স্বর্ণালঙ্কারের মতো ঝকঝকে মিঠে রোদ

শরৎকাল হচ্ছে আমার সবচেয়ে প্রিয় ঋতু। স্বর্ণালঙ্কারের মতো ঝকঝকে মিঠে রোদ, শিউলি ফুলের ঘ্রাণে ছায়া ঘেরা চিলকা বাতাস, দিগন্তজোড়া কাশফুল, মাথার উপর চকচকে নীলাকাশে পেঁজা তুলোর মতো সফেদ মেঘ, সন্ধ্যার পর জোসনা রঙা শাড়ি পড়ে পূর্ণিমায় দৌড়ে চলার মতো ব্যাপারগুলো খুব মিস করি। কারণ এখন শরৎ মানেই ভ্যাপসা গরম। তারপর হঠাৎ করে আততায়ীর মতো ঢুকে পড়ে বর্ষার বৃষ্টি। দিনরাত ঝুরঝুর করে ঝরতে থাকে মুড়ি ভাজার শব্দের মত। শরতের পূর্ণ রূপ আর ফুটে উঠে না। তাই আমার কর্ণিয়া মিস করে শরতের সেই নাতিশীতোষ্ণ সময়।

আততায়ীর মতো ঢুকে পড়ে বর্ষার বৃষ্টি

তাইতো শরত এলেই আমি কুরে কুরে মরে যাই। ভীষণ ডিপ্রেশনে ভুগি। বর্ষাকালে আছি নাকি শরৎকালে আছি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। তাইতো ভিতরে ভিতরে অসুস্থ হয়ে উঠি। অথচ আমার এই মনের অসুস্থতার খবর কেউ জানে না। কারণ মানুষ মনের নয় বাহ্যিক সৌন্দর্যকে পরিমাপ করে মানুষের ভালো থাকা বিচার করে থাকে। (রূপকে মুভির গল্পটা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম) তো এই ভাদ্রের এক বিকেলে একটি মুভির কথা মনে পড়ে গেলো। জাস্ট একটা চমৎকার রিভিউ পড়ে দেখার তালিকায় রেখেছিলাম। তাও সেটা প্রায় এক বছর।

fdhytfdnb

ফেসবুক একাউন্ট খোলার নিয়ম | ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা শিখুন এখানে

ডাউনলোড করা ছিলো। ট্রেইলার দেখার প্রয়োজন বোধ করলাম না। দেখতে শুরু করলাম মুভিটা বলিউডে ভালো অভিনেত্রীর খোঁজখবর রাখলে যে কেউ Konkona Sen Sharma কে চিনতে পারবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সুঅভিনেত্রী কখনো অভিনয়ই করতে চায় নি। মুভি নির্মাণে তার আলাদা একটা ঝোঁক ছিলো সবসময়। নিজে কখনো লেখালেখি করেন নি। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম মুভির গল্প টানা দুই বছর খেটে লিখে ফেলেন। গল্পটি ধার করেছেন তার জন্মদাতা বাবার লেখা ছোট গল্প থেকে। ভদ্রলোক পেশায় সাংবাদিক ও লেখক ছিলেন। ঘটনা তার বাস্তব চোখে দেখা।

এর সাথে নিজের জীবনের আরও সত্য ঘটনাও একসাথে তুলে ধরেছেন। যাইহোক প্রথম কাজ হিসেবে কঙ্কণা একটা চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক গল্প সাজালেন। যে গল্পের শুরু এবং শেষ একই দৃশ্য। মুভির নামটা থ্রিলার জনরার ইঙ্গিত দিলেও আদপে গল্পটা ১৯৭৯সালের ছুটির দিনের এংলো ইন্ডিয়ান পরিবারের গল্প। যেখানে পরিবার কেন্দ্রিক ড্রামাই ফুটে উঠেছে। আবার ঠিক ড্রামাও বলা যায় না। যখন ক্যাসেড প্লেয়ারের যুগ শুরু হচ্ছে। সেই সময়কার ঝাড়খণ্ডের ছুটির অলস দিনগুলো তেঃ হৈ-হুল্লোড়যেখানে পরিবার কেন্দ্রিক ড্রামাই ফুটে উঠেছেযাইহোক।

একটা চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক গল্প সাজালেন

প্ল্যানচেট শীতের রাতে বাইক নিয়ে ঘোরা পরিবারের সবাই মিলে কাবাডি খেলা আমতলায় লাঞ্চ করা এভাবেই পাতাঝরার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শীতের সময়টাকে তুলে ধরার ছলে একটা অপরিণত সেইসাথে অবহেলিত চরিত্র দিয়ে পুরো গল্পের টিউন চেইঞ্জ করে দেয়। সুস্থ মনের সুস্থ পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে। মোটে ১০০স্ক্রীণে রিলিজ পাওয়া এই ইংরেজি-হিন্দি-বাংলা(মূলত ভাষা ইংরেজিই) ভাষার মুভিটি শীতের ঝরাপাতার মতোই চুপচাপ ঝরে গেলেও, ক্রিটিকসরা মুভিটার ভূয়সী প্রশংসা করেন। দেশী-বিদেশী এওয়ার্ডস লুফে নেয়। পরিচালিকা, অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও এওয়ার্ডস বাগিয়ে নেয়।

বলিউডের সব আন্ডাররেটেড বাঘা বাঘা অভিনেতাদের মিলন উৎসব বলা যায় মুভিটিকে। একসাথে Kalki Koechlin, Ranvir Shorey, Tillotama Shome, Gulshan Devaiah, Jim Sarbh, Om Puri, TanujaTanuja যে যার জায়গায় ফাটিয়ে অভিনয় করে। কিন্তু সবার আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন একজন, Vikrant Massey। যাকে আমরা মুভিটা রিলিজের সময় না চিনলেও মির্জাপুরসহ আরও কিছু ওয়েব সিরিজ, দীপিকা-তাপ্সীর মুভিগুলোতে অভিনয় করার মাধ্যমে এখন অনেকেই চিনে। কিন্তু এই মুভি ছিলো ছেলেটার প্রথম লিড ক্যারেক্টারের মুভি। যে মুভিতে একাই সব আলো কেড়ে নিয়েছেন।

অবশ্য পিচ্চি মেয়েটাও অসসাধারণ মুগ্ধকর অভিনয় দিয়েছে। অবশেষে বলা যায় কঙ্কণা তার প্রথম কাজেই নিজের ক্লাস দেখিয়েছেন। সো আপনার হাতে চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক সময় থাকলে মুভিটি দেখতে পারেন……..”মেয়েকে হ’তে হবে ভীত, সন্ত্রস্ত; টিকটিকি দেখেও সে কেঁপে উঠলে সবাই স্বস্তি বোধ করে যে একটি নারীর জন্ম হচ্ছে; সভ্যতা পাচ্ছে একটি বিশুদ্ধ নারী”নতুন মুভি নিয়ে লিখতে গেলে একটা বড় সমস্যা হলো প্রতিদিনই কিছু না কিছু পোস্ট হবেই। আর একই মুভি নিয়ে একই দিনে একাধিক পোস্ট করার মানে নেই। তাই স্বচ্ছ #বৃষ্টি_বিন্দুর জন্য অপেক্ষায় ছিলাম।

 ছেলেটার প্রথম লিড ক্যারেক্টারের মুভি

#সারকথাঃ নারীর যেকোনো কিছু নিষিদ্ধ। তার আন্ডারগার্মেন্টস সবার সামনে কেনা নিষিদ্ধ, সবার সামনে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনা নিষিদ্ধ, উচ্চস্বরে বলা নিষিদ্ধ, অট্টহাসি দেয়া নিষিদ্ধ, তাকে নিয়ে শিল্প নিষিদ্ধ, বই নিষিদ্ধ, এবং খুব অনায়াসে তার জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও তার জন্য নিষিদ্ধ…… তবে আমাদের সমাজে ধর্ষণ নিষিদ্ধ নয়। কারণ এই মহান কর্মটি নারীর নয়, পুরুষের। তবে কথাটা বড় একপেশে হয়ে গেল। কারণ সব পুরুষই ধর্ষক নয়। তাহলে সর্বজন পুরুষ-বিদিত একটা উদাহরণ টানি, নারীর সাজসজ্জাতে কোনো নিষিদ্ধতা নেই কারণ এটা প্রত্যেক পুরুষ চায়।

werhyrdgwe

ভালো-খারাপ পরে বিচার্য, কিন্তু এমনই দেখে অভ্যস্ত আমরা। #মূলকথাঃ আচ্ছা রাস্তায় একজন নারী ড্রাইভিং করতে গেলে, তা দেখে একটা ছেলে গালি দিলে, ছেলেটিকে কেমন ভাববেন? আরও কিছু উদাহরণ দেই, ছেলেটির পাশের বাসার স্বামীহীন নারী, প্রকান্ড গাড়ি কিনলে, তা দেখে ছেলেটি জেলাস হয়ে “কি এমন করে” তাচ্ছিল্যভরে জানতে চাইলে, ছেলেটিকে কেমন মানসিকতার ভাববেন? ছেলেটির বউ ড্রাইভিং শিখতে চাইলে তাকেও তাচ্ছিল্যেভরে পরোটা গোল করার জন্য বললে, কেমন ভাববেন ছেলেটিকে? #আমার_উত্তরঃ স্মার্ট ছেলে।

পরিবারের জন্য বাইরে সারাদিন কতো পরিশ্রম করে!! তার তাচ্ছিল্য তো একটু না, অনেক বেশিই শুনতে হবে। এটাই নিয়ম। এটাই রীতি। এটাই সমাজ। এটাই হাজার বছর ধরে চলে আসছে। সামনেও চলবে।
অনুভব সিনহা ও মৃণ্ময়ী লাগু আমাদের এমন প্রচলিত সমাজটাকে দেখে নবমাশ্চর্য আবিষ্কার করলেন, যার নাম সম্মান। এক বা গুটিকয়েক নারীর জন্য সম্মান। একজন উকিল একজন কাজের বেটি একজন এসিস্ট্যান্ট আর তিনজন গৃহিণীর জন্য সম্মান। সেই তিনজন গৃহিণী আবার পরস্পর বিরোধী। মা চায় সে নিজে যা শিখেছে, তাই মেয়েকে শেখাতে। আরেক মা চান, ছেলের অন্যায় মেনে নিয়ে তার পুত্রবধূকে শেখাতে।

এক বা গুটিকয়েক নারীর জন্য সম্মান

আর মেয়ে বা পুত্রবধূ চায় আমাদের প্রচলিত সমাজকে ভেঙে, দুনিয়াকে শেখাতে তারও জেদ আছে, তারও স্বাধীনতা আছে, তারও জন্ম আছে, তারও মৃত্যু আছে, সে জড় বস্তু নয় তারও ব্যক্তিত্ব আছে, সম্মান আছে। এজন্যই কবি বলেছেনঃবিশ্বে_যা_কিছু_মহান_সৃষ্টি_চির_কল্যাণকর, অর্ধেক_তার_করিয়াছে_নারী_অর্ধেক_তার_নর” –নারী(কবিতা) তাইতো এই মুভির সবচেয়ে স্ট্রং ম্যাসেজ দিয়েছে সেই নারী, যার স্বামী নেই। একটি মাত্র মেয়ে সন্তান আছে। যাকে সেই মা শেখাচ্ছে কিভাবে সমাজে ব্যক্তিত্বের সাথে বেঁচে থাকা যায়। #শেষকথাঃ পরিচালক অনুভব সিনহা প্রকান্ড ফেমিনিজমে যাননি, কিন্তু খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে ফেমিনিজমের শেকড়কে দেখিয়েছেন। মুভির প্রতিটা সিকোয়েন্সে কিছু না কিছু প্রতিকী তুলে ধরেছেন। নিঃসন্দেহে এটা তার সেরা কাজ।

মেসেঞ্জার গ্রুপ খোলার নিয়ম খুব সহজে ও দ্রুত মেসেঞ্জার গ্রুপ তৈরি করুন

ভবিষ্যতে একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে এই কাজটি। অভিনয়ে কাউকে মাইনাস মার্ক দেয়ার প্রশ্নই উঠেনা। লিড ক্যারেক্টার থেকে শুরু করে প্রত্যেকে অসাধারণ পারফর্মেন্স দিয়েছেন। #হুমায়ুন_আজাদের আরেকটি উদ্ধৃতি দিয়ে লেখাটা শেষ করছিঃ “সে হয়ে ওঠে জীবন্ত পুতুল, বাতিল হয়ে যায় তার স্বাধীনতা। সে কোনো কিছু নিজে বোঝার চেষ্টা করবে না, তার হয়ে বুঝবে অন্যরা; সে নিজে কিছু জানতে চাইবে না, তার হয়ে জানবে অন্যরা; সে নিজে কিছু করবে না, তার হয়ে করবে অন্যরা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *