিসিফাস যতবারই পাথরটি পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গেছে ততবারই তা গড়িয়ে নিচে পড়ে গেছে।এভাবে সেই লুপ অনন্তকাল ধরে চলবে যতক্ষণ না সিসিফাস বুঝতে পারবে সে কখনো অমর হতে পারবে না। এখানে মুভিতে সিসিফাস হচ্ছে Jess এবং God of Death হল সেই ড্রাইভারটি। এই মুভি দেখার পর আমার মাথা ঘুরতে আরম্ভ করে।একটার সাথে আরেকটা মিলানো দুরুহ ব্যাপার ছিল আমার পক্ষে।মস্তিষ্ক ঝালাই এর জন্য উৎকৃষ্ট একটা মুভি।”প্রকৃতি বড় অদ্ভুত।

 বুঝতে পারবে সে কখনো অমর হতে পারবে না

কিছু সত্য পরম মমতায় নিজের কাছে লুকিয়ে রাখে। জীবনের খেলাগুলি জটিল অংকের মতো কখনো সমাধান হয় কখনো হয়েও হয় না। ” -মিসির আলী (দেবী) হুমায়ুন আহমেদ স্যারের উপন্যাস অবলম্বনে করা মুভি “দেবী”। সুপারন্যাচারাল থ্রিলার দিয়ে সাজানো গল্প। আমি উপন্যাস টা পড়িনি,, তাই উপন্যাস নিয়ে কিছু বলতেও পারবো না। তবে মুভি দেখে রানু চরিত্রের উপর মায়ায় পড়বে না এমনটা হতে পারে না। এত সুন্দর করে জয়া আহসান ক্যারেক্টার টা প্লে করছে, এক কথায় অসাধারণ।

ভীষণ সুন্দর মায়া মায়া চোখ, ঠোঁট, হাসি, হাত পায়ের চলন, চঞ্চলতা, আদুরে আদুরে ব্যবহার, কথা বলার ভঙ্গি এত সুন্দর বিশেষ করে জয়ার কাজল কালো চোখ। ভীষণ মিষ্টি লাগছিলো। আর চঞ্চল চৌধুরীর কথা তো বলার অপেক্ষা রাখেনা।মিসির আলী ক্যারেক্টার এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলছে,,, অসাধারণ। তবে এতবার সিগারেট খাওয়া ব্যাপার টা খারাপ লাগছে। আমার কাছে মুভির এন্ডিং অস্পষ্ট। তারমানে যদি মিসির আলী ভুল হোন তাহলে সুপারন্যাচারাল ফ্যাক্ট আছে, অর্থাৎ এখানে রানু ঠিক। ভূত আছে মেনে নিতে হয়। আবার যদি রানু ভুল হয় তাহলে মিসির আলী যে যুক্তি গুলো দিয়েছিলো সেগুলো কে সঠিক ধরতে হয়।

তাহলে ভবিষ্যত দেখা ব্যাপার টা?? মানুষের অনেক ধরণের হ্যালুসিনেশন হয়,, ভিজ্যুয়াল, অডিটরি, অলফ্যাক্টরি যার কারণে মানুষ অনেক না দেখা জিনিস দেখছে ভাবে,, কখনো ফুলের গন্ধ আবার কখনো নুপুরের আওয়াজ। কিন্তু মিসির আলীর বলা শেষকথা গুলো আরো বেশী রহস্যের জন্ম দিয়ে গেলো। রানুর দেবী রূপ নিলুর ভিতরে,, আবার কিছুই উন্মোচিত নয়। এটুকু নিয়ে একটু খচখচ ছাড়া পুরো মুভি অসাধারণ লাগছে। বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ডের মিউজিক। কী শীতল শিহরণ জাগানো! ব্যাকসিনগুলো,, মিসির আলীর বাসা, মধুপুর গ্রাম, রানুর খাটের নিচে উল্টে শুয়ে থাকা এই সিনগুলো বেশী সুন্দর। মোটামুটি ভালো লাগছে। উপন্যাস টা পড়ার আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *